শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩২

অর্থনীতিতে ভয়ানক বিপদ বাড়াবে করোনাভাইরাস

রুহুল আমিন রাসেল

অর্থনীতিতে ভয়ানক বিপদ বাড়াবে করোনাভাইরাস
ড. আহসান এইচ মনসুর

চীনের করোনাভাইরাস সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভয়ানক বিপদ বাড়বে বলে মনে করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট- পিআরআই নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। খ্যাতনামা এই অর্থনীতিবিদের মতে- আবার সরকারের মেঘা উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে চীনের বিকল্প নেই। আবার চীন থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। এসব পণ্যের দাম বাড়বে। কিন্তু চীনের মতো সস্তায় বিকল্প পণ্যের বাজার খোঁজা কঠিন। সব মিলিয়ে সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় প্রভাব পড়বে। ঘাটতিও বাড়বে।

চীনে চলমান করোনাভাইরাস সমস্যায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন- বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের করোনাভাইরাসের এই সমস্যা স্বল্প সময়ের জন্য হলেই মঙ্গল। কিন্তু এটা দীর্ঘমেয়াদি হলে পুরো বিশ্বই ভয়াবহ সংকটে পড়বে। এই সমস্যা সহজে উত্তরণ সম্ভব হবে না। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত হবে এই সংকটের প্রভাব কতটা কমিয়ে রাখা যায়, তার চেষ্টা করা। 

অভিজ্ঞ এই বাণিজ্য বিশ্লেষকের মতে- করোনাভাইরাসের প্রভাবে বড় সমস্যায় পড়বে দেশের প্রধান রপ্তানিখাত তৈরি পোশাকশিল্প। এই খাতের মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির প্রধান উৎস চীন। এক্ষেত্রে চীনের বিকল্প খোঁজা কঠিন। কারণ- চীনের মতো সস্তায় কেউ আমাদের পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। ফলে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যে অপেক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশি তৈরি পোশাক পণ্যের ক্রেতাদেরও অপেক্ষা করতে হবে। এই অপেক্ষা ক্রেতা করতে রাজি না হলে বিপদ আরও বাড়বে। ফলে পরবর্তী রপ্তানি আদেশ পাওয়াও কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকশিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকার ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নিয়েছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের একটা বড় অংশের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চীন ও সে দেশের নাগরিকরা। এই মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়নেও চীনের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এখন তো চীনারা আসতে পারছে না। তবে তাদের ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রেখে বাংলাদেশে আনা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের এই চেয়ারম্যান বলেন, সব ধরনের পণ্য মিলিয়ে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যও আছে। পণ্যমূল্যও বাড়বে। তাই নিত্যপণ্যের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। প্রয়োজন হলে এখনই দেশীয় কৃষকদের বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে আদা ও রসুন চাষাবাদের উদ্যোগ নিতে হবে। যদিও কাজটা খুব সহজ নয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর