শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:০৫

ক্যাসিনোকাণ্ডের সর্বশেষ

বনানীর আহমেদ টাওয়ারে চলত আরেক ক্যাসিনো

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুধু মতিঝিল বা ফকিরাপুলের ক্লাব পাড়ায় নয়, বনানীর আহমেদ টাওয়ারের গোল্ডেন ঢাকা ক্লাবেও ক্যাসিনো চালু করেন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। অভিজাত এলাকার এ নতা ইসমাইলকে। নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে যুক্ত করেন যুবলীগ নেতা আরমান, মোহাম্মদ মামুন সরকার, শাহাদাত হোসেন সেলিম ও এম কে আলমকে। যুবলীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য জানা গেছে। তারা জানান, মতিঝিলের ছয়টি ক্লাব থেকে সপ্তাহে ৫০-৬০ লাখ টাকা চাঁদা পেতেন সম্রাট। মতিঝিল, ফকিরাপুল ও কাকরাইল এলাকায় ক্যাসিনো ব্যবসা জমে ওঠায় সম্রাট টার্গেট করেন গুলশান, বনানীর মতো অভিজাত এলাকাগুলো। কারণ, তার ওইসব ক্লাবে অভিজাত এলাকাগুলো থেকেই অধিকাংশ মানুষ ক্যাসিনো খেলতে যেতেন। এজন্য তিনি বনানীর আহমেদ টাওয়ারের ২২তলায় অবস্থিত গোল্ডেন ঢাকা ক্লাবটিতে ক্যাসিনো চালুর চিন্তা করেন। সেই অনুযায়ী চাঁদপুরের ব্যবসায়ী আওয়াল পাটোয়ারী ও আবুল কাশেমের চালু করা ক্লাবটি নিজের ক্ষমতায় দখলে নেন। এরপর নেপালি নাগরিক অজয় পাকরালকে দিয়ে ক্লাবটিতে ক্যাসিনো ব্যবসা জমিয়ে তোলেন। আর এটা সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে যুবলীগ নেতা আরমানকে যুক্ত করেন। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক দেখভালের দায়িত্ব দেন সংগঠনটির মহানগর নেতা মোহাম্মদ মামুন সরকার, শাহাদাত হোসেন সেলিম ও এম কে আলমকে। ক্লাবটি যেহেতু উত্তর ঢাকায় অবস্থিত, তাই উত্তরের যুবলীগ নেতা ইসমাইলকে এর অংশীদার করেন। তিনিই মূলত ক্যাসিনো থেকে আয়ের টাকা জায়গামতো পৌঁছে দিতেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্লাবটিতে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেয় র‌্যাব।

সম্রাট ও আরমানকে কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে গত ৬ অক্টোবর গ্রেফতার করে র‌্যাব। মদ্যপ অবস্থায় পাওয়ায় আরমানকে ছয় মাসের কারাদ- দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়, আর সম্রাটের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে নিয়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই দিন দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে অভিযান চালায়। ভবনে থাকা সম্রাটের কার্যালয়ে ক্যাঙারুর চামড়া পাওয়ায় তাকে ছয় মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। কারাগারে থাকা সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। ক্যাসিনো ছাড়াও মতিঝিল ও গুলিস্তানের ফুটপাথ, গুলিস্তানের ছয়টি মার্কেট থেকে তোলা চাঁদার টাকার ভাগ আরমানের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দিতেন সম্রাট। সেসব নামও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন বহিষ্কৃত এ যুবলীগ নেতা। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অন্তত ২৫ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সম্রাট নিয়মিত টাকা দিতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে র‌্যাব।


আপনার মন্তব্য