শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩২

জঙ্গিবাদ উত্থানের শঙ্কা না থাকলেও আত্মতুষ্টির কারণ নেই

---- অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান

নাসিমুল হুদা

জঙ্গিবাদ উত্থানের শঙ্কা না থাকলেও আত্মতুষ্টির কারণ নেই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, রায়ের জন্য প্রত্যাশা তো ছিলই, সেই রায় হয়েছে। জঙ্গিবাদ দমনের ক্ষেত্রে সরকারের ইন্টেলিজেন্স, পুলিশ, র‌্যাব ভালোই দক্ষতা দেখিয়েছে। বেশ কয়েকটি জঙ্গিবাদী হত্যাকান্ডের বিচার ও রায় যাতে কার্যকর হয়, সেই প্রত্যাশা ছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের কোনো আশঙ্কা নেই। এতে আত্মতুষ্ট বা সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ জঙ্গিবাদের সমস্যা শুধু বাংলাদেশের না, সারা বিশ্বের। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে কাজ করে। তাই সতর্ক থাকা খুব দরকার। জঙ্গিবাদ একটা আদর্শ এবং জঙ্গিরা সেটা ধারণ করে। তা আমাদের আদর্শিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। জঙ্গিরা তো জীবন বাজি রেখে লড়াই করে। তাদের যদি আমরা মোকাবিলা করতে চাই, তাহলে আমাদের পাল্টা আদর্শই লাগবে। তাদের বোঝাতে হবে, জঙ্গিবাদ ভুল পথ। পুলিশ বা অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ঘেরাও করে মেরে ফেলল, সেটাই সমাধান না। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শিক্ষা সমাজ সংস্কৃতি, পুরো সমাজের ভিতরে যতগুলো প্রতিষ্ঠান, সেটা বুঝে আমরা আমাদের পরিবার সমাজ সংস্কৃতিকে এমনভাবে গড়ে তুলতে পারি, যেন জঙ্গিবাদ কারও মনে স্থান না নেয়।  প্রতিটি মানুষের প্রকৃত শিক্ষা দরকার। যাতে সে খাঁটি মানুষ হতে পারে। তার মধ্যে যদি কোনো কূপ-ূকতা থাকে, বদ্ধতা থাকে, তাহলে সে চরমপন্থি হয়ে যেতে পারে। সেটা ধর্মীয়, জাতীয়তাবাদী বা নৃতাত্ত্বিক চরমপন্থি হতে পারে। দেশে আলিয়া ও কওমি মাদরাসা মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৩ লাখ। এরকম একটা বিশাল শিক্ষার্থীর সিলেবাস যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানভিত্তিক করা দরকার। এখন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়াও চরমপন্থা বা জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হয়েছে। হোলি আর্টিজানের ঘটনার পর সেটা সামনে এসেছে। ধর্মের যে মানবিক দিক আছে, সেটার শিক্ষা যেন মানুষ পায়। তারা যেন চরমপন্থি শিক্ষা পেয়ে জঙ্গিবাদে জড়িত না হয়।

এই বিভাগের আরও খবর