শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৪৪

কাটবে পিঁয়াজের বাধা

দিল্লির সম্মতির অপেক্ষায় ঢাকা, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র সচিবের আলোচনা

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

কাটবে পিঁয়াজের বাধা
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মানকী বাজারে গতকাল একটি পিঁয়াজের দোকানে -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বন্দরে আটকে থাকা পিয়াজের ট্রাক ছাড়াতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে-এমন তথ্য দিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের প্রত্যাশা ভারত থেকে পিঁয়াজ রপ্তানিতে যে বাধা সেটি দ্রুত কেটে যাবে। অন্তত এলসি করা পিঁয়াজ ছাড়ে সম্মতি দেবে দিল্লি। ঢাকা এখন সেই সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে।

সূত্র জানায়, দাম নিয়ন্ত্রণে বিকল্প বাজার থেকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পিঁয়াজ আমদানির পাশাপাশি ভারতের বাজারটাও ধরে রাখতে চাইছে সরকার। কারণ ভারতীয় পিঁয়াজের দাম কম এবং দ্রুততম সময়ে, সহজে আমদানি করা যায়। বাংলাদেশে আমদানিকৃত পিঁয়াজের ৯০ শতাংশ আসে পার্শ্ববর্তী দেশটি থেকে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের একটি উৎস দেশের সহযোগিতা জরুরি বলেই মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। যে কারণে ভারতের পিঁয়াজ চাষি ও ব্যবসায়ীরাও চেষ্টা করছেন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বাংলাদেশে পণ্যটি রপ্তানি করতে। এ লক্ষ্যে তারা দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপও তৈরি করছেন। জানা গেছে, এ প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন গতকাল সকালে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দুই সচিবের আলোচনার মর্মার্থ হচ্ছে : বিকল্প বাজার থেকে পিঁয়াজ আমদানি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। পাশাপাশি ভারতীয় পিঁয়াজ ছাড়ে দিল্লির সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে এলসিকৃত যেসব পিঁয়াজের ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরে আটকে আছে সেগুলো ছাড়ে ভারতকে রাজি করানো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে, তাতে খুব দ্রুত পিঁয়াজের বাধা কেটে যাবে বলে আমরা আশা করছি।’ এদিকে বন্দরের পিঁয়াজ ছাড় হতে পারে এমন খবরে এরই মধ্যে দেশের বাজারে পণ্যটির দাম কমতে শুরু করেছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আমদানি ও দেশি পিয়াজ ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ভারতের নিষেধাজ্ঞা জারির পর গত দুই দিনে পণ্যটির দাম ১২০ টাকা কেজি পর্যন্ত ওঠেছিল।

ট্যারিফ কমিশনের ৮ সুপারিশ : পিঁয়াজের উৎপাদন ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, যেখানে ৮টি সুপারিশ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুপারিশ হলো : বাজারে দেশি পিঁয়াজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বৃহত্তর ফরিদপুর, পাবনা, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া এলাকায় নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং পণ্যটি আমদানির বিকল্প উৎস দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য (বাণিজ্য নীতি) শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনী বলেন, পিঁয়াজ আমদানির জন্য ভারতের বিকল্প বাজার হতে পারে মিয়ানমার, মিসর, তুরস্ক, চীন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়া। এসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারকরণের মাধ্যমে আমদানিকারকদের সহায়তা করে পণ্যটি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে টিসিবি, সরকার টু সরকার (জি টু জি)  এবং ব্যবসায়ী টু ব্যবসায়ী (বি টু বি) তিন মাধ্যমেই পণ্যটি আমদানির উদ্যোগ নিতে হবে।

এলসি মার্জিন কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক : বাজারে পিঁয়াজ সংকটের কারণে আমদানির ঋণপত্রে (এলসি) সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া ন্যূনতম টাকা জমা রেখে পিঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খোলার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে।

রবিবার থেকেই ই-কমার্সে পিঁয়াজ বিক্রি : আগামী রবিবার থেকেই ই-কমার্সে টিসিবির পিঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ট্রাকসেল ছাড়াও কীভাবে এই পণ্যটি ভোক্তার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া যায় সে লক্ষ্যে এই অনলাইন বিক্রি কার্যক্রমের মডালিটিজ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া সারা দেশে টিসিবির পিঁয়াজ বিক্রি বাড়াতে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ১০০টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২০ থেকে ২৫টি ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৭টি এবং জেলা ও উপজেলা শহরে ১ থেকে ২টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর