শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:০৭

দিনে সরকারি রাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কাম্য নয় : রাষ্ট্রপতি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

দিনে সরকারি রাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কাম্য নয় : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, এখন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দিনে সরকারি আর রাতে বেসরকারি চরিত্র ধারণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সন্ধ্যায় মেলায় পরিণত হয়। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত সান্ধ্যকোর্সের সমালোচনা করে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ডাকসু নির্বাচন, ডাকসু নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কে উদাসীনতা নিয়ে সমালোচনা করেন রাষ্ট্রপতি। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ইভনিং শিফট আমার ভালো লাগে না। সন্ধ্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পরিবেশ থাকে না। আমি শুনেছি, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে ২২টি কোর্স আছে, প্রতি কোর্স সাড়ে ১০ হাজার করে ২ লাখ টাকার বেশি হয়। এর অর্ধেক পায় বিভাগ, বাকি অর্ধেক পান শিক্ষকরা। বিভাগের টাকা কী হয় জানি না কিন্তু শিক্ষকরা পান। আবার শুধু সিনিয়র শিক্ষকরাই এ ক্লাস নেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ডিপার্টমেন্ট, ইভনিং কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স ও ইনস্টিটিউটের ছড়াছড়ি। নিয়মিত কোর্স ছাড়াও এসব বাণিজ্যিক কোর্সের মাধ্যমে হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে। এসব ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষার্থীরা কতটা লাভবান হচ্ছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন না থাকলেও একশ্রেণির শিক্ষক কিন্তু ঠিকই লাভবান হচ্ছেন। তারা নিয়মিত নগদ সুবিধা পাচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কিছু শিক্ষক আছেন যারা নিয়মিত কোর্সের ব্যাপারে উদাসীন থাকলেও এসব কোর্সের ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস। কারণ এগুলোয় নগদ প্রাপ্তি থাকে। মনে রাখবেন, বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের টাকায় চলে, এর জবাবদিহিও জনগণের কাছে। এতে মেহনতি মানুষের ভাগ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি পয়সার সততার সঙ্গে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব উপাচার্য ও শিক্ষকদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান অভিভাবক ও একাডেমিক লিডার। কিন্তু কোনো কোনো উপাচার্য ও শিক্ষকের কর্মকা- দেখলে মনে হয়, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল কাজ কী তা ভুলে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু জ্ঞান দান করা নয়। বরং অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোই হচ্ছে আসল উদ্দেশ্য। ডাকসু নির্বাচন করায় তিনি উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উপাচার্যের উদ্দেশে বলেন, ডাকসু নির্বাচনের সময় কিছু বিচ্যুতি ও অপ্রীতিকর ঘটনার কথা শুনেছি। আমি আশা করব ভবিষ্যতে যখন নির্বাচন হবে, তা যেন আরও সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়। ডাকসুর নেতৃবৃন্দের সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের সম্পর্কে মাঝে মাঝে এমন কথা শুনি, যা আমার ভালো লাগে না। এর বেশি বলে আমি কাউকে হেয় করতে চাই না। তাদের এমন কিছু করা উচিত, যা ছাত্রদের কল্যাণে লাগে। সেটাই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।


আপনার মন্তব্য