শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মে, ২০২১ ২৩:৪১

বাবুল চিশতীর পুরো পরিবার অপরাধ কাজে জড়িত : আপিল বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাবুল চিশতীর পুরো পরিবার অপরাধ কাজে জড়িত : আপিল বিভাগ
বাবুল চিশতী
Google News

ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ও তার পুরো পরিবার ফৌজদারি অপরাধে জড়িত বলে মন্তব্য করেছে আপিল বিভাগ। আদালত বলেছে, মামলার নথি থেকে দেখা যায়, মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীই মূল অপরাধী। অপরাধ কার্যক্রমে তিনি তার পুরো পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার করেছেন। পুরো পরিবারই অপরাধ কাজে জড়িত। গতকাল বাবুল চিশতীর ছেলে রাশেদ চিশতীর জামিন আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এমন মন্তব্য করেন।

আপিল বিভাগ রাশেদ চিশতীর আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা এখনো প্রমাণ করতে পারেননি এই অর্থের বৈধ উৎস কী।’ আদালতে রাশেদ চিশতীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ এফ হাসান আরিফ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস কে মোর্শেদ। পরে খুরশীদ আলম খান বলেন, রাশেদ চিশতীর জামিন শুনানি হয়েছে। এ সময় আদালত কিছু মন্তব্য করেছে। কিছু ডকুমেন্ট দাখিলের জন্য ১ জুন মঙ্গলবার দিন ঠিক করে দিয়েছে আদালত। ওই দিন পরবর্তী শুনানি হবে।

১৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীকে ২৬ জানুয়ারি জামিন দেয় হাই কোর্ট। তবে এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করে দুদক। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি রাশেদ চিশতীকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে তাকে লিভ টু আপিল করতে বলা হয়। গত বছর ১৯ মে রাশেদ চিশতীকে একাধিক মামলায় বিচারিক আদালত জামিন দিয়েছিল। পরে জামিন স্থগিত চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রায় ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল গুলশান থানায় মো. মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী, স্ত্রী রোজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকটির ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং ব্যাংকটির গুলশান করপোরেট শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও বর্তমান সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলায় আসামির বিরুদ্ধে ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেফতারের পর থেকে মাহবুবুল হক চিশতী ও রাশেদ চিশতী কারাগারে আছেন।

ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয় বিপুল সম্পদ : মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে ৩৭ কোটি ৩৮ লাখ ৩ হাজার ২৫৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে একটি মামলা হয়। সেই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বাবুল চিশতীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের আদেশ দেয়। সে সময় বাবুল চিশতীর জব্দ করা স্থাবর সম্পদগুলো হলো জামালপুরের বকশীগঞ্জের বিভিন্ন মৌজায় ৪৯ শতাংশ, ৩৪ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ৩ হাজার বর্গফুট, ৭৩ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৮ শতাংশ, ২৮ শতাংশ, ৫৮ শতাংশ, ২৪ শতাংশ, একটি টিনশেড ঘর, ৩০০ শতাংশ, ৩৩ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৮ শতাংশ, ২৮ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১৩৮ শতাংশ, ৪৬ শতাংশ, ৭২ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ১৮ শতাংশ, ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৩৩ শতাংশ, ১৪ শতাংশ, ২২ শতাংশ, একটি তিনতলা ভবন, দুটি টিনশেড ঘর, ৪০ শতাংশ, ১১১ শতাংশ, ১১০ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ৩০ শতাংশ, ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ, ২২২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৫৫ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ৯১ শতাংশ, ২৬ শতাংশ, ৩৯ শতাংশ, ৩৭ শতাংশ ও শেরপুরের শ্রীবরদীর মাধবপুর মৌজায় ২০০ শতাংশ জমি।

এ ছাড়া একটি জিপগাড়ি, দুটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে একটি শটগান, একটি পিস্তল, ২০ কোটি ১১ লাখ টাকা মূল্যের একটি তেল ট্যাঙ্কার। এ ছাড়া ফারমার্স ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও ন্যাশনাল ব্যাংকের ২৮টি হিসাবে জমাকৃত অর্থ, পদ্মা ব্যাংকের ২ কোটি শেয়ার, সিএন নিউজ লিমিটেডের ৫ হাজার শেয়ার, কারেন্ট নিউজ ডটকম ডট বিডি লিমিটেডের ৬ হাজার ৫০০ শেয়ার, এম এম জেড আইটি সোর্স অ্যান্ড সার্ভিস লিমিটেডের ১ হাজার ২০০ শেয়ার, চ্যানেল ২৬ লিমিটেডের ২০ হাজার শেয়ার, ফিউশন ফুডওয়্যার লিমিটেডের ৫০০ শেয়ার, পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের একটি শেয়ার ও বাবুল চিশতী স্টিল মিল লিমিটেডের ৫০০ শেয়ার। বাবুল চিশতীর স্ত্রী রোজী চিশতীর বিরুদ্ধে গত বছর ২৩ জানুয়ারি ৩৭ কোটি ৩৮ লাখ ৩ হাজার ২৫৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়।

ওই সময় রোজী চিশতীর জব্দ করা স্থাবর সম্পদ হলো, রাজধানীর মিরপুরের চাকুলী মৌজায় মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ৩৫০ বর্গগজের জমি ও জমির ওপর নির্মিত সাততলা ভবন, রাজধানীর উত্তরখান মৌজার ১৫ শতাংশ জমি। জামালপুরের বকশীগঞ্জের চর কাউরিয়া মৌজায় ৭৯ শতাংশ জমি, একই মৌজায় ৫৫ শতাংশ জমি। ময়মনসিংহ সদরের টাউন মৌজায় চারটি ফ্ল্যাট (৪ হাজার বর্গফুট; ১ শতাংশ জমিসহ ৩ হাজার ৮০০ বর্গফুট; ১ শতাংশ জমিসহ ৩ হাজার ৮০০ বর্গফুট; ১ হাজার ৩০০ বর্গফুট), জোয়ার সাহারা মৌজায় ৩ কাঠা জমি ও জমির ওপর নির্মিত তিনতলা ভবন।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ সদরে টাউন মৌজায় ৫ শতাংশ জমি ও জমির ওপর নির্মিত সাততলা ভবন, চরকাউরিয়া মৌজায় সাড়ে ১৪ শতাংশ জমি (নির্মাণাধীন ভবনসহ) ও জমির ওপর নির্মাণাধীন ভবন। নারায়ণগঞ্জে বোরো নাওরা মৌজায় ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি। শেরপুরের শ্রীবরদীর জলংগা মাধবপুর মৌজায় ২৬৬ শতাংশ জমি। জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিভিন্ন মৌজায় ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ৩৯ শতাংশ, ১০০ শতাংশ, ১০০ শতাংশ, ২০ শতাংশ, ৮৫ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ৫৩ শতাংশ, ৮০ শতাংশ, ৩৪ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ৬৭ শতাংশ, ১১০ শতাংশ, ১৩৮ শতাংশ, ৫৫ শতাংশ, ৬২ শতাংশ, ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ, ৫৫ শতাংশ, ৪ শতাংশ, ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ, ৬২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৭২ শতাংশ, ৬১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ২ দশমিক ৭ শতাংশ, ৫২ শতাংশ, ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, ৫৪ দশমিক ২৬ শতাংশ, ৩৪ শতাংশ, ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১০২ শতাংশ, ৬২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ৩৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ১৯ শতাংশ, ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ১২ শতাংশ ও ৩১ শতাংশ জমি।

একই সঙ্গে টয়োটা নোয়াহ মডেলের একটি গাড়ি ও টাটা ট্যাঙ্কার লরি মডেলের একটি গাড়ি ক্রোক করা হয়। আর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) পাঁচটি ব্যাংক হিসাব, ব্যাংক এশিয়া ও ট্রাস্ট ব্যাংকে একটি করে ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। এ ছাড়া রূপসী ল্যান্ড ডেভেলপার লিমিটেডের ১ হাজার ২৫০টি শেয়ার, বকশীগঞ্জ অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০ শতাংশ শেয়ার, ফিউশন ফুটওয়্যার লিমিটেডের ৫০০ শেয়ার, বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ৪০ হাজার শেয়ার ও ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার সঞ্চয়পত্র ফ্রিজ করা হয়। বাবুল চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলাতেও আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয়েছে।

রাশেদের জব্দ করা স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ৪ শতাংশ জমিসহ ৩০০ বর্গফুটের সেমিপাকা বাড়ি, বসুন্ধরায় ৭ শতাংশ জমি, মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ৪ দশমিক ৫০ কাঠা ও ৩ কাঠা জমি, ময়মনসিংহ সদরে ৪০ অযুতাংশের ওপর তৃতীয় তলায় ৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও চট্টগ্রাম সদরে ১ হাজার ৯৭৮ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট।

এ ছাড়া জামালপুরের বকশীগঞ্জের বিভিন্ন মৌজায় ৭ শতাংশ ও এর ওপর নির্মিত পাঁচতলা ভবন, ৩৩ শতাংশ জমি, ৯০ শতাংশ, ১৭৯ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ৪৩ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ২ শতাংশ, ২৪ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ৫৮ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ২৪ শতাংশ, ১৩ শতাংশ, ১৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ৫৫ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২২ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৫০ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ৪৪ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, ৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২৬ শতাংশ, ১৩ শতাংশ, ৪৫ শতাংশ, ৮ শতাংশ, ৫৩ শতাংশ, ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২৬ শতাংশ, ৪০ শতাংশ, ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৪০ শতাংশ, ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২৮ শতাংশ, ৪১ দশমিক ১৫ শতাংশ, ৩৪ শতাংশ, ২৮ শতাংশ, ৪১ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২২ শতাংশ, ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৩৪ শতাংশ, ৮ শতাংশ, ৫৫ শতাংশ, ২২ শতাংশ, ৮ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৬ শতাংশ, ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১০৫ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ১৮ শতাংশ, ১৬ শতাংশ, ৪ শতাংশ, ৪৯ শতাংশ, ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২২ শতাংশ, ২২ শতাংশ, ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২২ শতাংশ, ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৯ শতাংশ, ৬৪ শতাংশ, ১৭ শতাংশ, ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১৬৬ শতাংশ, ১৬৩ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ২২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ, ৫ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৬৬ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ২০ শতাংশ, ২৩০ শতাংশ, ১৮ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১ হাজার ২৩ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ৪ শতাংশ, ৩৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১৬১ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ২১ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২৭ শতাংশ, ৪১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১৩ শতাংশ, ১৩ শতাংশ, ২৩ শতাংশ, ১৮ শতাংশ, ৪২ শতাংশ, ২৪ দশমিক ২৭ শতাংশ, ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ৪৪ শতাংশ, ৩৫ শতাংশ, ১৩ শতাংশ, ৩৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৭ শতাংশ, ৯ শতাংশ, ১৮ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ, ২১ শতাংশ, ২১ শতাংশ, ৪৪ শতাংশ, ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৪১৮ শতাংশ, ৯ শতাংশ, ৯ শতাংশ, ১ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৩৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১৮১ শতাংশ, ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ১৪৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৬২ শতাংশ ও ১৪৬ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি রয়েছে।

এ ছাড়া রাশেদের একটি প্রাইভেটকার, একটি জিপগাড়ি, একটি শটগান ও একটি পিস্তল জব্দ করা হয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, এবি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় মোট ২২টি অ্যাকাউন্টে রক্ষিত অর্থ, পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের ৩০ লাখ শেয়ার, সিএন নিউজ লিমিটেডের ৩ হাজার শেয়ার, কারেন্ট নিউজ ডটকম ডট বিডি লিমিটেডের ৪ হাজার ৫০০ শেয়ার, রূপসী ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডের ১ হাজার ২৫০ শেয়ার, বকশীগঞ্জ অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৭০ শতাংশ শেয়ার, ফিউশন ফুটওয়্যার লিমিটেডের ১৯ হাজার ৫০০ শেয়ার, পদ্মা ব্যাংক, ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ১টি শেয়ার, বাবুল চিশতী স্টিল মিল লিমিটেডের ১৯ হাজার ৫০০ শেয়ার, বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স মিল লিমিটেডের ৯ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার জব্দ করা হয়।

বাবুল চিশতীর মেয়ে রিমি চিশতীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর ২১ কোটি ২০ লাখ ৯৮ হাজার ১২৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়। এ মামলায় রিমির জব্দ করা স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে জামালপুরের বিভিন্ন মৌজায় ৪০ শতাংশ, ৪ দশমিক ৬৭৬ শতাংশ, ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের খাইল কৈর মৌজায় ২০ শতাংশ জমি। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ফারমার্স ব্যাংকের ছয়টি ব্যাংক হিসাব ও ট্রাস্ট ব্যাংকে একটি ব্যাংক হিসাব। এসব হিসাবে প্রায় ২১ লাখ টাকা রয়েছে। এ ছাড়া বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ১০ হাজার শেয়ারও ফ্রিজ করা হয়েছে।

বাবুল চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীর স্ত্রী ফারহানা আহমেদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ৫১ হাজার ৬১৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের আদেশ দেয়। ফারহানা আহমেদের জব্দ করা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে একটি মোটরগাড়ি, ফারমার্স ব্যাংকের তিনটি হিসাব ও যমুনা ব্যাংকের চারটি ব্যাংক হিসাব। এ ছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা রয়েছে। বাবুল চিশতীর শ্যালক জামালপুরের বকশীগঞ্জের ধনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ১৮৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়। এ মামলায় মোস্তফা কামালের জব্দ করা স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর রামপুরায় মেরাদিয়া মৌজায় ১ হাজার ২৭৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, ময়মনসিংহ সদরে ৩ শতাংশ জমি, ধনুয়া কালামপুরে ১৫ শতাংশ জমি, ১০০ শতাংশ জমি, ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ জমি, ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি, ৫৮ শতাংশ জমি, একটি টয়োটা মডেলের গাড়ি। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ১৩টি ব্যাংক হিসাবে রাখা প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং ফারিব অটোরাইস মিল লিমিটেডের ৩ হাজার ৩০০ শেয়ার।