শিরোনাম
রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৩ ০০:০০ টা
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন

বড় পরিবর্তন আসছে না সীমানায়

জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা

গোলাম রাব্বানী

বড় পরিবর্তন আসছে না সীমানায়

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানায় বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে না পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন সীমানায় বড় কোনো পরিবর্তন করতে পারছে না। গত বছরের জুলাইয়ে জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও এখন সেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়নি। ইসি চূড়ান্ত প্রতিবেদন ছাড়া সীমানা নির্ধারণের কাজে হাত দিতে পারছে না। যদিও বিদ্যমান সীমানায় ১৫০টি আসনে ভোটারের ভারসাম্য নেই। ৩৭ আসনে আঞ্চলিক অখন্ডতা রক্ষা হয়নি। এক উপজেলাকে খন্ড খন্ড করে বিভিন্ন আসনে দেওয়া হয়েছে।

ইসির টার্গেট আগামী মে মাসের মধ্যে সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ করা। সে হিসেবে সীমানা নির্ধারণের জন্য মাত্র চার মাস সময় পাচ্ছে ইসি। এ স্বল্পসময়ের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানায় বড় পরিবর্তন করাও সম্ভব নয়। তাই পুরনো সীমানা বহাল রেখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিন্তা করছে কমিশন। কেননা সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের নতুন আইনেও পুরনো সীমানা বহাল রেখে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ রয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রায় ছয় মাস হলো জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের; আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার অপেক্ষায় রয়েছি। তবে কবেনাগাদ সেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত হবে তা-ও বলা যাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সঙ্গে ইসি যোগাযোগ রাখছে নিয়মিত। কেননা চূড়ান্ত প্রতিবেদন ছাড়া সীমানায় বড় পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

ইসি এখনো সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করতে পারেনি- এ প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, কাজ শুরু করিনি কথাটা ঠিক নয়। কাজটা শেষ করিনি সেটা হলো কথা। কাজ শেষ হবে মে মাসে। জনশুমারির রিপোর্ট না পেলে করতে পারবেন কি না- প্রশ্নে তিনি বলেন, রিপোর্ট পেলেও করতে পারব। না পেলেও করতে পারব। আইনে বলা আছে, বিবিএসের রিপোর্ট পেলে তার ভিত্তিতে করতে হবে। আর না পেলে আগের যা (রিপোর্ট) আছে তার ভিত্তিতে করতে হবে।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন শুমারির প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী অনেক জেলায় জনসংখ্যার ভারসাম্য নেই। কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ জেলায় রয়েছে ১১টি করে সংসদীয় আসন। নতুন শুমারিতে কুমিল্লার জনসংখ্যা ৫৩ লাখ ৮৭ হাজার এবং ময়মনসিংহের ৫১ লাখ। ৪০ লাখ জনসংখ্যার টাঙ্গাইলে আছে আটটি আসন। অন্যদিকে গাজীপুরে ৫২ লাখ ৬৩ হাজার এবং নারায়ণগঞ্জে ৩৯ লাখ জনসংখ্যায় উভয় জেলায় সংসদীয় আসন পাঁচটি করে। একইভাবে চুয়াডাঙ্গায় ১২ লাখের বেশি জনসংখ্যায় আসন রয়েছে দুটি।

বিশেষজ্ঞারা বলছেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে যদি সীমানা জটিলতা নিরসন না করা হয় তবে নির্বাচন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। আর সীমানা জটিলতা নিরসন না করলে আসনভিত্তিক জনসংখ্যায় বেশি তারতম্য থাকলে সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে জনগণ বঞ্চিত হবে।

কী হবে সীমানা জটিলতার : কুমিল্লা-১০ আসনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ কিলোমিটার। নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন। ভোটার ৫ লাখের বেশি। এ আসনের সীমানা পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিনের। মামলাও রয়েছে। শুধু কুমিল্লা-১০ নয়, তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-১ আসন। এ আসন ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা; সিলেট-৩ আসন দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। আবার ঠাকুরগাঁও-১ আসন গঠিত হয়েছে শুধু সদর উপজেলা নিয়ে। কিন্তু এ জেলার রাণীশংকৈল উপজেলাকে ভেঙে ঠাকুরগাঁও-২ ও ৩ আসনে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা জেলায় এখন ২০টি সংসদীয় আসন। ২০১১ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি ২০ লাখ। এবারের জনশুমারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখে। বর্তমানে প্রতিটি আসনের জনসংখ্যা গড়ে ৭ লাখ ৩৫ হাজার। এর বিপরীতে দক্ষিণের জেলা ঝালকাঠিতে সংসদীয় আসন দুটি। নতুন শুমারিতে এ জেলায় লোকসংখ্যা ৬ লাখ ৬১ হাজার। প্রতিটি আসনের বিপরীতে জনসংখ্যা গড়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৫০০।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিদ্যমান সীমানায় ১৫০টি আসনে ভোটারের ভারসাম্য নেই। ৩৭ আসনে আঞ্চলিক অখন্ডতা রক্ষা হয়নি। এক উপজেলাকে খন্ড খন্ড করে বিভিন্ন আসনে দেওয়া হয়েছে। ফলে একই উপজেলায় একাধিক সংসদ সদস্য থাকায় জনগণ অবহেলার শিকার হচ্ছে। বিগত একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ৬৪ জেলার অধিকাংশ আসন নিয়েই পক্ষে-বিপক্ষে আবেদন করেছিলেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরাও ছিলেন আবেদনকারীর তালিকায়। তবে বিগত নির্বাচন কমিশন মাত্র ১২ জেলার ২৫টি আসনের সীমানা আংশিক পরিবর্তন করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় আসনের সীমানা সংকটের নিরসন দীর্ঘদিনেও হয়নি। হুদা কমিশনও সীমানা জটিলতা জিইয়ে রেখে বিদায় নিয়েছে। সীমানা জটিলতা নিয়ে অনেক মামলা-অভিযোগ জমা পড়েছিল। কিন্তু কিছুই আমলে নেয়নি তারা। অনেক এলাকার আসন পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিনের। এখনো অনেক আসনের সীমানা ৯০ কিলোমিটার রয়েছে। তিন-চারটি উপজেলা নিয়েও রয়েছে একটি আসন। আবার একটি উপজেলা ও স্বল্পসংখ্যক ভোটার নিয়ে রয়েছে অনেক আসন।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন আসনের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অখন্ডতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় ১৫০টি আসন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো আসনের জনসংখ্যার তারতম্য ২৫ শতাংশের বেশি। এ আসনগুলোর পরিবর্তন এসেছিল ২০০৮ সালে। পরে আসনের সীমানায় তেমন পরিবর্তন আসেনি।

সর্বশেষ খবর