শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মার্চ, ২০২০ ২৩:৪৭

ব্যাংক খোলা থাকলেও সমস্যার শেষ নেই

আলী রিয়াজ

ব্যাংক খোলা থাকলেও সমস্যার শেষ নেই

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সীমিত আকারে ব্যাংকিং চালু রাখার নির্দেশ থাকলেও সমস্যার শেষ নেই। গ্রাহকরা চাহিদা মতো লেনদেন করতে পারছেন না। শুধু নগদ টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সীমিত আকারে কাজ করছে। অনলাইন সেবা, আন্তব্যাংক ক্লিয়ারিং, ইএফটিএন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। চলতি মাসের বেতন দেওয়ার সময় চলে এসেছে। ক্লিয়ারিং জটিলতা থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের বেতন দিতে পারবে না। এমনকি বিভিন্ন চালান জমা দিলেও ক্লিয়ারিং পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। টাকা তুলতে গেলেও এটিএম বুথ বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তোলার পরামর্শ দিচ্ছে বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংকের শাখা থেকে। তবে সারা দেশে লকডাউন থাকায় বেশির ভাগ মোবাইল ব্যাংকিং বুথ বা দোকান বন্ধ হয়ে আছে। এতে আরেক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীসহ সারা দেশে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দেয়। গত মঙ্গলবার দেওয়া নির্দেশে অনলাইন সুবিধা থাকা ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের লেনদেনের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করে খোলা রাখার কথা বলে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো শুধু নগদ অর্থের লেনদেন করছে। রাজধানীর উত্তরায় সোনালী ব্যাংকের শাখায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য একজন গ্রাহক চালান ফর্ম জমা দেন গত রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায়। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকে চালান জমা দেওয়ার পরদিন দুপুর ১২টার পর পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদনে চালানের তথ্য ও চালান কপি জমা দেওয়া যায়। কিন্তু গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত ওই চালানের বিল ক্লিয়ারিং করা হয়নি। এমন ভোগান্তি সব শাখাতেই রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের শাখায় গেলে গ্রাহকদের বলা হচ্ছে, এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে। সবাইকে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু ব্যাংকের বেশির ভাগ গ্রাহক এটিএম কার্ড ব্যবহার করেন না। এ ছাড়া কয়েকটি ব্যাংকের মোবাইল সার্ভিসের জন্য রাজধানীর কোথাও দোকান খোলা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ফলে টাকা তুলতে পারছেন না গ্রাহকরা। এদিকে গত কয়েকদিন বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস (বিএসিএইচ) বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। মাসের শেষে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান বেতন দিচ্ছে তাদের কর্মীদের। অনলাইন সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ অর্থ সংকটে পড়তে পারে। শাখাগুলোতে ব্যাংকিং সেবা নিতে গেলে গ্রাহকরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছেন। বিএসিএইচ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রাহকদের সুবিধার্থে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে লেনদেন করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত চেক এক ঘণ্টা করে ক্লিয়ারিং করবে বিএসিএইচ। তবে এই সংকটের সময় এটা আরও বেশি করা উচিত বলে মনে করছেন গ্রাহকরা। জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, সংকট সারা দেশেই। আমরা ঝুঁকি নিয়ে ব্যাংকিং করছি। বিএসিএইচ বন্ধ থাকায় কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। সেটা খুলে  দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে ১ ও ২ এপ্রিল বিইএফটিএন চালু থাকবে। বিশিষ্ট ব্যাংকার মো. নুরুল আমিন বলেন, শুধু নগদ জমা উত্তোলন দিলেই ব্যাংকিং সেবা হবে না। ঝুঁকি সবার আছে। সেটা মোকাবিলা করে অনলাইন সেবা চালু রাখা উচিত। সীমিত সময় হলেও এটা করতে হবে। প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহেল আহমেদ বলেন, শাখায় আসা এড়িয়ে গ্রাহকরা যাতে দৈনন্দিন ব্যাংকিং করতে পারেন সেজন্য অ্যাল্টিচিউড- ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কল সেন্টার, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড এবং এটিএম সেবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। প্রাইম ব্যাংক এটিএম  থেকে দৈনিক উত্তোলনসীমা ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রায়োরিটি ব্যাংকিং মোনার্কের গ্রাহকরা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন।


আপনার মন্তব্য