শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুন, ২০২০ ০০:০৬

স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছে কেউ মানছে না

বাসে ভাড়া বেশি যাত্রী কম, লঞ্চে গাদাগাদি, নিয়ম মেনে চলছে ট্রেন ও বিমান, অফিসে ২৫ শতাংশের বেশি কর্মকর্তা থাকতে মানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছে কেউ মানছে না
স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই গতকাল যাত্রাবাড়ীতে বাসে ওঠার ভিড় -বাংলাদেশ প্রতিদিন

দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর গতকাল থেকে শুরু হয়েছে গণপরিবহন চলাচল। সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব পরিবহন পরিচালনার নির্দেশনা থাকলেও তা পুরোপুরি পালন করতে দেখা যায়নি। মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি অর্ধেকের বেশি যাত্রীকে। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি লঞ্চের যাত্রীদের। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি পালন হচ্ছে কি না সেটি দেখার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো মনিটরিং চোখে পড়েনি। সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাসের ভাড়া বেশি আদায় করতে দেখা গেছে সর্বত্রই। তবে যাত্রী ছিল কম। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গতকাল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকে ৭৫টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে ও ভিড়েছে জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, ১০ নম্বর পন্টুনে উপচেপড়া ভিড় হওয়ায় সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না। এখান থেকে হাতিয়া ও বেতুয়ার উদ্দেশে লঞ্চ ছাড়ে। দুপুরে সদরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বিকালের লঞ্চ ধরতে মানুষ দলে দলে টার্মিনালের দিকে হেঁটে চলেছে। তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব দূরে থাক করোনা আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে কোনো বিধিই মানতে দেখা যায়নি। বেশিরভাগেরই মাস্ক থাকলেও সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। প্রয়োজনের তুলনায় লঞ্চ কম হওয়ায় ভিড় বেশি বলেও বলছেন তারা। ১০ নম্বর পন্টুনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের যুগ্মপরিচালক আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘শুধু ১০ নম্বর পন্টুনে যাত্রীদের ভিড় আছে। এখান থেকে হাতিয়া বেতুয়ার লঞ্চ ছাড়ে। আজ (গতকাল) এই দুটো লঞ্চ ৫টা ও সাড়ে ৫টায় ছাড়ার কথা। যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। বাকি পন্টুনগুলোয় স্বাভাবিকের চেয়েও কম যাত্রী আছে। এই লাইনে যে কয়টি লঞ্চ ছাড়ার কথা, তার মধ্যে মাত্র একটি যাবে। ফলে উপচেপড়া ভিড় ঠেকানো যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি মানা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বাকি ঘাটগুলোয় কোনো সমস্যা নেই। ভোর ৭টা থেকে এ পর্যন্ত ৪৮টি লঞ্চ এসেছে। ছেড়ে গেছে ২৭টি। সকালে সরেজমিন সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে গণপরিবহনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার উদ্দেশে বাসে যাত্রীদের উঠতে দেখা গেছে। হেলপাররা আগের মতো জোর করে টেনে টেনে যাত্রী তুলছেন। এ সময় কোনো পরিবহনে জীবাণুনাশক ছিটাতে দেখা যায়নি। তবে পরিবহনগুলো বের হওয়ার আগেই জীবাণুমুক্ত করে রাখা হয়েছে বলে দাবি পরিবহন শ্রমিকদের। জানতে চাইলে বলাকা সার্ভিসের চালকের সহযোগী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘গতকালই আমরা আমাদের সব বাস জীবাণুমুক্ত করেছি। এখনো হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাইনি। তাই সেটা নিয়ে বের হতে পারিনি। তবে যাত্রীদের আমরা ধীরে বাসে উঠাচ্ছি এবং নামাচ্ছি।’ পাশাপাশি দুটি সিটে কাউকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি নিশ্চিত করেন। শাহবাগ এলাকায়ও গণপরিবহন চলতে দেখা গেছে। তবে যাত্রী সংখ্যা কম। এই এলাকার পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষও খুব বেশি পরিবহনে উঠছে না। যাদের একান্ত প্রয়োজন তারাই গণপরিবহন ব্যবহার করছেন। অবশ্য স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি গণপরিবহনে। খিলগাঁও এলাকায় মিডলাইন পরিবহনের চালকের সহযোগীর হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে দেখা গেছে। যাত্রীরা বাসে ওঠার সময় সবার হাতে প্রয়োজন মতো হ্যান্ডস্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। বাসটির ভিতরেও যাত্রীদের আসন ফাঁকা রেখে বসতে দেখা গেছে। তরঙ্গ পরিবহনের যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বনশ্রীতে বোনের বাসা। তিনি খুবই অসুস্থ। তাকে দেখতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বের হয়েছি। বাধ্য হয়েই বাসে উঠেছি। আসলে যেসব স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হয়েছে সেগুলো পুরোপুরি পালন করা হচ্ছে না। যেখানে ঘন ঘন আসনগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করার দরকার সেখানে দিনে একবারও করা হচ্ছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।’ স্বাস্থ্যবিধি মানলেও যাত্রী সংকট আকাশপথে :  কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানলেও আকাশপথে যাত্রী সংকটে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আর এ জন্য বাতিল করা হয়েছে বিমানের দুটি ফ্লাইট। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রায় ৭৫ ভাগ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পৌঁছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস ও নভোএয়ারের দুটি ফ্লাইট।  বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘সোমবার থেকে ফ্লাইট শুরু করেছি। তিনটি রুটে সকাল ও বিকালে দুটি করে ফ্লাইট চলবে।’ তিনি জানান, সকালে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইট আটজন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর যায় এবং সৈয়দপুর থেকে ২০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসে। তবে আজকে ঢাকা থেকে সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটে যাত্রী না হওয়ায় বিমানের কোনো ফ্লাইট সেখানে যায়নি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (পিআর) কামরুল ইসলাম জানান, তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ছয়টি, ঢাকা-সিলেটে একটি ও ঢাকা-সৈয়দপুরে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছেন। এসব রুটে আসা-যাওয়া করবে মোট ২০ ফ্লাইট। ‘বেবিচকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করছি। যদি এক পরিবারের বাচ্চাসহ একাধিক সদস্য থাকেন তাহলে তারা শুধু একসঙ্গে বসতে পারবেন। অন্য যাত্রীদের দূরত্ব বজায় রেখে বসানো হচ্ছে। যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা এবং মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরা নিশ্চিত করে তারপর ফ্লাইটে বসতে দিচ্ছি আমরা,’ বলেন তিনি। নভোএয়ারের সিনিয়র ম্যানেজার (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) এ কে এম মাহফুজুল আলম জানান, তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সৈয়দপুরে তিনটি করে এবং ঢাকা-সিলেটে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করছেন। এসব রুটে থাকবে মোট ১৪ ফ্লাইট। তিনি বলেন, ‘বেবিচকের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করার কথা থাকলে আজকে যাত্রী হয়েছে গড়ে ৫০ শতাংশ। আমাদের প্রতিটি ফ্লাইটে যাত্রী ছিল ৩০-৩২ জন।’ সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটে আসে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ৩৩ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় নভোএয়ার। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এই ফ্লাইটে ৫১ জন যাত্রী নেওয়ার অনুমতি থাকলেও প্রায় ৩৬ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যায় বিমানটি।

এদিকে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে ২৯ জন যাত্রী নিয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস ৫৩৫ ফ্লাইট। পরে ৪০ জন যাত্রী নিয়ে ২টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউএস-বাংলার এই ফ্লাইটে ৫৭ জন যাত্রী নেওয়ার অনুমতি থাকলেও ৪০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যায় উড়োজাহাজটি। সোমবার সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে চারটি ফ্লাইট যাওয়ার কথা থাকলেও যাত্রী সংকটের কারণে সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইট বাতিল হয়। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রথম দিন সিলেটে উড়েছে ফ্লাইটগুলো। এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে যাত্রীদের সরবরাহ করা হয়েছে গ¬াভস, মাস্কসহ সুরক্ষাসামগ্রী। এয়ারলাইনসগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করেছে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর