মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

শেষ চারে ফাইনাল উত্তেজনা

মধ্যে দুই বছরের ব্যবধান। ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড এবার টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। শেষ চারেই ক্রিকেট বিশ্ব দেখতে পাচ্ছে ফাইনালের উত্তেজনা। দুই বছর আগে লর্ডসের সেই ফাইনালটা ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ম্যাচের স্কোর লেবেল, সুপার ওভারেও টাই। কিন্তু রোমাঞ্চকর এই ম্যাচটিতে ইংল্যান্ডের জয় নির্ধারণ করা হয় আইসিসির অদ্ভুত নিয়ম ‘বেশি বাউন্ডারি’ হাঁকানোর সুবাদে। বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে না পারার কষ্ট এখনো যেন ব্ল্যাকক্যাপসদের যন্ত্রণা দেয়!

তবে ওই বিশ্বকাপের সঙ্গে এই বিশ্বকাপের একটা দারুণ মিল। সেই আসরে সেমিফাইনালে ‘ফেবারিট’ ভারত বেদনায় নীল করে দিয়ে কিউইরা ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল। এবারও কেন উইলিয়ামসনরা গ্রুপ পর্বে ভারতের স্বপ্নভঙ্গ করে দিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নকআউটে ইংলিশ-দুঃখ ঘুচাতে পারে কিনা!

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই বিশ্বকাপে আরেক সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। যদিও এই ম্যাচ নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে ততটা আলোচনা হচ্ছে না যতটা গুরুত্ব পাচ্ছে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড লড়াই! অথচ এই আসরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হতে পারত পাকিস্তানকে নিয়ে। কারণ, সেমির লড়াই যে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড থাকছে -তা ক্রিকেটভক্ত মাত্রই আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। অধিকাংশ ক্রিকেট বোদ্ধাই শেষ চারে রেখেছিলেন ভারতকে। বিরাট কোহলির দলটি কী ভয়ংকর! কিন্তু সেই ভারতকে বিদায় করে দিয়ে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে পাকিস্তান। বাবর আজমের নেতৃত্ব অসাধারণ এক দল। পাকিস্তান এই আসরে একমাত্র দল যারা গ্রুপ পর্বে এখনো অপরাজিত। টানা পাঁচ ম্যাচেই দুর্দান্ত জয়। পাকিস্তান দলের বিশেষত্ব হচ্ছে- তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞরাও দেখাচ্ছেন ক্যারিশমা। যে যখন সুযোগ পাচ্ছেন নিজেকে দারুণভাবে উপস্থাপন করছেন। ‘বুড়ো’ মোহাম্মদ হাফিজ কিংবা শোয়েব মালিকও ছক্কা ঝড়ে উড়ছেন। দুরন্ত শটে কাঁপিয়ে দিচ্ছেন স্টেডিয়াম। পাকিস্তানের প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে, এই আসরে বাবর আজমের মতো একজন দলনেতা পেয়েছে। একজন অধিনায়ককে যেমন মাঠে সেরা সিদ্ধান্তটি নিতে হয়, তেমনি পারফরম্যান্সেও চেয়ে এগিয়ে থাকতে হয়। দুই গুণেই অনন্য বাবর আজম। এই আসরে এখন পর্যন্ত (ভারত-নামিবিয়া ম্যাচের আগে) সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৫ ম্যাচে ৬৬ গড়ে করেছেন ২৬৪ রান। টি-২০ নাকি অনিশ্চয়তার খেলা-সেখানেই নিশ্চয়তার মূর্ত প্রতীক পাক অধিনায়ক। তবে শেষ চারের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। যদিও নিজেদের প্রথম ম্যাচে অসিরা হেরেছিল ইংলিশদের বিরুদ্ধে। এই আসরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জয়টি কিন্তু অস্ট্রেলিয়ারই। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা মাত্র ৩৮ বল খেলে জয় নিশ্চিত করেছিল। তাই পাকিস্তানকে মোটেও ছেড়ে কথা বলবে না। বরাবরই ইংল্যান্ডের মিডিয়া-হাইপ অনেক বেশি। কিন্তু এই আসরে প্রথম থেকে আলোচনা করার মতোই পারফরম্যান্সও করেছেন ইংলিশরা। প্রথম ম্যাচেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫৫ রানে অলআউট করে দিয়ে শুরু। তারপর প্রতিটি ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েছে। যদিও শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হেরে গেছে। তারপরও ইংল্যান্ডের এই দলটি অন্যরকম। খুবই ভারসাম্যপূর্ণ। ব্যাটিংয়ে যেন দুর্দান্ত, বোলিংয়েও অসাধারণ। যেমন পেসার, তেমন স্পিনার। তবে শেষ চারে তাদের লড়াইটা মোটেও সহজ হবে না। কারণ, কিউইদের নিয়ে সব সময় মনস্তাত্তি¡কভাবে খানিকটা পিছিয়ে থাকে ইংলিশরা!

সে যাই হোক, শেষ চারের লড়াইটা অন্যরকম। এখানে কেউ কারোর চেয়ে কম নয়! কাউকে পিছিয়ে রাখার উপায় নেই। তাই সেমিফাইনাল নয়, যেন দুটি ‘ফাইনাল’ হতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

সর্বশেষ খবর