শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৯

সিটিতে এককভাবে লড়বে জাপা

শফিকুল ইসলাম সোহাগ

সিটিতে এককভাবে লড়বে জাপা

দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে ভোট করলেও আসন্ন ঢাকার দুই সিটিতে এককভাবে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। নিজস্ব ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি। এরশাদের ছোট ভাই পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের প্রতিদিন নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছেন। নানান সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে আগামীতে প্রতিটি নির্বাচনে পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানতে চাইলে জি এম কাদের বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ রয়েছে। মানুষ দুটি দলের বাইরে জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর আজকের যে চিত্র মানুষ দেখছে তার মূল কারিগর ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার হাত ধরেই আজকের ঢাকার এত উন্নয়ন। পল্লীবন্ধু এরশাদ আজ নেই। তার স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে জাতীয় পার্টি দুই সিটিতেই নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে প্রার্থী কে হবেন- তা দলীয় ফোরামে বসে আমরা ঠিক করব।

ঢাকার দুই সিটিতে জানুয়ারিতে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ১৮ নভেম্বরের পর যে কোনো সময় তফসিল ঘোষণা হবে। নির্বাচন কমিশনের এমন ঘোষণার পর থেকেই জমতে শুরু করেছে নগর রাজনীতি। নগরপিতা হতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসছেন। ইতিমধ্যে জাপার সম্ভাব্য মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের তৈরি হওয়ার জন্য দলের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তারা প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। এ ধরনের প্রার্থী দেখা হচ্ছে কাউন্সিলর পদের জন্যও। শিগগিরই জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম এবং সংসদ সদস্যদের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা থেকে প্রার্থীদের নামের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে। এদিকে জনসংযোগের পাশাপাশি শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ থেকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট করেছিলেন। এবারও তিনি প্রার্থী হতে আগ্রহী। জানতে চাইলে সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত সিটি করপোরেশনের ভোটে অংশ নিয়েছিলাম। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আগামীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। তিনি বলেন, মানুষ দুটি দলের রাজনীতির সঙ্গে এইচ এম এরশাদ শাসনামলের তুলনা করে বলছেন, আবারো জাতীয় পার্টির শাসনামলে ফিরতে চান। এ সময় তিনি রাজধানীতে এরশাদ জমানার নানান উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। গত নির্বাচনে দক্ষিণ সিটিতে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটের মাঠে ছিলেন। কিন্তু দলটি উত্তরে কোনো প্রার্থী দেয়নি। এখানে তারা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে আনিসুল হকের মৃত্যুতে উপনির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছিলেন। এবার ছাড় নয় একক নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে দলের হাইকমান্ড। ঢাকা মহানগর উত্তরেও একাধিক প্রার্থী রয়েছে। আনিসুল হকের মৃত্যুতে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে সংগীতশিল্পী শাফিন আহমেদ জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছিলেন। এবার ঢাকা মহানগর উত্তর থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনায় আছেন।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, আমাদের লক্ষ্য এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জোটগত নির্বাচনে অংশ নিলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি বরাবরই নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। ইতিমধ্যে দলের আগ্রহী মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। 

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল তিন সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা উত্তর সিটিতে ২০১৫ সালের ১৪ মে, দক্ষিণ সিটিতে ওই বছরের ১৭ মে এবং চট্টগ্রাম সিটিতে ৬ আগস্ট প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসাবে ঢাকার উত্তর সিটিতে ১৩ মে, দক্ষিণ সিটিতে ১৬ মে এবং চট্টগ্রাম সিটিতে ৫ আগস্ট  মেয়াদ শেষ হবে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


আপনার মন্তব্য