শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জুন, ২০২০ ০০:১২

আওয়ামী লীগ দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকার দল

রফিকুল ইসলাম রনি

আওয়ামী লীগ দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকার দল
মির্জা আজম

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেছেন, করোনার এই ক্রান্তিকালে বিশ্বের বড় বড় নেতারা যখন সমালোচিত হচ্ছেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস ম্যাগাজিনসহ বিশ্ব মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু করোনাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে        যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করতে আমরা সক্ষম হব। দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকার দলের নামই হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই দলের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুটি লক্ষ্য ছিল। একটি স্বাধীনতা অর্জন, আরেকটি বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত করা। তিনি দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। আর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। মির্জা আজম বলেন, মানবসেবায় প্রধানমন্ত্রী রেডক্রিসেন্ট প্রতিষ্ঠাতা জিন হেনরি ডোনান্টকে ছাড়িয়ে গেছেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে শেখ হাসিনা মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যার জন্য তাঁকে মাদার অব হিউম্যানিটি উপাধি দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের মহামারী থেকে মানুষের জীবন-জীবিকা বাঁচাতে, মানুষকে সুরক্ষা দিতে শুরু থেকেই নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। সর্বস্তরে ত্রাণ সহায়তার জন্য ত্রাণ কমিটিও করা হয়েছে। আমরা তার সৈনিক হিসেবে সবসময় মানুষের পাশে আছি। করোনা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আইলা, সিডর, আম্ফান, বন্যাসহ যে কোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই থাকে। করোনাকালে একমাত্র আওয়ামী লীগই মাঠে আছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশে আমরা শুরু থেকেই মাঠে ছিলাম। আজ পর্যন্ত মানুষের পাশে আছি। মাস্ক, স্যানিটাইজার, পিপিই থেকে শুরু করে খাদ্য সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। নেতা-কর্মীরা গণমানুষের পাশে ছিল বলেই আমাদের অনেক জাতীয় নেতাসহ জেলা-উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। একইভাবে আক্রান্ত হয়েছেন অসংখ্য তৃণমূল নেতা-কর্মী। সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির কতজন নেতা আক্রান্ত হয়েছেন? কতজন মারা গেছেন? এটা দেশবাসীকে দেখতে হবে। সুশীল শ্রেণির সমালোচনা করে সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, আজকে করোনার সংকটকালে সুশীলরা চুপ কেন? তারা কোথায়? কোথায় ত্রাণ দিতে দেখেছেন? মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন? অথচ অন্য সময় সরকারের কোনো কাজের চুন থেকে পান খসলেই সমালোচনায়, টিভি টকশোতে জাতিকে জ্ঞান দিতেন। আজ তারা কোথায়? নাকি হোম আইসোলেশনে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, কী কী ভুল ধরা যায়? এরা বিপদ দেখলে গর্তে ঢুকে যায়। বিপদমুক্ত হলে গর্ত থেকে বের হয়। করোনাকালে সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, আমরা বসে নেই। করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, জনগণের কাছাকাছি থাকা, সাহায্য সহযোগিতা করাও আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ। শুধু সম্মেলন আর কমিটি গঠন নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম হয় না। আওয়ামী লীগ জনগণের দল। সেই জনগণের দুর্দিনে যদি পাশে না থাকি তাহলে রাজনীতি কিসের জন্য? তিনি বলেন, হয়তো জেলা-উপজেলা সম্মেলন করছি না। কিন্তু জনগণের পাশে আছি। সহায়তার হাত বাড়িয়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা করছি। জনগণ না থাকলে রাজনীতি করব কাকে নিয়ে? শতাধিক সরকারদলীয় জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণ চুরির অভিযোগ উঠেছে- বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে জবাবে তিনি বলেন, শতাধিক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, এটা সঠিক। তবে সবাই আওয়ামী লীগের নয়। বিএনপি-জামায়াতসহ অন্য দল বা স্বতন্ত্র ব্যক্তিও আছেন। ঢালাও আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি বলা ঠিক নয়। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের কারা ধরল? সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরেছে, সরকারই বরখাস্ত করেছে। কাজেই জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহিতা আছে বলেই এটা করা সম্ভব হয়েছে। আর আমাদের দলের যারাই সরকারি ত্রাণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়েছেন, দল থেকে তাদের বহিষ্কার করেছি। অন্য দলের যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে? দেখাতে পারবেন? এখানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে অন্য দলের পার্থক্য। করোনার শুরু থেকে অনেক বিত্তশালী এমপি-মন্ত্রীরা মাঠে ছিলেন না- এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, এমপি-মন্ত্রীরা মাঠে ছিলেন না, এমন ঢালাও অভিযোগ সঠিক নয়। অনেক এমপি-মন্ত্রী আছেন যারা বয়স্ক তারা কীভাবে মাঠে যাবেন? আবার মন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ দিক সামলাতে হচ্ছে। তারপরও অনেকেই মাঠে গেছেন। বয়সের কারণে হোক, আর যে কারণেই হোক যারা যেতে পারেননি, তারা প্রতিনিধির মাধ্যমে, দলীয় নেতা-কর্মীদের দিয়ে এলাকায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমাদের কয়েকজন সিনিয়র নেতা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও জনগণকে ত্রাণ দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আমি নিজে আমার এলাকা জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) টানা দুই মাস ছিলাম। এখনো যাওয়া-আসার মধ্যে আছি। তিনি বলেন, মানুষের ভালোবাসায় টানা ছয়বার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। ৫০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা করেছি ব্যক্তিগত অর্থ থেকে। এখনো করে যাচ্ছি। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ধান কাটার সময় কৃষককে ৭টি বড় ও ১২টি ছোট কমবাইন্ড হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করেছি। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য পিপিইসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়েছি। নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করে দিয়েছি। ফলে মানুষকে আর করোনা টেস্টের জন্য অন্য জেলায় যেতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, যেখানে যেতে পারিনি, ফোনে খোঁজ নিয়েছি। এই এলাকার মানুষ আমাকে এত ভালোবাসেন, বারবার নির্বাচিত করে সংসদে পাঠান সে কারণেই তাদের দুর্দিনে টানা এলাকায় থেকে কাজ করছি। মির্জা আজম বলেন, একজন রাজনীতিবিদের মূল শক্তি জনগণের ভালোবাসা পাওয়া। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সেই ভালোবাসা আমি পাচ্ছি। আমার এলাকার মানুষের ভালোবাসার ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারব না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর