শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:২৬

ফেব্রুয়ারিতে টিকা পাওয়ার আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারিতে টিকা পাওয়ার আশা

আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান। বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে গতকাল এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের টিকার বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা হচ্ছে। যে টিকাই আগে আসবে, সেটাই আনার চেষ্টা করা হবে। ফেব্রুয়ারিতেই ভ্যাকসিন পাব আশা করি। তবে তার চেয়ে বেশি দরকার স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।’

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের ৩ কোটি ডোজ সংগ্রহের জন্য গত ৫ নভেম্বর সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সঙ্গে সরকার চুক্তি করেছে। টিকা কেনার জন্য ১৬ নভেম্বর অর্থ বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। মহামারী মোকাবিলায় যারা সামনে থেকে কাজ করছেন তাদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

টিকা পাওয়ার অগ্রাধিকারে গণমাধ্যমকর্মীদেরও রাখা হয়েছে বলে জানিয়ে সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ‘সাংবাদিকরা কভিড-১৯ মহামারিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। এ কারণে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’ ৩ কোটি ডোজ টিকা বিনামূল্যে দেবে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মা, শিশু ও কৈশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘যারা আগে জাতীয় ভ্যাকসিন বিতরণ পরিকল্পনা জমা দেবে তারাই আগে ভ্যাকসিন পাবে। গ্যাভি যখন থেকে পরিকল্পনা জমা নেওয়া শুরু করবে, আশা করছি আমরা প্রথম দিনই আমাদের পরিকল্পনা জমা দিতে পারব।’

তিনি জানান, গত জুলাই মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ কোভ্যাক্সে আবেদন করে এবং গ্যাভি সেটি গ্রহণ করে গত ১৪ জুলাই। বাংলাদেশ গ্যাভির কাছ থেকে ৬৮ মিলিয়ন বা ছয় কোটি ৮০ লাখ ভ্যাকসিন পাবে (দুই ডোজ) ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য। সে হিসাবে প্রথমে ৩৪ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য প্রথম ধাপে করোনার ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ। তবে গ্যাভি এটা বিনা পয়সায় দেবে না। এ জন্য কো ফিন্যান্সিংয়ে যেতে হবে সরকারকে। এটা ১ দশমিক ৬ থেকে ২ ডলারের মধ্যে কিনতে পারব। আর বাংলাদেশ এ নিয়ে কাজ করছে।

এ মুহূর্তে ভ্যাকসিনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে বায়োএনটেক ফাইজার ও মডার্নার ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করতে হবে মাইনাস ৭০-৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। কিন্তু কোল্ড চেইন ব্যবস্থা না থাকায় ফাইজার ও মডার্নার সঙ্গে বাংলাদেশ কোনো চুক্তি করেনি। যদিও ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় টেকনিক্যালি অ্যাডভাইজরি কমিটির ১৯তম সভায় গ্যাভির ভ্যাকসিন পেতে বেশ দেরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সেই সময় কমিটি কোনো একটি ভ্যাকসিনের জন্য কাজ না করে একাধিক উৎসের সঙ্গে যোগাযোগ ও ভ্যাকসিন সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য বলেছিল। যেসব ভ্যাকসিনের জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার কোল্ড চেইনের ব্যবস্থা নেই তার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর