শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০৩

ইউএনও ওয়াহিদা ওএসডি, স্বামী বদলি ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউএনও ওয়াহিদা ওএসডি, স্বামী বদলি ঢাকায়

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) এবং তার স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জের ইউএনও মো. মেজবাউল হোসেনকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে বদলি করা হয়েছে। গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত এক আদেশ জারি করেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওয়াহিদা অসুস্থ এবং হাসপাতালে থাকায় আপাতত তাকে কোনো পদায়ন না করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এভাবেই থাকবেন।      

অন্যদিকে তার স্বামীকে বদলি করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে যেন তিনি সার্বক্ষণিক ওয়াহিদার চিকিৎসার খোঁজ-খবর রাখতে পারেন। প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকায় ইউএনওর সরকারি বাসভবনে ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। হাতুড়ির আঘাতে আহত ইউএনও ওয়াহিদা এবং তার বাবাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইউএনও ওয়াহিদাকে কেবিনে স্থানান্তর : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হয়েছে। তাঁকে অবজারভেশন ইউনিট থেকে  কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন ভালো এবং মাথার একপাশের প্যারালাইজড অবস্থার উন্নতি হয়েছে। গতকাল ওয়াহিদার দায়িত্বরত চিকিৎসক এ কথা জানান। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল হক বলেছেন, তিনি শঙ্কামুক্ত। এত দ্রুত ওয়াহিদার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে, যা সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি বলেন, ওয়াহিদার শরীরের ডান পাশ প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিল। কয়েকদিন আগে আমরা দেখেছি তিনি ডান হাত নাড়াতে পারছেন, মাথার ওপর তুলতে পারছেন। এখন ওয়াহিদা তার ডান পা নাড়াতে পেরেছেন। এটি সত্যিই খুব ভালো খবর। ডা. বদরুল হক জানান, ওয়াহিদার মাথার সব সেলাই কাটা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের স্থানে কোনো সমস্যা নেই। ইউএনও ওয়াহিদার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ডা. বদরুল বলেন, ‘রনার যেহেতু বয়স বেশি, তাই সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি আমরা। এর আগে তার শারীরিক সব পরীক্ষাই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হয়েছে। তারপরও আমরা আবারও তার সব পরীক্ষা করাচ্ছি। তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড আলোচনায় বসবে। সব পরীক্ষার রিপোর্ট বোর্ড পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

ইউএনও ওয়াহিদা ও বাবার ওপর মূল হামলাকারী ছিল মালী রবিউল ইসলাম: পুলিশের সার্বিক তদন্ত, আলামত এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি অনুযায়ী  ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা ও তার বাবার ওপর মূল হামলাকারী ছিল বাড়ির বরখাস্তকৃত মালী রবিউল ইসলাম। পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা-ডিবির তদন্তে এটিই প্রমাণিত- এ হামলার সঙ্গে রবিউল ইসলাম একাই জড়িত ছিল। গতকাল ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার মামলায় আদালতে ২জন সাক্ষীকে হাজির করে কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্যগ্রহণ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এ নিয়ে বিচারকের কাছে ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আজ রবিবার ২য় দফার ৩দিনের রিমান্ড শেষে রবিউল ইসলামকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের জন্য হাজির করা হবে। গতকাল বেলা ১টায় পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, এ চাঞ্চল্যকর মামলার গ্রেফতারকৃত আসামি ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের বরখাস্তকৃত মালী রবিউল ইসলাম রিমান্ডে থাকা অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ওই হামলায় আরও ২জন ছিল। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ওই দুজনকে শনাক্ত করা হয়। তারা হলো- ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর কওমি মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সের মাদ্রাসার ছাত্র মো. অলিউল্লাহ হক এবং ঘোড়াঘাট উপজেলার কুচারপাড়া গ্রামের কবিরাজ মশিউর রহমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ (২৩)।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর