শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:০৮

গোল্ড মনিরের ভয়াবহ জালজালিয়াতি

সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদকের নোটিস

নিজস্ব প্রতিবেদক

গোল্ড মনিরের ভয়াবহ জালজালিয়াতি

জিজ্ঞাসাবাদে গোল্ড মনিরের মুখ থেকে একে একে বেরিয়ে আসছে জালজালিয়াতির চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় তিনি কোটি কোটি টাকার দুই শতাধিক প্লট এবং শুল্কমুক্ত গাড়ি হাতিয়ে নিয়েছেন, এর সবকিছু জানিয়েছেন। দখল করা বেশির ভাগ প্লট তিনি প্রবাসী কোনো ব্যক্তির নামে বরাদ্দ নিতেন, এরপর স্বাক্ষর জাল করে নিজের দখলে নিয়ে নিতেন। এরই মধ্যে তার দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য জানতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির কর্মকর্তারা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদের দ্বিতীয় দিন গোল্ড মনির দাবি করেছেন, সাবেক ও বর্তমান দুজন এমপির নামে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা বিলাসবহুল দুটি গাড়ি তিনি কিনে নিয়েছিলেন। দুই কোটি টাকা দরে গাড়ি দুটি তিনি নেন। অলিখিত চুক্তিতে গাড়ি দুটি পাঁচ বছর পর নিজের নামে নিবন্ধন করার কথা ছিল।

ডিবি সূত্র জানায়, রাজউকের পূর্বাচল, বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জে গোল্ড মনিরের দখলে থাকা ২০২টি প্লট তিনি প্রথমে অপরিচিত কিংবা বিদেশে অবস্থান করছেন এমন ব্যক্তির নামে বরাদ্দ করিয়ে নিতেন। এরপর সেগুলো ওই ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে নিজের কাছে স্থানান্তর করতেন। সবকিছুই করতেন রাজউকের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে। ১৫ বছর ধরে তিনি রাজউকের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নিচে কারও সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতেন না। তার সব সম্পর্ক ছিল শীর্ষপর্যায়ে। এ ছাড়া হুন্ডির মাধ্যমে দুবাই, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে তিনি টাকা পাচার করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, রাজউকের একটি প্লট একজনের বেশি কেউ পাবে না। কিন্তু গোল্ড মনির নানাভাবে কর্মকর্তাদের হাত করে জালজালিয়াতি করে অনেক প্লট হাতিয়ে নিয়েছেন। তার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম একে একে বেরিয়ে আসছে।

এদিকে গোল্ড মনিরের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নোটিস পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে সম্পদবিবরণী দাখিল করতে বলা হয়েছে। মনির ও তার স্ত্রী রওশন আক্তারের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে গতকাল তাদের নোটিস পাঠানো হয় বলে কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন। দুদক পরিচালক আকতার হোসেন আজাদের স্বাক্ষরে পাঠানো নোটিসে তাদের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে/বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদবিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দিলে দুদক আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে নোটিসে। এ ছাড়া আট বছর আগে ২০১২ সালে মনিরের অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার সম্পদ মা ও স্ত্রীর নামে দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলাও করেছে দুদক। এ মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। দুদকের পাঠানো নোটিসে বলা হয়, মনিরের ২০০৯ সালের ১৮ জুনের পর থেকে অর্জিত সম্পদের হিসাব দিতে হবে। পাশাপাশি তার স্ত্রীর ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবরের পর থেকে সম্পদের হিসাববিবরণী জমা দিতে বলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় তাদের সম্পদবিবরণী নোটিস ইস্যু করেছে দুদক। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনিরের নামে ৬১০ কোটি এবং তার স্ত্রীর নামে সাড়ে ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা জানা গেছে। অথচ মনিরের স্ত্রী রওশন আক্তার একজন গৃহিণী। কিন্তু তার এসব সম্পদ অর্জনের কোনো বৈধ উৎস পায়নি সংস্থাটি। ২১ নভেম্বর নিজ বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মনির হোসেন ওরফে গোল্ড মনিরকে গ্রেফতার করার কথা জানায় র‌্যাব।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর