শিরোনাম
রবিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

স্বতন্ত্রে শঙ্কায় হেভিওয়েটরা

ঝুঁকির মুখে দুই ডজন প্রার্থী, আছেন কয়েকজন মন্ত্রীও

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বতন্ত্রে শঙ্কায় হেভিওয়েটরা

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান দলীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ। তিনি ফরিদপুর-৪ আসনে এবারও নৌকার টিকিট পেয়েছেন। গত দুটি সংসদ নির্বাচনেও তিনি নৌকার মাঝি হয়েছিলেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জাফরউল্লাহর শক্ত প্রতিপক্ষ সেই মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী। নিক্সন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। দেশব্যাপী আলোচিত এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম এবং সাংবাদিক আরিফুর রহমান দোলন। শেষ পর্যন্ত তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে নির্বাচন জমে উঠতে পারে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সিমিন হোসেন রিমি মনোনয়ন পেয়েছেন গাজীপুর-৪ আসন থেকে। তার আসনেও দলের দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। তারা হলেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আলম আহম্মেদ ও কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আরিফ। ঢাকা-২ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দলীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীন আহমেদ। এখানেও লড়াই জমে উঠেছে। চাঁদপুর-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মো. রেদওয়ান খান বোরহান। কেবল ওপরে উল্লিখিতরাই নন, আরও অনেক হেভিওয়েট এমপি-মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই তাদের লড়তে হচ্ছে। অনেক প্রার্থীরও ঘুম হারাম। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউকে এমপি হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় জমে উঠেছে সারা দেশের কয়েক ডজন আসনের নির্বাচন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এবারও কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন পারভেজ আনোয়ার তনু। তনুর বাবা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান পৌর মেয়র। বরিশাল-৪ আসনে নৌকা পেয়েছেন দলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান এমপি পঙ্কজ নাথ। সিলেট জেলার ছয়টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দেখা মিললেও সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ও দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের লড়াই হতে পারে। গাজীপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তার আসনে স্বতস্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল। একই আসনে আছেন কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাসেল এবং আওয়ামী লীগ নেতা নুরে আলম সিদ্দিকী। জয়পুরহাট-২ আসনে হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী বিদ্রোহী প্রার্থী। মাদারীপুর-৩ আসনে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য তাহমিনা বেগম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত আবদুল মমিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। কুমিল্লা-৪ আসনে হতে পারে তীব্র লড়াই। এই আসনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এবং বিদ্রোহী প্রার্থী দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের রেষারেষি দীর্ঘদিনের। বরগুনা-১ আসনে দলের মনোনীত ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, সাবেক ছাত্রনেতা খলিলুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম সরোয়ার ফোরকান। বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াত সাদিক আবদুল্লাহ। ফলে এ আসনে বড় চ্যালেঞ্জে পড়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। ঝিনাইদহের চারটি আসনেই রয়েছে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে ঝিনাইদহ-১ আসনে আওয়ামী লীগের আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন নজরুল ইসলাম দুলাল বিশ্বাস। হাই ও দুলাল বিশ্বাসের মধ্য নির্বাচনী লড়াই জমে উঠবে। অন্যদিকে ঝিনাইদহ-২ আসনে নৌকার তাহজীব আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু। নেত্রকোনা-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। নেত্রকোনা-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করবেন সাবেক সংসদ সদস্য মনজুর কাদের কৌরাইশী ও ইফতিখার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু। একইভাবে সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান এমপি ও মনোনয়নবঞ্চিত ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন এবার দলের মনোনয়ন পেয়েছেন নেত্রকোনা-৫ আসন থেকে। প্রথমবার মনোনয়ন পাওয়া এই কেন্দ্রীয় নেতার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, যুবলীগ নেতা মাজহারুল ইসলাম সোহেল ও পূর্বধলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন। যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। তাকে চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি ইয়াকুব আলী, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু ও সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের ছেলে হুমায়ুন সুলতান। ঢাকা-১৯ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য তৌহিদ জং মুরাদ এবং আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। নীলফামারী-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন যুবলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন পাভেল।

রাজশাহী-৬ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রায়হানুল হক। হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী। ওই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম। জামালপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আরও দুই নেতা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক পৌর মেয়র জিয়াউল হক জিয়া এবং ঢাকার বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শাহজাহান আলী ম ল। কুমিল্লা-১১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা তমিজ উদ্দিন ভূঁইয়া সেলিম। রাজশাহী-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন টানা পঞ্চমবার নৌকার প্রার্থী হওয়া বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী। সেই আসনে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান আখতার।

সিলেটে কঠিন হিসাব

চট্টগ্রামে অনড় স্বতন্ত্র

 

সর্বশেষ খবর