শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০৯

প্রয়োজন বুঝে সবার টিকা নেওয়া উচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রয়োজন বুঝে সবার টিকা নেওয়া উচিত

প্রয়োজন বুঝে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন সবাইকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘আমরা যদি সবাই টিকা নিয়ে নিই, তাহলে কারও মধ্যে ছড়াতে পারবে না। সে জন্য আমি অনুরোধ করব, আপনারা সবাই মেহেরবানি করে টিকা নেবেন, সবাই টিকা নিয়ে নিন। সব দেশেই টিকা নিচ্ছে। সারা বিশ্ব টিকা নিচ্ছে। আমরা নেব না কেন? প্রয়োজন বুঝে সবাই টিকা নিন।’ গতকাল বিকালে অনলাইনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ভ্যাকসিন নিয়েছেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গতকাল টিকা নিয়েছি। শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভারে ভ্যাকসিন নিয়েছি। তবে কোনো সাইড ইফেক্ট হয়নি। কোনো কিছুই দেখিনি আমি। কোনো অসুবিধা হয়নি। ছোটবেলায় যখন স্কুলে পড়তাম টিকা নিয়েছিলাম। সে সময় জ্বর আসত। তবে এ টিকা নেওয়ার পর ব্যথাও হয়নি, জ্বরও আসেনি। সবাই মেহেরবানি করে টিকা নেবেন।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে এখন চিন্তা করে, আমার দরকার নেই, আমি কখনো করোনায় আক্রান্ত হব না। সুতরাং আমার টিকা নেওয়ার দরকার নেই। আমি মনে করি যে টিকা নিলাম এর ফলে আমার উপকার হবে আশা করি। ঠিক তেমনিভাবে আমি প্রত্যাশা করি, আমার এ টিকা নেওয়ার কারণে আমি অন্য কাউকে আক্রান্ত করব না। কারণ ভাইরাসটি মানুষ দ্বারা একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো সবাইকে বোঝানো এটা নেওয়া প্রায়োজন। এটার প্রয়োজনীয়তা যখন তারা বুঝবে সবাই নিশ্চয়ই টিকা নিতে আসবে।

সুতরাং এটা আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে তারা আরও ভালো বুঝতে পারবে। সে জন্য আমাদের টিকা নিয়ে বোঝাতে হবে। সবাইকে বোঝাতে হবে টিকাটা নেওয়া উচিত।’ ভার্চুয়াল থেকে সরাসরি কবে মিটিং শুরু হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই সবাই যদি টিকা নেন, আমার সঙ্গে যারা থাকেন টিকা নিলে আমরা সরাসরি কাজ করব।’

চাল আমদানির বিষয়গুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে চাল আমদানি হবে। ওই প্রস্তাব আগামী সপ্তাহে নিয়ে আসবে। আইনি সক্ষমতার কিছু ঘাটতি ছিল। সেখানে আইনে বলা আছে যে টেন্ডারের বাইরে কম সময় দিয়ে কোনো জিনিস কিনতে পারব না। এটা ছিল অভ্যন্তরীণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে, এটা আসবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে। আমরা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগকে (আইএমইডি) বলে দিয়েছি তাদের বিধিতে সংশোধন আনার জন্য। বিধিতে সংশোধনটি এলে আমরা এ কাজটি করতে পারব। আন্তর্জাতিক টেন্ডার করার পর ৪০ থেকে ৪২ দিন অপেক্ষা করার কথা বলা ছিল। কিন্তু কিছু পণ্য আছে, যেমন পিঁয়াজ, চাল, তেল এ-জাতীয় জিনিস আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিনই বাড়ে-কমে। সেখানে এত লম্বা সময় কোনো টেন্ডার অপেক্ষা করে না। প্রাইস অ্যাকটিভ রাখার জন্য যে সময়টা যথাযথ মনে করি, তা হচ্ছে ম্যাক্সিমাম ওয়ান উইক। উইদিন দিস টাইম তারা প্রাইস জানাবে। আমরা আমাদের দিক থেকে প্রকিউরমেন্টের যেসব নিয়ম-কানুন আছে সেগুলো ফলো করব। এলসি খুলব, আরও যা যা দরকার সেগুলো করব, যাতে তারা এগুলো দেখে হাতে নিয়ে তারপর শিপমেন্ট করতে পারে।’ তিনি বলেন, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) আইন ও বিধি সংশোধন সাপেক্ষে দরপ্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ড্রোন শো, এরিয়াল শো ও ফায়ারওয়ার্কস শো করবে সরকার। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বর্ণাঢ্য ও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে উদ্্যাপন উপলক্ষে ড্রোন শো, এরিয়াল শো ও ফায়ারওয়ার্কস শো অনুষ্ঠান করবে সরকার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গতকাল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ণাঢ্য ও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে উদ্্যাপন উপলক্ষে ড্রোন শো, এরিয়াল শো ও ফায়ারওয়ার্কস শো অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিএমপি) অনুসরণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবের বিস্তারিত তুলে ধরে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশবাসীকে সম্পৃক্ত করে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান উদ্্যাপিত হবে। সেখানে রোড শো, এরিয়াল শো, ড্রোন শো, এ-জাতীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে আমরা যে অর্জনগুলো করেছি সেগুলো উপস্থাপন করতে চাই। এগুলো যদি অফিসে বসে করি তাহলে দেশবাসী জানতে পারে না। তাদের জানান দেওয়ার জন্যই আমরা এ কাজগুলো করতে চাই। মনোমুগ্ধকর একটা পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই ওই শো উপভোগ করবে। তিনি বলেন, ফায়ার ওয়ার্কসের কত টাকা তা আগামী মিটিংয়ে বলা যাবে। মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া গেছে। আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা প্রকল্পটি রান করব।’


আপনার মন্তব্য