শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪২

বিমান দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ এক কোটি ১৭ লাখ টাকা

৮ম বা উপরের গ্রেডেও কোটা নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিমান দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ এক কোটি ১৭ লাখ টাকা

বিমান পথে দুর্ঘটনায় যাত্রীর মৃত্যু হলে বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে এক কোটি ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৩৪ টাকা ক্ষতিপূরণের বিধান রেখে আকাশপথে পরিবহন (মন্ট্রিল কনভেনশন) আইন ২০২০-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন ২০২০-এর খসড়া, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২০-এর খসড়া এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০২০-এর খসড়া ও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর পাশাপাশি নন-ক্যাডার অষ্টম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বণ্টন পদ্ধতি স্পষ্টীকরণ সংক্রান্ত পরিপত্র সংশোধনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে বিকালে সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আকাশ পরিবহনে দুর্ঘটনার কারণে যাত্রী মৃত্যু বা আঘাতজনিত কারণে আগে ওয়ারশ কনভেনশন (পুরাতন আইন অনুযায়ী) একজন যাত্রী ক্ষতিপূরণ পেতেন মাত্র ২০ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা। নতুন আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে এখন আকাশ পরিবহনে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে যাত্রীর আত্মীয়স্বজন বা আঘাতজনিত কারণে একজন যাত্রী নিজে ক্ষতিপূরণ পাবেন এক লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৪ ইউএস ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় এক কোটি ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৩৪ টাকা। সচিব জানান, যাত্রীর মৃত্যুতে তার সম্পত্তির বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অর্থ ভাগ করে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ পক্ষ বা বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অথবা আদালতের মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পুরনো আইন অনুযায়ী ফ্লাইট বিলম্বের কারণে আগে একজন যাত্রী পেতেন ২০ ইউএস ডলার। নতুন আইনে পাবেন ৫ হাজার ৭৩৪ ইউএস ডলার। ব্যাগেজ বিনষ্ট বা হারানো গেলে সংশ্লিষ্ট যাত্রী প্রতি কেজিতে ক্ষপিূরণ পাবেন এক হাজার ৩৮১ ডলার। যা আগে প্রতি কেজিতে ছিল মাত্র ২০ ইউএস ডলার। আর কার্গো বিনষ্ট বা হারানো গেলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে প্রতি কেজিতে ২৪ ইউএস ডলার। বিদ্যমান আইনে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হচ্ছে প্রতি কেজিতে ২০ ইউএস ডলার। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মন্ত্রিসভা আয়োডিন যুক্ত লবণ আইন ২০২০-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জাতীয় আয়োডিন যুক্ত লবণ কমিটি গঠন, পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন সেল গঠন, লবণ উৎপাদনকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, লবণ চাষিদের মৌসুমের বাইরে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, লবণ তথ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং লবণ গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে।

সচিব জানান, মন্ত্রিসভা নবায়ন আবেদন দাখিলে বিলম্বের জন্য ট্রাভেলস লাইসেন্স বাতিলের পরিবর্তে নির্ধারিত জরিমানা আদায় করে নবায়নের সুযোগ দেওয়া, নির্ধারিত শর্তে ট্রাভেলের মালিকানা হস্তান্তরের সুযোগ সৃষ্টি করাসহ বেশ কয়েকটি বিষয় সংযুক্ত করে বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি আইন ২০২০-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০২০-এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। 

কোটা নিয়ে পরিপত্র সংশোধন : মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মন্ত্রিসভা নন-ক্যাডার ৮ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি স্পষ্টীকরণের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত পরিপত্র সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, নন ক্যাডার ৮ম ও এর উপরের গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি থাকবে না।  মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে নবম থেকে যত উপরের দিকে যাক সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোটা পদ্ধতি থাকবে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর