শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ডিসেম্বর, ২০২০ ২২:৫০

টালমাটাল বিশ্ববাজার

দ্রুত ওঠানামা করছে অপরিশোধিত তেল খাদ্যপণ্য সোনা ও শেয়ারবাজার উৎকণ্ঠায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

মানিক মুনতাসির

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ বাড়ায় বিশ্ববাজারে টালমাটাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্বে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, চিনি,  সোনা, গমসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজার ও শেয়ারবাজারে দাম দ্রুত ওঠানামা করছে। গতকালও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। ইউরোপের প্রায় সব শেয়ারবাজারে গতকাল ছিল নিম্নমুখী প্রবণতা। কোথাও কোথাও বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। অথচ কয়েক দিন আগেও এসব দেশের শেয়ারবাজারে ছিল ঊর্ধ্বমুখিতা। গম, চিনি ও সোনার বাজারেও লেগে আছে অস্থিরতা। ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশ আবার নতুন করে      লকডাউনে চলে যাচ্ছে। এসব দেশসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে আবারও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের কথা ভাবছে। ফলে টালমাটাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে বিশ্ববাজারে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত ওঠানামা করছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গতকালও ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে প্রায় ৪ শতাংশ কমে গেছে। আবার মালয়েশিয়ান ওপেক বাস্কেটের অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সৌদি আরবেও জ্বালানি তেলের দাম গতকাল প্রায় ১ শতাংশ কমে গেছে। বিশ্বব্যাপী গ্রহণীয় ও জনপ্রিয় ওয়েবসাইট অয়েল প্রাইসডটকম, ইন্টারন্যাশনাল সুগার অর্গানাইজেশন, ইনডেক্স মুডিডটকমসহ আরও অনেক অনলাইন প্লাটফর্ম ঘেঁটে বিশ্ববাজার সম্পর্কে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সর্বত্রই অস্থিরতা বিরাজ করছে। দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ দ্রুত হারে বাড়তে শুরু করায় ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশ লকডাউনে চলে গেছে। প্রথম দফায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু রাখতে পারলেও দ্বিতীয় দফায় তা পেরে উঠছে না দেশগুলো। ফলে অনেক দেশই ইতিমধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে বিশ্ববাজারে সোনার দামও দ্রুত ওঠানামা করছে। গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ১ শতাংশ পড়ে যায়। তবে বাংলাদেশে সোনার দাম গত এক মাসে দুই দফা বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিকভাবে ফ্লাইট চলাচল কমে গেছে করোনাভাইরাসের প্রভাবে। এ ছাড়া পৃথিবীতে মানুষের প্রায় সব ধরনের চাহিদা নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে। এদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান খাদ্যপণ্য হিসেবে গমের বাজারেও বিরাজ করছে অস্থিরতা। ফলে গম থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাদ্য, শিশুখাদ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। গতকালও আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে গেছে।

বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দামও দ্রুত ওঠানামা করছে। গতকালও সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এর ঠিক বিপরীত প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে। শীত ও করোনা সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে প্রায় সব ধরনের সয়াবিন তেলের দাম তিন সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী। অবশ্য এর জন্য শীতকালের পরিবেশগত কারণই দায়ী বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

তবে বিশ্ববাজারে সাদা চিনির দাম খুব একটা ওঠানামা করেনি। এ পণ্যটির দাম প্রায় স্বাভাবিকই রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল সুগার অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে সাদা চিনির দামে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও চিনির বাজারে অস্থিরতা নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেননা যে হারে লকডাউন শুরু হয়েছে, তাতে কভিডের প্রথম ঢেউয়ের সময়ের মতোই নাজুক পরিস্থিতি নেমে আসতে পারে শিগগিরই।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ করেছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। এ প্রতিষ্ঠানটি ক্যালিফোর্নিয়া ও লন্ডনে বিক্রয়কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে করোনার সংক্রমণের শুরুতে বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে সেগুলো আবার খুলে দিয়েছিল তারা।

শনিবার অ্যাপলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ৫৩টি ও যুক্তরাজ্যে ১৬টি বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এবং যুক্তরাজ্যে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপের কারণে সাময়িক সময়ের জন্য এসব স্টোর বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে অ্যাপলের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা যেসব স্থানে সেবা দিচ্ছি সেখানকার কিছু কমিউনিটিতে কভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে সাময়িক সময়ের জন্য আমাদের বিক্রয়কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই এ পদক্ষেপ নিয়েছি।’

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শনিবার কার্যকর লকডাউন জারি করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ইংল্যান্ডের প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ লকডাউনের আওতায় থাকছে বলে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে নতুন করে চার মাত্রার লকডাউন জারি থাকবে এবং ওই এলাকার লোকজনকে বাড়িতেই অবস্থান করতে হবে। তবে প্রয়োজনীয় কাজে তারা বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাবেন বলে জানানো হয়েছে। এদিকে গত সপ্তাহেও মার্কিন অর্থনীতি চাঙা করতে স্টিমুলাস প্যাকেজ নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি এবং করোনার টিকা বিষয়ক দুটি খবরে বিশ্ব শেয়ারবাজারে চাঙা ভাব দেখা দেয়। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেও সব দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। ইউরোপ-আমেরিকার শেয়ারবাজারে আবারও ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গেছে, গত সপ্তাহে টোকিও, হংকং, সিডনি, সৌল, মুম্বাই, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের শেয়ারবাজারগুলোতে সূচকে ছিল চাঙা ভাব। কিন্তু সপ্তাহের ব্যবধানে করোনার সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। গতকাল এসব শেয়ারবাজারে বেশির ভাগ কোম্পানিই দর হারিয়েছে। ফলে প্রধান সূচকগুলো নেতিবাচক অবস্থানে চলে গেছে।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর