শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০২১ ১৬:৫৯
প্রিন্ট করুন printer

করোনাভাইরাস : স্বাস্থ্য সেবার সক্ষমতা বাড়াতে হবে

ডা. আরিফ মাহমুদ

করোনাভাইরাস : স্বাস্থ্য সেবার সক্ষমতা বাড়াতে হবে
ডা. আরিফ মাহমুদ
Google News

দৈনিক শনাক্তের বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে এবং বিশ্বে আমাদের অবস্থান চতুর্থ। বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত রোগীর প্রতি ১০০ জনের আটজন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। যেটা এপ্রিল মাসে ছিল ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশে এই নাজুক অবস্থার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ :

১। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়া।
২। সঠিক নিয়মে মাস্ক না ব্যবহার করা, সামাজিক মেলামেশা।
৩। লকডাউন না মানা।
৪। টিকা গ্রহণ করায় অনীহা।

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখন দু’টো বিষয়ে নজর দিতে হবে :

প্রথমত, হাসপাতালে সক্ষমতা বাড়ানো; বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে বেড পাচ্ছে না। আইসিইউসহ আইসোলেশন বেডের সংকট চরমে, ফিল্ড হাসপাতালের ঘোষণা এসেছে। হাসপাতালের বেড, জনবল বৃদ্ধি খুবই জরুরি ভিত্তিতে করতে হবে। ১১ জুলাই পর্যন্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, আইসিইউ বেডে রোগী ভর্তির সংখ্যা ৪৫ থেকে বেড়ে ৭৬ শতাংশ পৌঁছেছে। 

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি কমাতে না পারলে আগামীতে রোগীকে হাসপাতালে আইসিইউ সেবা দিতে না পারার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সম্ভাবনা প্রবল।

দ্বিতীয়ত, সঠিক নিয়মে আমাদের সবাইকে মাস্ক পরতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে  অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। দেশে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জনগণের প্রতি আহ্বান থাকবে; করোনার টিকা গ্রহণ করার জন্য। বাংলাদেশের শতকরা ৯৬ ভাগ জনগণ এখনো টিকা কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

ঈদুল আজহা আসন্ন, জনগণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী গতিতে নতুন মাত্রা সংযোজন করতে পারে। এ সময় করণীয় :  

১। ডিজিটাল প্লাটফর্মে কোরবানির পশুর ক্রয়-বিক্রয়।
২। সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত স্থানে কোরবানি সম্পন্ন করা।
৩। মাংস পরিবহন, বিতরণ ও সংরক্ষণ করার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

লেখক : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ডেপুটি ডিরেক্টর (মেডিকেল সার্ভিসেস), এভারকেয়ার হসপিটাল, ঢাকা।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক