শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০৬

কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সংযোগে বাংলাদেশ হতে পারে আদর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সংযোগে বাংলাদেশ হতে পারে আদর্শ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে মোনাজাত করেন -পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব থেকে একটা আদর্শ জায়গা হতে পারে, যদি আমরা একে সেভাবে উন্নত করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্মুখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ম্যুরাল’ ও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরের ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ ‘পর্যটন ভবন’ এবং রাজধানীর গ্রিনরোডে নবনির্মিত ‘পানি ভবনের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। বিমানের নিরাপত্তা এবং সেবা বৃদ্ধিতে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী যথাযথভাবে আইনগুলো প্রণয়ন করে সেই আইনও আমরা পাস করে দিয়েছি যাতে আমাদের বিমান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠাতে পারি। আর অন্য দেশ থেকেও বিমান আসতে পারে। সেদিকেও আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দিতে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে মাটির উপরের পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এ পর্যন্ত অত্যাধুনিক ১৩টি বিমান বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে।  আমরা যখন বোয়িং বিমানগুলো কিনি তখন থেকেই এটা একটা প্রচেষ্টা ছিল যাতে আমেরিকায় আমাদের বিমান নিতে পারি। কারণ, সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি বসবাস করেন। তিনি বলেন, যেখানে বাঙালিরা থাকে (বসবাস করেন) সেখানে ঢাকা থেকে সরাসরি যেন আমাদের বিমান পাঠাতে পারি। ঢাকা থেকে টরেন্টো, নিউইয়র্ক ও টোকিওসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাতে আমরা যেতে পারি সেজন্য কিছু বিমানও আমরা ক্রয় করে ফেলেছি। কাজেই সবার সঙ্গে একটা সমঝোতা করে এই শিল্পটাকে আমাদের আরও উন্নত করতে হবে এবং এই যোগাযোগটাকেও বাড়াতে হবে, সেজন্যই আমরা বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্যক্রম শুরু করলেও পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা আর সেটিকে অব্যাহত রাখেননি। কমিশনবাজি আর নিজেদের পকেট ভারী করাই তাদের উদ্দেশ্য থাকায় বিমানের আর অগ্রগতি হয়নি। তিনি জানান, প্রথমবার ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁর সরকার চট্টগ্রামে বিমানবন্দর তৈরি করে সেটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে। সেই সঙ্গে সিলেট বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করাসহ ঢাকার বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজ থেকে শুরু করে কার পার্কিং নির্মাণ করে। ’৯৬ সালে বিমানবন্দরে কোনো বোর্ডিং ব্রিজ না থাকায় সেসময় বিমানে পায়ে হেঁটে গিয়ে চড়তে হতো। শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের বিমান এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের কথা তুলে বলেন, ‘সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার এবং সিলেট, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আরও উন্নত করার প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। যাতে নেপাল, ভুটান এবং ভারতসহ পার্শ^বর্তী দেশগুলো ব্যবহার করতে পারে এবং পর্যটনের একটা বিশাল সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়।’ একই সঙ্গে বরিশাল বিমানবন্দরসহ অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানবন্দরগুলোও নতুন করে চালু করা হয়েছে। এভাবেই নৌপথ, সড়কপথ, রেলপথ এবং আকাশপথে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে তাঁর সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা যত সহজ হবে তত দেশের অর্থনীতি গতিশীলতা পাবে, উন্নত হবে। পাশাপাশি মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন নতুন রেলপথ সৃষ্টি ও সংস্কার এবং রেলের সংখ্যা বৃদ্ধি ও রেলপথের উন্নয়নের মাধ্যমেও দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করছে তাঁর সরকার। তিনি বলেন, জেট ফুয়েল যাতে সরাসরি হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আসতে পারে সেজন্য পাইপলাইন নির্মাণের কাজ এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজও সরকার শুরু করেছে।

পানি ভবনের উদ্বোধন : রাজধানীর গ্রিনরোডে প্রায় ২৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলা-বিশিষ্ট নবনির্মিত ‘পানি ভবনের’ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভবনের যখন নামকরণ করি তখন বলেছিলাম পানি ভবনে যেন পানি থাকে, জলাধার থাকে এবং মূল পরিকল্পনা ও নকশাটি সেভাবেই করা হয়েছে। তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন জলাধার সৃষ্টি এবং বিদ্যমান জলাধারগুলোতে পানির ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পূর্ববর্তী সামরিক সরকারগুলো দেশের জলাধার ধ্বংস করেছে। বর্তমান পানি ভবনের কাছে পান্থপথে একসময় বিরাট বিল থাকলেও সেখানে কোনো জলাধার না রেখে বক্স কালভার্ট করারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, সারা দেশে যত খাল, বিল, হাওর, পুকুর, নদী যা আছে সবগুলোর যাতে নাব্যতা থাকে, সেগুলো খনন করে পানির ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে। এতে আমাদের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মৎস্য উৎপাদনও বাড়বে। সঙ্গে মানুষের চহিদাটাও আমরা পূরণ করতে পারব। অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন মন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বিমান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার যথাক্রমে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গ্রিন রোডে নবনির্মিত পানি ভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হন এবং বক্তৃতা করেন। এ ছাড়া ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এবং পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম পানি ভবন থেকে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

নারীর অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশে উন্নীতের অঙ্গীকার : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সাল নাগাদ কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ৫০-৫০-এ উন্নীত করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি কভিড-১৯ মহামারীর প্রেক্ষাপটে তাদের চাকরি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নারীর সমতা, ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার নবায়ন ও প্রচেষ্টা জোরদারেরও আহ্বান জানান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে উচ্চ পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনটি বিষয় তুলে ধরতে গিয়ে তিনি গতকাল এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯-এর প্রেক্ষাপটে বিশ্ব সরবরাহ চেইনসহ অন্যান্য বৃহৎ কর্মক্ষেত্রে অভিবাসী শ্রমিকসহ নারী কর্মীদের অবশ্যই রক্ষা করতে হবে, যেন তারা আবারও প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম বার্ষিক অধিবেশনের ফাঁকে ফোর্থ ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অন উইমেনের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর