Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:২০

দূষণ দিনের পরিচর্যা

ইট-কংক্রিটের শহুরে জীবন মানেই ধুলোবালি, ধোঁয়া আর বাতাসের নানা দূষণ। তাই বলে জীবন তো থেমে থাকে না। নিয়মিত পরিচর্যা আর সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে দূষণ এড়ানো সম্ভব।

দূষণ দিনের পরিচর্যা
মডেল: মেহজাবিন - ছবি: ফ্রাইডে

শহুরে জীবন মানেই যানবাহনের ধোঁয়া এবং ধুলোবালি। আর তাতেই আমাদের ত্বক এবং চুল হারাচ্ছে স্বাভাবিকতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের চারপাশের ধূলিকণা, বালিকণা, নানা রকমের গ্যাস এবং যানবাহনের ধোঁয়া ইত্যাদি দিন দিন শহুরে বাতাসকে দূষিত করে তুলছে। তাতে শুধু পরিবেশেরই ক্ষতি হচ্ছে না, ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে আমাদের ত্বক ও চুল।

 

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের ত্বক এবং চুলের ৮০ ভাগ সমস্যার কারণ পরিবেশের দূষণ। যানবাহনের ধোঁয়া, ধুলোবালি, বাতাসের ধূলিকণা এবং ক্ষতিকারক ইউ-ভি রশ্মি আমাদের ত্বক এবং চুলের ঠিক কতটুকু ক্ষতিসাধন করছে তা কারও কাছেই অজানা নয়। আর আমরা দিন শেষে ঘরে ফিরে কেবল ফেসওয়াশ আর শ্যাম্পুতেই নির্ভর করে থাকি। যদিও তা সাময়িক দূষণ দূর করলেও তা ত্বকের সুস্থতায় যথেষ্ট নয়। আর দূষণ এড়িয়ে জীবনযাপন করা এক কথায় অসম্ভব। তাই প্রতিদিনই সময় করে ত্বক এবং চুলের পরিপূর্ণ কেয়ার নেওয়া উচিত।

 

দূষণ কীভাবে ক্ষতিসাধন করছে

প্রয়োজনে হোক বা বেড়ানোর খাতিরেই, আমরা যখন বাইরে বোরোই তখন আমাদের চুলে নানা রকম ধুলোবালি এসে জমে এবং সেটা যদি আমরা ঠিকমতো পরিষ্কার না করি তাহলে এই ধূলিকণা ধীরে ধীরে মাথার স্ক্যাল্পে চলে যায়। এতে মাথার স্ক্যাল্পে ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকে। ফলে নানা হেয়ার ফল, হেয়ার ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঠিক একইভাবে বাইরের দূষণ আমাদের ত্বকেরও ক্ষতি করে থাকে। ফলে আমাদের ত্বকে ধুলোবালি জমে ব্রণ, র‌্যাশ এবং চুলকানির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া বায়ুম-লের ওজোন স্তরে থাকা ফোটোকেমিক্যাল স্মগ ত্বকের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ই-এর ঘাটতি সৃষ্টি করে। ফলে ত্বকের বয়সও বাড়ে দ্রুত। পাশাপাশি ত্বকের ক্ষতিপূরণের অক্ষমতা চলে আসে। আর তাতেই ত্বকে বলিরেখা, দাগ-ছোপ ইত্যিাদির মতো সমস্যা দেখা দেয়।

 

দূষণের প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচর্যা

বাইরের দূষণ থেকে চুল ভালো রাখতে চুল পরিষ্কার রাখতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে প্রতিদিনই শ্যাম্পু করতে হবে। অনেকে মনে করেন, প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুল নষ্ট হয়ে যায়। ধারণাটি ভুল। মাথার স্ক্যাল্প এবং হেয়ার পরিষ্কার রাখাই মূল উদ্দেশ্য। আর সেটা করতে পারলে আমাদের চুলের ভালোভাবে গ্রোথও বাড়বে। তবে শ্যাম্পু করার আগে চিরুনি বা ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে মাথা আঁচড়িয়ে নিলে চুলের অতিরিক্ত ধুলোবালি ঝরে যায়। আর শ্যাম্পু শেষে অবশ্যই কন্ডিশনার বা সেরাম ব্যবহার করতে হবে। আর মুখত্বকের যত্নে বাইরে থেকে ফিরেই প্রচুর পানি দিয়ে মুখত্বক ধুয়ে নিতে হবে। ঘন ঘন বাইরে যাওয়া হলে ঘাম আর ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে ওয়েট টিস্যু ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিন তিনবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। তবে অতিরিক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার আবার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই তিনবারের বেশি ফেসওয়াশ ব্যবহার মোটেও উচিত নয়। মুখ ধোঁয়ার পর অবশ্যই সানব্লক, ময়েশ্চারাইজ ক্রিম লাগিয়ে নিতে হবে। আর রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অবশ্যই মুখত্বক ডিপ ক্লিনজিং করে নিতে হবে।

 

ঘরোয়া টোটকা

দূষণ থেকে ত্বক ও চুল সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজন সঠিক কেয়ার। এ ক্ষেত্রে এক্সপার্টের পরামর্শনুসারে রূপরুটিন তৈরি করে নিন। বাইরের দূষণে ধীরে ধীরে চুল হারিয়ে ফেলে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। আর চুলের যত্নে ক্ষয়ক্ষতি বুঝে ঘরোয়া ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। যদি চুলে খুশকি হয় তবে পিয়াজের রস বা লেবুর রস লাগাতে পারেন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শে চুলের জন্য ক্লিনিক্যালি ট্রিটমেন্ট করাতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। কারণ আমাদের চুলে সরাসরি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে অনেক সময় সাইড ইফেক্ট দেখা দেয়। এ ছাড়াও বাইরের দূষণে মুখত্বকে ব্রণ, র‌্যাশের সমস্যাই বেশি দেখা দেয়। তাই ত্বক সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। আর মুখত্বকের ঘরোয়া টোটকা হিসেবে মুলতানি মাটির প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে নিলে দারুণ উপকার পাবেন। এই প্যাকটি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ভালো কোনো নাইট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। কেননা, এটা আমাদের সারাদিনের নানা ধকলগুলো সামলে ত্বক রিপেয়্যার করতে সাহায্য করবে।

 

জেনে রাখুন

►  দূষণরোধে অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ প্রসাধনী কিনুন। ভিটামিন ই, সি, স্কোয়ালিন ইত্যাদি যুক্ত প্রসাধনীতে উপকার পাবেন।

►  ফেসওয়াশের সঙ্গে স্ক্র্যাবিং প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্লিনজিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং রুটিন মেনে চলুন।

►  ভারী মেকআপ এড়িয়ে চলুন।

►  বাইরে বেরোলে স্কার্ফ জড়িয়ে নিন। ক্ষতি কম হবে। রোদ থেকে বাঁচতে সম্ভব হলে ছাতা ব্যবহার করুন।

 

লিখেছেন : শোভন সাহা (কসমোলজিস্ট)


আপনার মন্তব্য