শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:১১

জাহাঙ্গীরনগরের ভিসি মুখ খুললেন ছাত্রলীগ নিয়ে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগরের ভিসি মুখ খুললেন ছাত্রলীগ নিয়ে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়ার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বক্তব্যকে ‘মিথ্যা গল্প’ বলে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। বরং তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তার কাছে ‘চাঁদা’ দাবির অভিযোগ করেন। উপাচার্য তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্তও দাবি করেন। গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপাচার্য এসব অভিযোগ করেন। উপাচার্য বলেন, ‘গত ৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী আমার বাসভবনে আলোচনার জন্য আসেন। আলোচনার একপর্যায়ে তারা উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ৪ থেকে ৬ পার্সেন্ট চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু আমি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করি। আর এতেই শোভন-রাব্বানী হতাশ হয়েছিল। সে কারণেই এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে তারা।’ এ ছাড়া অসুস্থতার কারণে গত মে মাসে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় সেখানে শোভন-রাব্বানী গিয়ে প্রকল্পের ২-৩টি টেন্ডারের শিডিউল দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন উপাচার্য। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে গোলাম রাব্বানী উল্লেখ করেন, ‘উপাচার্য ম্যামের স্বামী ও ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে কাজের ডিলিংস করে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঈদুল আজহার পূর্বে জাবি শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়।’ গোলাম রাব্বানীর এ বক্তব্যের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়, ‘জাবি প্রশাসন শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে গোলাম রাব্বানী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ অসত্য। বরং শোভন ও রাব্বানীর নির্দেশেই শাখা ছাত্রলীগ গত ৮ আগস্ট জাবি উপাচার্যের সঙ্গে তাদের বৈঠকের ব্যবস্থা করে দেয়। সেখানে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে সে সম্পর্কে শাখা ছাত্রলীগ কিছুই জানে না। প্রসঙ্গত, গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘উন্নয়ন প্রকল্পের ২ কোটি টাকা ছাত্রলীগের পকেটে!’ শীর্ষক সংবাদ প্রচারিত হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’র ব্যানারে তিন দফা দাবিতে টানা দুই সপ্তাহ আন্দোলন করেন তারা। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে তিন দফা দাবির দুটি মেনে নেয় প্রশাসন। তবে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের বিষয়ে আইনি যাচাই-বাছাই শেষে আগামী বুধবার আবার বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।


আপনার মন্তব্য