শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০৯

রোহিঙ্গাদের দায় শুধু বাংলাদেশের নয়

‘লিডারস সামিট’ এ শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাতে ঢাকা ঘুরে গেলেন জন কেরি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

রোহিঙ্গাদের দায় শুধু বাংলাদেশের নয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরিকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচাসহ কয়েকটি বই উপহার দেন -পিআইডি
Google News

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বাংলাদেশের প্রশংসা করে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে- তা প্রশংসনীয়। মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা পুরো বিশ্বের জন্যই চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এর দায়িত্ব নিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও  মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সোচ্চার রয়েছে। এই সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় কাজ করে যাবে বলেও আশ্বস্ত করেন বাইডেন প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানো জন কেরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ‘লিডারস সামিট’ এ আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। কয়েক ঘণ্টার সফর শেষের বিকালেই যুক্তরাষ্ট্রে উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।

ভারতের নয়াদিল্লি থেকে বিশেষ বিমানে ঢাকায় পৌঁছালে জন  কেরিকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী সেলিনা মোমেন কেরিকে ফুল  দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার। পরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে বৈঠক বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন জন কেরি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের শুরু করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি বলেন, এখানে আমি এসেছি বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শুভেচ্ছা জানাতে। পাশাপাশি আমি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জলবায়ু দূত হিসেবে এসেছি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষে জলবায়ুবিষয়ক ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাতে এসেছি। বিশ্বের কোনো দেশ একা জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন কেরি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার প্যারিস অ্যাগ্রিমেন্টের বাস্তবায়নের নেতৃত্বে ফিরে এসেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, আমাদের নাগরিক এবং দেশগুলোকে সুরক্ষার জন্য এসব প্রচেষ্টা। কারণ সংকট যে আছে এ নিয়ে কোনো দেশের কোনো সন্দেহ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন দুর্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জন কেরি বলেন, চলতি বছরে মানব ইতিহাসের কঠিন দিন, কঠিন সপ্তাহ, মাসগুলোর মুখোমুখি হয়েছি আমরা। বিশ্বব্যাপী মানবসৃষ্ট দুর্যোগ দেখেছি। ভাইরাস, খরা, সমৃদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়া থেকে শুরু করে অনেক কিছু দেখছি। ইতিমধ্যে জলবায়ুর কারণে মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অন্যত্র যাওয়া শুরু করেছে। বিজ্ঞানের শিক্ষা থেকে আমরা জানতে পেরেছি সবাইকে এক সঙ্গে কাজে নামতে হবে। এসব কারণে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বড় অর্থনীতির দেশ ও অংশীদারদের নিয়ে আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল বাইডেনের আহ্বানে লিডার্স সামিট অন ক্লাইমেট আহ্বান করেছেন। আলোচনার মাধ্যমে যাতে পরিস্থিতি মোকাবিলার রাস্তাগুলো তৈরি করা যায়, জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলার প্রযুক্তিগুলো সবার মাঝে পৌঁছে দেওয়া যায়। বাংলাদেশ এই সামিটে অংশ নেবে জেনে আমি খুবই আনন্দিত। প্রযুক্তি, গবেষণা, উন্নয়ন, আর্থিক বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার জন্য এই সম্মেলন খুবই কার্যকর হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের সময় যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু ইস্যু থেকে পিছিয়ে পড়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কেরি বলেন, ভবিষ্যতে এই খাতে দুই ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্লাইমেট সামিটে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু বিষয়ক নীতি সাফল্য পাবে আশা করে মোমেন বলেন, জন কেরির জীবনে অনেক সাফল্যের গল্প আছে। তিনি যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানেই সাফল্য এসেছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি হয়েছে তার দৃঢ়তার কারণে। ভিয়েতনাম যুদ্ধেও তার অনেক সাফল্য রয়েছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টায়ও তিনি সফল হয়েছেন। এখন আমরা আশা করব প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিশেষ দূত হিসেবে জন কেরি আগামী বছর থেকে ক্লাইমেট ফান্ডে ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্জন করতে পারবেন। এটা হবে তার আরেক সাফল্য। এই ফান্ডের ৫০ শতাংশ এডাপটেশন এবং ৫০ শতাংশ মিটিগেশনের কাজে ব্যয় করা হবে বলে আশা রাখি। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের বন ও পাহাড় ধ্বংস করছে উল্লেখ করে মোমেন বলেন, তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগে কেরি বা যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ভালনারেবল ফোরাম প্রেসিডেন্সির বিশেষ দূত আবুল কালাম আজাদসহ কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা।

জন কেরির সফর নিয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘লিডার্স সামিট অন ক্লাইমেট’ এ বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয় যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের যে অঙ্গীকার তার গুরুত্বই তুলে ধরছে এই সফর। প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কেরির আলোচনায় জলবায়ু নীতি, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং টেকসই অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে সমৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতার ওপর আলোকপাত করা হয়। জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একটি গোলটেবিলেও অংশ নেন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিশেষ দূত। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার তাঁর সরকারি  বাসভবনে এই আলোচনার আয়োজন করেন। জলবায়ু সংকট রোধে প্রশমন ও অভিযোজনকে সহায়তা দিতে এবং সমৃদ্ধিকে সমর্থন জোগাতে যে বিনিয়োগ দরকার, তা সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার আন্তর্জাতিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্র কতটা গুরুত্ব দেয়, সেক্রেটারির এই সফর সেটি তুলে ধরেছে।

এই বিভাগের আরও খবর