Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১৫

ব্রণের কিছু কারণ ও প্রতিকার

ব্রণের কিছু কারণ ও প্রতিকার

যৌবনের একটি অবাঞ্ছিত সমস্যার নাম ব্রণ। সুন্দর মুখশ্রীর ওপর ব্রণ যদি জাপটে ধরে, তাহলে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক, কারওই মনে যন্ত্রণার কমতি থাকে না। ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সে এটি বেশি হয়। তবে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত এটি হতে দেখা যায়। টিনএজারদের মধ্যে শতকরা ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রেই কম অথবা বেশি এটি হয়ে থাকে। ২০ বছর বয়সের পর থেকে এটি কমতে থাকে। সাধারণত মুখে; যেমন— গাল, নাক ও কপালে হতে দেখা যায়। শরীরের উপরের অংশ ও হাতের উপরেরও হতে পারে।

কারণ : বংশগত প্রভাব এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। স্বাভাবিকভাবেই লোমের গোড়ায় একটি ব্যাকটেরিয়া থাকে, যার নাম প্রোপাওনি ব্যাকটেরিয়াম একনি। বয়োসন্ধিকালে এড্রোজেন হরমোনের প্রভাবে সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সেবামের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এই সেবাম থেকে ফ্রি ফ্যাটি এসিড তৈরি করে লোমের গোড়ার উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া। ফলে আমাদের লোমের গোড়ায় প্রদাহের সৃষ্টি হয় এই ফ্যাটি এসিডের প্রভাবে। এর পাশাপাশি জমা হয় লোমের গোড়ায় কেরাটিন নামক পদার্থ। ফলে সেবাসিয়াস গ্রন্থিপথ বন্ধ হতে থাকে এই কেরাটিন, লিপিড আর মেলানিন পদার্থ দিয়ে যা ব্ল্যাক হেড বা ‘হোয়াইট হেড’ হিসেবে দেখা দিয়ে থাকে।

ব্রণের সঙ্গে খাওয়ার সম্পর্ক : আমাদের মধ্যে অনেকের ধারণা তৈলাক্ত খাবার খেলে বুঝি ব্রণ হয়, কথাটি সত্য নয়। আসলে খাওয়ার সঙ্গে ব্রণের কোনো সম্পর্ক আছে বলে জানা যায় না।

ব্রণ ও ক্রিম : যেসব ক্রিমে তৈলাক্ত উপাদান থাকে সেসব ক্রিম যাদের মুখে বেশি ব্রণ হয় তাদের ব্যবহার করা উচিত নয়। আমাদের সব সময়

মনে রাখতে হবে ক্রিম যদি তৈলাক্ত হয় তবে তা ব্রণের রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না।

চিকিৎসা পদ্ধতি : কালক্ষেপণ না করে রোগীর আক্রান্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হয়। তা হতে পারে মলম থেকে শুরু করে খাওয়ার জন্য নির্ধারিত অ্যান্টিবায়োটিক অথবা রেটিনয়েড জাতীয় ওষুধ।

ডক্সিসাইক্লিন : এক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত ডক্সিসাইক্লিন একটি চমৎকার ওষুধ। এ ছাড়া এরিথ্রোমাইসিন খেয়ে যদি ব্যাকটেরিয়া রেজি-স্ট্যান্ট হয় সে থেকে ডক্সিসাইক্লিন কার্যকর ওষুধ।

এরিথ্রোমাইসিন বা ক্ল্লিনডামাইসিন : গর্ভবতী মহিলারা যখন টেট্রাসাইক্লিন খেতে পারে না তখন এরিথ্রোমাইসিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ক্লিনডামাইসিনও অন্য ওষুধের মতো কার্যকর।

হরমোন থেরাপি : মহিলাদের ক্ষেত্রে সেবামের নিঃসরণ বেড়ে যায়, যদি ওভারি থেকে এন্ডোজেন হরমোন তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে কম ডোজের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি মুখে খাওয়া যাবে যাতে থাকতে হবে নন-এন্ডোজেন প্রজেসটিন যা ভূমিকা রাখতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নেওয়া যাবে না।

স্লাইরোনোল্যাকটন : এন্টি-এন্ডোজেনিক উপাদান; যেমন— স্লাইরোনোল্যাকটন সেবাম উৎপাদন কমিয়ে দিতে সক্ষম। ফলে এটি মহিলাদের ব্রণের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর ওষুধ। তবে এটিও কোনো অবস্থায়ই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়।

আইসোট্রিটিনয়েন : যে কোনো ধরনের ব্রণের ক্ষেত্রেই এর ব্যবহারে সফলতা আসে। অন্যদিকে মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে দারুণ সতর্কতার প্রয়োজন। তাই মনে রাখতে হবে প্রাথমিক অবস্থায় ব্রণের চিকিৎসা নেওয়া উত্তম। অন্যথায় জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ প্রতিকার নয় এসব ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম।

ডা. দিদারুল আহসান, চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ, আলরাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য