শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মার্চ, ২০২০ ২৩:১৬

দুই চিকিৎসকসহ নতুন আক্রান্ত আরও চার

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই চিকিৎসকসহ নতুন আক্রান্ত আরও চার

দেশে নতুন করে আরও চারজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন নারী, একজন পুরুষ। রয়েছেন দুজন চিকিৎসক। তবে নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা এখনো পাঁচ। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১১ জন। করোনা প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে ৫০ হাজার ৭৩৫ জনকে। কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন হওয়ায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার ৮৯৬ জনকে। তবে এখনো অনেক প্রবাসী দেশে ঢুকলেও নিজ বাড়িতে অবস্থান না করায় তাদের তালিকা ধরে খোঁজা হচ্ছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে দুজন ঢাকার, দুজন ঢাকার বাইরের। চারজনের মধ্যে তিনজন আগে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন। আরেকজন কীভাবে আক্রান্ত হয়েছেন তা এখনো জানা যায়নি। তবে নতুন ও পুরনো আক্রান্তদের অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে পাবনার বেড়া উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে এক তরুণকে গতকাল আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। তিনি ট্রেনে হকারি করতেন। অসুস্থ অবস্থায় শ্বশুরবাড়ি অবস্থান করায় সেই পরিবারের ১৬ সদস্যকেও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া রোগীকে (৪৫) চিকিৎসা দেওয়া ১৬ জন নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীকে হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া দুই ইন্টার্ন চিকিৎসক আবাসিক হলে থাকায় সেখানে অবস্থানরত ৩০ ইন্টার্ন চিকিৎসককেও হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

তালিকা ধরে খোঁজা হচ্ছে বিদেশফেরতদের : করোনা সংক্রমণ রোধে বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে গত তিন মাসে আকাশ ও স্থলপথ দিয়ে দেশে আসা ব্যক্তিদের তালিকা পাঠানো হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। এক্ষেত্রে মার্চে যারা ফিরেছেন তাদের অধিক গুরুত্ব দিয়ে খোঁজা হচ্ছে। তবে অনেককেই বাড়িতে গিয়ে খঁুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এমন বিদেশফেরত ৬০৩ জনকে খুঁজছে প্রশাসন। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে তারা দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে মার্চেই ফিরেছেন ১৬৬ জন। তবে দেশে ফিরে অনেকেই নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন না। তাদের খুঁজে বের করে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে ইউএনও কার্যালয় থেকে পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের তালিকা দেওয়া হয়েছে। নোয়াগ্রামে পাঁচটি বাড়িতে লালপতাকা টাঙ্গিয়ে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনেকে দেশে ঢুকলেও বাড়িতে আসেননি। তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালীতে ভবন ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী : নোয়াখালীর চৌমুহনীতে সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের (২৩) মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আজিজিয়া প্লাজার চতুর্থ তলায় ওই যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়েই ভবনটি কোয়ারেন্টাইন ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভবনটি ঘিরে রেখেছে। জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোমিনুর রহমান জানান, বিষয়টি আইইডিসিআরকে জানানো হয়েছে। লাশের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। লাশ পারিবারিকভাবে দাহ করা হচ্ছে।

শিবপুর থেকে পালিয়ে শ্বশুরবাড়ি, ২০ হাজার টাকা জরিমানা : এদিকে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে লকডাউনে থাকা মাদারীপুরের শিবচর থেকে বাগেরহাটের চিতলমারীতে শ্বশুরবাড়ি পালিয়ে আসা এক জামাইকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আশিকুর রহমান নামের ওই ব্যক্তিসহ তার শ্বশুরবাড়ির সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

জেলায় জেলায় কোয়ারেন্টাইন : রাজশাহীতে ৫১৯ জন বিদেশফেরত ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ১৪ দিন পূর্ণ হওয়ায় ১৯২ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে বিদেশফেরত ১৭৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে আনা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৮৬৩ জন। ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ৬৩৫ জনকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৮৯০ জন। ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ২০০ জনকে। ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় বিদেশফেরত ১২ জনসহ ৪৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে আনা হয়েছে। জেলায় কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৫০ জন। ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ৩৬৫ জনকে। কিশোরগঞ্জে নতুন ৬১ জনসহ কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৩৮৫ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৩ জন। ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ৫১১ জনকে। বরগুনায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৩৯৮ জন। সিরাজগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ২৮৩ জন, ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ২৪৩ জনকে।

নারায়ণগঞ্জে ১ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৯৬৮ জন দেশে ফিরলেও হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২৪০ জন। ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ২০ জনকে। অন্যদের খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর