শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২১

সর্বত্র ভিড়, নগরীতে যানজট বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বত্র ভিড়, নগরীতে যানজট বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গতকাল গাড়ির চাপে দীর্ঘ যানজট লেগে যায় -বাংলাদেশ প্রতিদিন

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান ‘কঠোর’ বিধিনিষেধ (লকডাউন) আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৫ মে পর্যন্ত চলবে এই লকডাউন। এই সময় বন্ধ থাকবে বাস, লঞ্চ, ট্রেনসহ সব গণপরিবহন। তবে যথারীতি চলবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। লকডাউনের মধ্যেই রবিবার থেকেই শপিং মল, মার্কেট, দোকানপাট খোলা হয়েছে। দোকান খোলার সময়সীমা দুই দফা পরিবর্তন করে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। লকডাউনের মধ্যে গণমাধ্যমসহ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে। হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা থাকবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকে লেনদেন করা যাচ্ছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত জনবল দিয়ে বিভিন্ন শাখা চালু রেখেছে ব্যাংকগুলো।

এ দিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও গতকাল রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়িসহ নানা পরিবহনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শপিং মল, মার্কেট, দোকানসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কাঁচাবাজারেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। সর্বক্ষেত্রেই উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি। মুভমেন্ট পাস নিয়ে কোনো কড়াকড়ি ছিল না। রাজধানীতে তল্লাশি চৌকিগুলো ছিল ঢিলেঢালা।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল বিকালে গণমাধ্যমকে বলেছেন, গত ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে যে কঠোর বিধিনিষেধ চলছে, তার মেয়াদ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ছিল। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কভিড-১৯ বিস্তার রোধে চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন এক সপ্তাহ বেড়ে তা ৫ মে পর্যন্ত কার্যকর হবে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এর আগে যে বিধিনিষেধগুলো ছিল, সেগুলো এখনো কার্যকর হবে। তবে এ সময় দোকানপাট ও শপিং মল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত শুক্রবারের প্রজ্ঞাপনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকান ও শপিং মল খোলা রাখার নির্দেশনা থাকলেও ঢাকা মহানগর পুলিশ রবিবার বলেছে, ঈদের আগে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান-শপিং মল খোলা রাখা যাবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। এরপর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, দোকানপাট ও শপিং মল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু থাকবে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সীমিত বিধিনিষেধ দেওয়া হলেও তা খুব একটা কার্যকর হয়নি। পরে ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ। এটি কার্যকর করতে সরকারের ১৩ দফা বিধিনিষেধে বলা হয়, অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা, চিকিৎসা সেবা, মরদেহ দাফন বা সৎকার এবং টিকা কার্ড নিয়ে টিকার জন্য যাওয়া) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। এরই মধ্যে ১৮ এপ্রিল রাতে এক বৈঠকে চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। যা ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় এ বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হচ্ছে।

ঈদের নামাজ হবে মসজিদে : করোনাভাইরাস সংক্রামণ পরিস্থিতির কারণে এবারও ঈদগাহে বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত আদায় করা যাবে না। মসজিদে পড়তে হবে ঈদের নামাজ। একই সঙ্গে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

গতকাল ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (প্রশাসন) মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই অনুরোধ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায়ে ১২টি শর্ত দেওয়া হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অতি জরুরি। ইতিমধ্যে মসজিদে নামাজ আদায়ে কতিপয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ইসলামী শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিজনিত কারণে মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁঁকির কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে এবার ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত করা যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ঈদের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে পারবেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করতে মসজিদে অজুর স্থানে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে। প্রত্যেককে নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে। অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

ঈদের জামাতে মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই প্রতিপালন করতে হবে।

পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ : মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ভোগান্তি। সরকার ঘোষিত ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ মধ্যে দেশের সব দোকানপাট-শপিং মল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকেই ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করে। নতুন করে সময়সীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ৫ মে পর্যন্ত সব নৌযান ও গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

গতকাল সকালে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে অতিরিক্ত যাত্রী আসতে দেখা গেছে। যদিও ফেরিতে যাত্রী পারাপারের নির্দেশনা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। শুধু জরুরি পরিষেবার জন্য হাতে গোনা তিন থেকে চারটি ফেরি চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে লঞ্চ পারাপার বন্ধ থাকলেও বিকল্প পথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় লোকজনকে পারাপার হতে দেখা গেছে।

এদিকে, গতকাল সকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীদের বেশ চাপ রয়েছে। তবে পাটুরিয়া ঘাটে চাপ অতটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দু-একটি জরুরি পরিষেবা বহনকারী যানবাহন পরিবহনের সময় ফেরিতে অতিরিক্ত যাত্রী আসতে দেখা যাচ্ছে। লকডাউনের কারণে তিন থেকে চারটি ফেরিকে জরুরি পরিষেবা বহনকারী পরিবহনের জন্য ঘাট এলাকায় নোঙর করে রাখা হয়েছে।

অপরদিকে, পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় গণপরিবহন না থাকায় যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তবে, মোটরসাইকেল, পিকআপ ও কারে করে চড়ামূল্যে ঢাকা যাচ্ছেন যাত্রীরা। এ ছাড়া ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের সারিও দেখা গেছে।