শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ২১:৩৮

হেয়ার মাস্কে ঝলমলে চুল

হেয়ার মাস্কে ঝলমলে চুল
♦ ছবি : ফ্রাইডে

রুক্ষতা, খুশকি এবং মাথার ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যাওয়া এমন নানা সমস্যা আমাদের জন্য খুবই সাধারণ বিষয়। যদিও এমন সমস্যার সমাধানে নিয়মিত তেল দেওয়া এবং শ্যাম্পু ব্যবহার  যথেষ্ট নয়। এ ছাড়া চুল পড়া, চুলের কালার প্রবলেম এবং চুলের জৌলুসতা হারানো ইত্যাদি কারণ তো আছেই! সব মিলিয়ে চুলে পুষ্টি জোগানো এবং জৌলুসতা ফিরিয়ে আনতে হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

কসমোলজিস্টরা কোনো বিশেষ সমস্যা যেমন- চুল পড়া, রুক্ষতা, খুশকি, মাথার ত্বক তৈলাক্ত বা শুষ্ক হয়ে যাওয়া, প্রাণহীন চুলে জৌলুসতা ফেরানো এবং মজবুত চুল ফিরে পেতে হেয়ার মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যদিও হেয়ার মাস্ক সাধারণত পারলার বা বিউটি ক্লিনিক্যালি ট্রিটমেন্টের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চাইলে কসমোলজিস্টের পরামর্শে ঘরোয়া টোটকা হিসেবে হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

 

কসমোলজিস্টরা সাধারণত বাসায় হেয়ার মাস্কের সাজেশন দেন না। আর যদি সাজেশন দিয়েও থাকেন তবে তা অবশ্যই স্কিন প্রফেশনাল ব্র্যান্ডের হতে হবে। কেননা, বাজারের লোকাল মাস্ক ব্যবহারে চুলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কসমোলজিস্টদের পরামর্শে সব সময় ভালো ব্র্যান্ডের মাস্ক ব্যবহার করবেন। কসমোলজিস্টরা সাধারণত কয়েকটি রেজিস্টার্ড হেয়ার মাস্ক; যেমন, কিউনি, ল-রিয়াল, স্পেসিফিকস, ম্যাটরিক্স ইত্যাদি ব্র্যান্ডের হেয়ার মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

 

ঘরোয়া টোটকায় হেয়ার মাস্ক এবং পারলারে তৈরি হেয়ার মাস্কের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। ঘরোয়া টোটকা তৈরিতে সাধারণত মৌসুমি ফল এবং ভেষজ উপাদান ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যাতে উপাদানের পরিমাণে অনেক সময় গরমিল হতে পারে। পারলার বা বিউটি ক্লিনিকে ব্যবহৃত মাস্কগুলোর সাধারণত নানা প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি। যেখানে প্রাকৃতিক উপাদানের পরিমাপ থাকে সঠিক পরিমাপে। যা হেয়ার পোরস ওপেন করে হেয়ার ট্রিটমেন্টে সাহায্য করে থাকে।

 

পারলারে গিয়ে চুলে বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট করানো বেশ খরচসাপেক্ষ। তাই ঘরে বসেই তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে কার্যকরী হেয়ার মাস্ক।

 

টকদই-মেথির হেয়ার মাস্ক

টকদই প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি এবং প্রোটিণের উৎস। মেথিতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং বি-কমপ্লেক্স। যা চুলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকে। তবে যাদের অতিরিক্ত খুশকির সমস্যা তারা মাস্কটি ব্যবহার করবেন না। ২ চা চামচ মেথি পেস্ট, ২ চা চামচ টকদই এবং ১টি ডিমের সাদা অংশ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। প্যাকটি মাথার স্ক্যাল্প এবং চুলে লাগিয়ে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

 

কলা-অ্যাভোকাডোর হেয়ার মাস্ক

পাকা কলা এবং অ্যাভোকাডোতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আর নারিকেল তেল চুলকে আরও মসৃণ করে তুলবে। একটি পাকা অ্যাভোকাডো ও একটি পাকা কলা ভালোভাবে চটকিয়ে ২ চা চামচ নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি পুরো চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে ভালোভাবে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

 

স্ট্রবেরি-ডিমের কুসুমের হেয়ার মাস্ক

প্রাণহীন চুলে জৌলুসতা ফেরাতে স্ট্রবেরি দারুণ। আর ডিমের কুসুম চুলকে মজবুত করে। এক কাপ স্ট্রবেরি পিউরি, একটি ডিমের কুসুম এবং তিন টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ব্লেন্ডারে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালোভাবে মাস্কটি লাগিয়ে হেয়ার ক্যাপ পরে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে কন্ডিশনার লাগিয়ে ৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। এরপর আবার শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।

  শোভন সাহা

কসমোলজিস্ট, শোভন মেকওভার


আপনার মন্তব্য