শিরোনাম
রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

টিকাগুলো আমেরিকার জনগণের উপহার, এটা শুরু হলো মাত্র

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

টিকাগুলো আমেরিকার জনগণের উপহার, এটা শুরু হলো মাত্র

রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার

মডার্নার টিকা বাংলাদেশকে হস্তান্তর করে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেছেন, এই টিকা উপহার। আমেরিকার জনগণ টিকাগুলো বিনামূল্যে বাংলাদেশকে পাঠিয়েছে, উপহার হিসেবে। এ কথা পরিষ্কারভাবে বলা দরকার, এটা শুরু মাত্র। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে জরুরিভিত্তিতে যত বেশি সম্ভব নিরাপদ ও কার্যকর টিকা পৌঁছানোর গুরুত্ব জানে ও বুঝতে পারে। শুক্রবার মধ্য রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেন, আমরা একটিমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে টিকাগুলো বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি, সেই উদ্দেশ্যটি হলো মানুষের জীবন বাঁচানো। কারণ এটিই হলো সঠিক কাজ। আমেরিকানরা সব সময় মানুষের প্রয়োজনে ও বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ায়। আমরা আমাদের সামর্থ্য, ইচ্ছাশক্তি নিয়ে এগিয়ে যাই এবং যা করার দরকার সেটা করি।  তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কভিড-১৯ মোকাবিলায় সহায়তার ক্ষেত্রে বৃহত্তম দাতা দেশ। আজ অবধি, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার মহামারী মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৮৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি সহায়তা দিয়েছে। এই সহায়তার মধ্যে অন্যান্য কিছুর সঙ্গে ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন সিলিন্ডার, ১২০০ পালস অক্সিমিটারসহ বাংলাদেশব্যাপী কর্মরত সম্মুখসারির হাজার হাজার স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ২০ লাখের বেশি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, ৫০ লাখ সার্জিক্যাল মাস্ক এবং ৫২ হাজার জোড়া সুরক্ষামূলক গগলস রয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা জানি বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবন বাঁচাতে, ভাইরাসের নতুন ধরন তৈরি হওয়া থামাতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনর্গঠনে বিশ্বের সর্বত্র যত বেশি সম্ভব মানুষকে দ্রুততার সঙ্গে টিকাদান করতে আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক টিকাদান প্রচেষ্টার সাফল্যের জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বব্যাপী মহামারীকে পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রের শক্তি, আমেরিকান বিজ্ঞানীদের দক্ষতা এবং আমেরিকান উৎ?পাদনকারীদের সামর্থ্য এবং সর্বোপরি আমেরিকান জনগণের অভিঘাতসহনশীলতা, প্রতিশ্রুতি ও উদারতার মনোভাবকে কাজে লাগাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বৈশ্বিক সংকটে গণতন্ত্রের অস্ত্রাগার হিসেবে কাজ করেছিল। কভিড-১৯ এর বৈশ্বিক সংকট অবসানে আমাদের যৌথ লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের জন্য টিকার কোষাগার হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, এই বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বিশ্বের মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের সরবরাহ থেকে কমপক্ষে ৮০ মিলিয়ন ডোজ টিকা অনুদানের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিলেন। এ ছাড়াও কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজার টিকার ৫০০ মিলিয়ন ডোজ বিশ্বের দেশগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বরাদ্দ করা হবে।

আর্ল আর মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গত পাঁচ দশক ধরে ঘনিষ্ঠতম অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। এখন ইতিহাসের অভূতপূর্ব এমন এক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আমাদের অংশীদারিত্বের গুরুত্ব অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই মিলে একটি অধিকতর নিরাপদ ও আরও বেশি সুরক্ষিত বিশ্ব গড়ে তুলতে সংক্রামক রোগের হুমকির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে চলেছি। আমরা এটি করছি বাংলাদেশের জনগণের জন্য, আমেরিকার জনগণের জন্য এবং ঝুঁকিতে থাকা মহামূল্যবান বিশ্বের নাগরিকদের রক্ষায়; আমরা সৌভাগ্যবান যে আমরা একসঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করতে পারছি, বলেন রাষ্ট্রদূত মিলার।