শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩৩

চিরনিদ্রায় শায়িত এইচ টি ইমাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিরনিদ্রায় শায়িত এইচ টি ইমাম

হাজার হাজার মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন তৌফিক ইমাম (এইচ টি ইমাম)। গতকাল সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও ঢাকায় দুই দফা নামাজে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই রাজনৈতিক উপদেষ্টাকে। দুপুর দেড়টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবর্গ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেশাজীবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান কৃতী এ মানুষকে। বুধবার রাত সোয়া ১টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি পুত্র উল্লাপাড়ার এমপি তানভীর ইমাম, দুই কন্যা, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সোনাতলা তফসিল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। দুপুর ১২টায় উল্লাপাড়া আকবর আলী সরকারি কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উল্লাপাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সর্বস্তরের মানুষ তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রথম জানাজা শেষে হেলিকপ্টারযোগে তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। বেলা দেড়টা থেকে বিকাল সোয়া ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে রাখা হয় এইচ টি ইমামের মরদেহ। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় সেখানে নাগরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন রাজনীতিবিদ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেশাজীবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ। শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি শোক বইয়ে এইচ টি ইমামের কর্মময় জীবন সম্পর্কে অভিব্যক্তি লিপিবদ্ধ করেন অনেকে।  শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এইচ টি ইমামের প্রতি। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার পক্ষে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম প্রমুখ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান প্রমুখ। এ ছাড়া শ্রদ্ধা জানান জাসদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টি বোর্ড, কৃষক লীগ, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার কমিটি, ঢাকাস্থ সিরাজগঞ্জ সাংবাদিক সমিতি, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, পূজা উদযাপন পরিষদ, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি, বাংলা একাডেমি, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, ঢাকাস্থ সিরাজগঞ্জ সমিতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ ছাড়াও বিসিএসের বিভিন্ন ব্যাচের ক্যাডার কর্মকর্তারা। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ১ মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এইচ টি ইমামের নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি। বিকাল ৪টায় গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ও সাবেক সচিব, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের সহযোদ্ধা-সহকর্মী, ঢাকায় বসবাসরত সিরাজগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ নামাজে জানাজায় অংশ নেন। জানাজার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন মরহুম এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম এমপি। তিনি বাবার পক্ষে সবার কাছে ক্ষমা ও দোয়া চান। পরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। এইচ টি ইমামের ছেলে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এমপি তানভীর ইমাম তার বাবার জীবনের শেষ দিনগুলো সম্পর্কে জানান, ‘বাবা যখন অসুস্থ, তখন তাঁর কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। কথা বলা বন্ধ হওয়ার আগে তিনি আমাকে বলেছিলেন, তুমি সবার কাছে আমার জন্য মাফ চাইবে। সবাই যেন আমাকে মাফ করে দেন। তিনি নিজেও জোরে জোরে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়েছিলেন। এর পরদিন থেকেই তাঁর কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা আর কেউ তাঁর কথা শুনতে পাইনি।’

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শোকবার্তায় বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এইচ টি ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি (ইমাম) দেশের স্বাধীনতার চেতনার উন্নয়নে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য সারা জীবন কাজ করে গেছেন। এ ছাড়া তিনি সদ্য স্বাধীন দেশের সরকার পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকবার্তায় বলেন, বাংলাদেশের প্রশাসনিক সার্ভিসে এইচ টি ইমামের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে প্রবাসী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের পুরো সময়টাও তিনি একই পদে থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শরীফ আহমেদ  প্রমুখ।


আপনার মন্তব্য