মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা
ই-কমার্সে যত বিড়ম্বনা

২৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের পর গ্রেফতার বেরিয়ে ফের একই কান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বেইলি রোড থেকে কথিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আল আমিন ও পরিচালক শারমিন আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রাহকের ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত বছরও গ্রেফতার হয়েছিলেন আল আমিন। পরে অবশ্য জামিনে বের হন। তিনি ডেসটিনি ২০০০-এর উচ্চ পর্যায়ের টিম লিডার ও প্রশিক্ষক ছিলেন। ডেসটিনি ও যুবকের আদলেই গড়ে তুলেছেন এসপিসি ওয়ার্ল্ড। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্তের পর কলাবাগান থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটিসহ মোট চারটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকের ১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। গতকাল রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান সংস্থার বিশেষ পুলিশ সুপার (ফাইন্যানশিয়াল ক্রাইম) হুমায়ূন কবির। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস অনেকের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে সেগুলো ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়। তবে প্রতারণার অংশ হিসেবে কয়েকজন ক্রেতাকে পণ্য ডেলিভারি দিয়ে তাদের ছবিসহ ফেসবুকে ইতিবাচক রিভিউ দিত প্রতিষ্ঠানটি। এসব রিভিউ দেখে ফাঁদে পা দিতেন গ্রাহকরা। হুয়ায়ূন কবির বলেন, গ্রেফতার আল আমিন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি। এক মাসের মধ্যে তারা প্রায় ৫-৬ কোটি টাকার অর্ডার পান। যারা পণ্য অর্ডার করেন তাদের বেশির ভাগই ছাত্র ও অল্প বেতনের চাকরিজীবী। প্রাথমিক অবস্থায় এসপিসি ওয়ার্ল্ড কিছু পণ্য ডেলিভারি করে সেই গ্রাহকদের দিয়ে তাদের ফেসবুক পেজে ইতিবাচক রিভিউ পোস্ট করিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে। পরে অধিক সংখ্যায় অর্ডার ও অগ্রিম অর্থ পেলে তারা পণ্য ডেলিভারি না দিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে। অনেক দিন পেরিয়ে গেলে গ্রাহকরা প্রতারণার বিষয়টি যখন বুঝতে পারেন তখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ও সংবাদ মাধ্যমে প্রতিকার দাবি করে বক্তব্য দিতে থাকেন। যারা খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করেন তাদের টাকা ফেরতের মিথ্যা আশ্বাস হিসেবে চেক প্রদান করে এসপিসি। দীর্ঘদিন ধরে এসপিসির কার্যক্রমের ওপর নজরদারি চলছিল। এসপিসিসহ সম্প্রতি কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণাকান্ডে অত্যন্ত উৎকণ্ঠায় রয়েছেন গ্রাহক, ব্যবসায়ীসহ অনেকেই। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- ই-কমার্স সাইটগুলো ঈদ ধামাকা, সাইক্লোন অফার, ডাবল অফারসহ বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে। এ ক্ষেত্রে ক্রীড়া ও শোবিজ জগতের সেলিব্রেটিদের মাধ্যমে বিভিন্ন মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচার করে তরুণ ও তাদের ভক্তদের আকৃষ্ট করে নিয়মিত গ্রাহকে পরিণত করেছে। ৫০ শতাংশ মূল্যছাড়ে নতুন মোটরসাইকেল, সেলফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, ওভেনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্য অল্প দিনের মধ্যে ডেলিভারি এবং শর্ত সাপেক্ষে ৮০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও প্রতারণা করে এসপিসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, মানি লন্ডারিং ও প্রতারণার অভিযোগ মামলা হয়। এ মামলাগুলোর ছায়াতদন্ত করছিল সিআইডি।

সর্বশেষ খবর