শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২২:০৯

ত্বকচর্চা

নারী বাইকারদের রূপচর্চা

নূরজাহান জেবিন

নারী বাইকারদের রূপচর্চা
► মডেল : রুমা ► ছবি : মনজু আলম
স্কুটার রাস্তায় সময় বাঁচায়, আনে স্বস্তি। তবে আছে দুর্ভোগও। একদিকে রাস্তার ধুলা-ময়লা আর দূষিত বাতাস, অন্যদিকে হেলমেটের ভিতরের বাড়তি উত্তাপ। নারী বাইকারদের ত্বক ও চুল তো স্বাভাবিকতা হারাবেই! রইল পরামর্শ...

সময় পরিবর্তনশীল। এই তো বেশ কিছুকাল আগেও কেবল পুরুষ বাইকারদের চালাতে দেখা যেত! কিন্তু আজকাল পুরুষের পাশাপাশি নারী বাইকারদেরও রোড কাঁপাতে দেখা যায়। নিজের প্রয়োজন তো আছেই, রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলোর বদৌলতে অনেক নারী নিয়মিত বাইকে লিফটও নিচ্ছেন। অনেকে আবার রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে উপার্জনের পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। আজকের নারীদের দৈনন্দিন চলাফেরায় স্কুটার বা বাইক সময় বাঁচায়, এনে দেয় স্বস্তি।

তবে এতেও যে সামান্য অস্বস্তির বিষয় আছে! রাস্তার ধুলো ময়লা আর দূষিত আবহাওয়া আমাদের ত্বক ও চুলের ক্ষতি করে। আর সেখানে যদি হয় স্কুটার বা বাইক চালক হলে তো কথাই নেই। ক্ষতির পরিমাণটা দ্বিগুণ হয়। কারণ, দূষিত বাতাস আর ধুলো ময়লা তখন সরাসরি মুখে এসে লাগে। দূষিত এই নগরে নারী বাইকাররা কীভাবে নিজের ত্বক আর চুলের যত্ন  নেবেন সে দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

 

ত্বকের যত্নে করণীয়

যারা নিয়মিত বাইক চালান তাদের ত্বকের যত্ন ঠিকভাবে নেওয়া উচিত। প্রথমে নজর দিতে হবে রোদের তাপ সুরক্ষায়। নারী বাইকারদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন স্কুটার চালানোর সময় বাতাস লাগে বলে রোদের তাপ থেকে ত্বক পুড়ছে না। বিষয়টা একদমই উল্টো। ঠিক সূর্যের নিচে দাঁড়ালে যেমন করে ত্বক পুড়ত, ঠিক তেমনটাই পোড়ে। তাই প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। শুধু হাত-পা এবং মুখত্বক নয়, নজর দিতে হবে গলা আর কানের দিকেও। কারণ, শুধু মুখ নয়, ত্বকের অনেকখানিই সূর্যের তাপে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বাইক চালানোর সময়। ঠোঁটে নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করতে হবে। বাইক চালিয়ে কোথাও যাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে ভালো মানের ক্লিনজিং জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। দিন শেষে আসায় ফিরে ভালোভাবে ত্বক এক্সফোলিয়েন্ট করা দরকার। তবে তা কিন্তু দিনের বেলায় নয়। কেননা, যারা নিয়মিত বাইক চালান, তাদের জন্য এটি তেমন উপকারী নয়। কারণ, এ সময় এটি সূর্যের তাপে ত্বক পোড়ানোতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই রাতে বাড়ি ফিরে ভালোভাবে স্ক্র্যাবিং করতে হবে। সারা দিনের ধুলোবালি সরে গিয়ে ত্বক হবে কোমল এবং সজীব। যদি দূরে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সে জায়গার আবহাওয়ার বিষয়ে আগেই খোঁজখবর নেওয়া জরুরি। সে অনুযায়ী ত্বক ও চুলের যত্নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।

 

চুলের যত্নে করণীয়

যারা নিয়মিত বাইক চালান তাদের অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করা উচিত। এতে শুধু নিজের নিরাপত্তা নয়, পাশাপাশি চুলও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে। কারণ, বাইরের ধুলোবালি সর্বদা চুলের ক্ষতির অন্যতম কারণ। এ ছাড়া হেলমেটের ভিতরের উষ্ণতার কারণে মাথার ত্বক থেকে ঘাম নিঃসৃত হয়। তা চুলের সঙ্গে মিশে যায়। তখন দেখা দেয় তেল চিটচিটে ভাব। আছে রোদ-বৃষ্টির প্রকোপ। সব মিলিয়ে নারী বাইকারদের চুল দ্রুত ময়লা হয়। তখন চুলে দেখা দেয় খুশকি। তাই অন্য বাইকারদের চেয়ে নারী বাইকারদের চুলের যত্ন নিতে হবে বিশেষভাবে। এ ক্ষেত্রে সর্বদা চুল পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন। বাইক চালানো শেষে সঙ্গে সঙ্গে হেলমেট খুলে ফেলতে হবে। চুল ঘেমে গেলে বাতাসে শুকানো দরকার। তারপর ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অয়েল ম্যাসাজ নেওয়া দরকার। নারকেল, আমলা, আমন্ড, অলিভ, ক্যাস্টর অয়েল যে কোনো তেল গরম করে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুলে নিয়মিত পুষ্টির জোগান হবে। সম্ভব হলে এক টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে মাথার তালুতে লাগাতে হবে। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। যারা নিয়মিত হেলমেট পারেন, তারা সপ্তাহে অন্তত একদিন প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন। উপকার পাবেন।

 

প্রয়োজনীয় পরামর্শ

* বাইক চালানোর সময় ডার্ক-টিন্টেড এবং বড় গ্লাসের সানগ্লাস বা গগোজ পরার অভ্যাস জরুরি। এতে মুখ ও চোখের বড় একটা অংশ ঢাকা থাকবে এবং রিংকেল পড়া থেকে চোখকে বাঁচানো যাবে।

* বাইক চালানোর সময় চুল বেঁধে নিতে হবে। তবে খুব শক্তভাবে চুল বাঁধা যাবে না। তাহলে রক্তসঞ্চালনে অসুবিধা হতে পারে। লম্বা চুল ক্লিপ বা ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে হেলমেট পরতে হবে। স্কার্ফও ব্যবহার করা যেতে পারে।

* হেলমেট সবসময় পরিষ্কার রাখা জরুরি। একজনের হেলমেট অন্যের ব্যবহার করা উচিত নয়। মাথার ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে। ব্যবহারের আগে ভিতরে পরিষ্কার সুতি কাপড় রেখে নেওয়া যেতে পারে।  যখন ব্যবহৃত হবে না, তখন পরিচ্ছন্ন এবং বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় হেলমেটটি সংরক্ষণ করতে হবে।


আপনার মন্তব্য