শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৩৫

প্রস্তুত হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

একাংশ খুলবে ২১ সালের ডিসেম্বরে

নিজামুল হক বিপুল

প্রস্তুত হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
রাজধানীর বনানীতে দৃশ্যমান এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অগ্রগতি -রোহেত রাজীব

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ খুলে দেওয়া হবে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৩ সালের জুনে। এখন প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগের কাজ চলছে বিমানবন্দর সংলগ্ন কাওলা থেকে তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত। তৃতীয় ভাগে কাজ হবে তেজগাঁও থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত। যানজটের ধকল থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে রাজধানীজুড়ে মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ইত্যাদি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এরই পর্যায়ে নির্মীয়মাণ প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে এই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। অর্থায়ন করছে ইতাল থাই এবং চাইনিজ কোম্পানি সিনোহাইড্রো ও চায়না সেনডোম। এর মধ্যে ইতাল থাইয়ের মালিকানা ৫১ শতাংশ। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে সিনোহাইড্রো ১৪ শতাংশ এবং চায়না সেনডোমের মালিকানা ৩৫ শতাংশ। ইতিমধ্যে তিন কোম্পানি মিলে চায়না এক্সিম ব্যাংক ও আইসিবিসি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ৮৬১ মিলিয়ন ডলার। টাকার অঙ্কে ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ব্যাংক দুটি ঋণের টাকা ইতিমধ্যে ছাড় করেছে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রথমভাগে কাওলা থেকে বনানী রেলস্টেশন পর্যন্ত ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এই অংশটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে খুলে দেওয়ার চিন্তা ছিল প্রকল্প কর্তৃপক্ষের। কিন্তু স্বল্প দূরত্ব হওয়ায় এই চিন্তা থেকে সরে এসেছে কর্তৃপক্ষ। কাওলা থেকে বনানী রেলগেট পর্যন্ত অংশে ৩৫০টি পিয়ারের মধ্যে ৩৩৩টি পিয়ার নির্মাণের কাজ শেষ। ১৫০টি গার্ডার বসানো হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত মার্চ থেকে প্রায় তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় কাজের গতি কিছুটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু এখন পুরোদমে কাজ শুরু হওয়ায় গার্ডার তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। সামনের তিন মাসে প্রথম ভাগের কাজ অনেকটা দৃশ্যমান হবে।

সূত্র জানায়, কাজে যাতে বিঘœ না ঘটে সে জন্য প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রকৌশলী, শ্রমিক সবার থাকার ব্যবস্থা প্রকল্প এলাকাতেই করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ আবার ছড়িয়ে পড়লে কেউ প্রকল্প এলাকা থেকে বাইরে যেন না যান সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। 

প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম এস আকতার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের ১১ কিলোমিটারের কাজ শেষ হবে। এর পরপরই এই অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা ও নামার ৩১টি র‌্যাম থাকবে। ওঠা যাবে ১৫টি পয়েন্টে আর নামা যাবে ১৬টি পয়েন্টে। মূল এক্সপ্রেসওয়েটি হবে ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। এর বাইরে র‌্যাম হবে ২৭ কিলোমিটার। এক্সপ্রেসওয়ের ওপর মোট ৮টি পয়েন্টে থাকবে ৮টি টোল প্লাজা। নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ হলে নগরীর বিমানবন্দর সংলগ্ন কাওলা থেকে একেবারে কুতুবখালী পর্যন্ত খুব স্বল্প সময়ে পৌঁছা যাবে। সময় এবং খরচ দুটোই সাশ্রয় হবে। এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি চলবে ৮০ কিলোমিটার বেগে। কোনো রকম থ্রি-হুইলার উঠতে পারবে না। যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হলে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট, মগবাজার, পল্টন, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত সড়কের ওপর গাড়ির চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। জনভোগান্তিও কমবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর