Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:১২

ডেঙ্গু রোগীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা

ডেঙ্গু রোগীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা

ডেঙ্গু নামটা শুনলেই এখন সবাই ভয় পেয়ে যায়! ভয় পাওয়ারই কথা, কারণ এই ভাইরাস জ্বরে ইতিমধ্যে অনেক লোক মারা গেছেন। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে। যেকোনো রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

ডেঙ্গু কেন হচ্ছে, এটা আমাদের শরীরে কি কি ক্ষতি করছে এই বিষয়গুলো সবার আগে আমাদের জানতে হবে। কারণ এটা এখন কয়েকটি সমস্যার সৃষ্টি করছে আমাদের শরীরে। ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে হবে। আর আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হলে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে হবে। অ্যান্টিবডি তৈরিতে যে খাবারগুলো সাহায্য করছে সেগুলো খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে বেশি করে। এই রোগে যারা অলরেডি আক্রান্ত হয়ে গেছেন তাদের যেই সমস্যাগুলো হচ্ছে, সেগুলো দ্রুত ঠিক করতে হলেও আমাদের খাবারের মাধ্যমে করতে হবে। ডেঙ্গুতে রোগীর লিভার আক্রান্ত হয় যেখানে শরীরের জন্য ভারী, তৈলাক্ত এবং মসলাদার খাবার হজম করা কঠিন হয়ে যায়। জ্বরের সময় রোগীদের ক্ষুধা খুব কমে যায়। ডেঙ্গু সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করার জন্য রোগীদের সঠিক খাবার খাওয়ার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও উন্নত করতে হবে। রোগীদের এবং তাদের পরিবারের উচিত ডেঙ্গুজ্বরের সময় এবং পরে ডায়েট সম্পর্কে যত্ন নেওয়া উচিত যা সুস্থ করতে এবং পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। ভিটামিন এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ কিছু খাবার যা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কাজ করবে।

ডেঙ্গুর জন্য ডায়েটে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা উচিত : সহজে হজমযোগ্য খাদ্য যেমন সিদ্ধ খাবার, সবুজ শাকসবজি, কলা, আপেল, স্যুপ, দই এবং ভেষজ চা। ইলেক্ট্রোলাইট পুনরুদ্ধার করতে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করতে প্রচুর তরল। যেমন তাজা ফলের রস ডাবের পানি, ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস)। ভিটামিন সি যুক্ত খাবার গ্রহণ ডেঙ্গুজ্বরের প্রাকৃতিক নিরাময় হিসেবে কাজ করে। কারণ এটি দ্রুত নিরাময় এবং পুনরুদ্ধারের জন্য অ্যান্টিবডিগুলোকে উৎসাহ দেয়। যেমন আমড়া, পেঁপে এবং কমলার রস। খাদ্য যা প্লাটিলেট গণনা এবং রক্তের গণনা ডালিমের রস বা কালো আঙ্গুরের রস, সবুজ শাকসবজি (সিদ্ধ), তাজা ফলমূল বৃদ্ধি করে। আমাদের জানতে হবে কোন খাবারে কী কী পুষ্টি উপাদান আছে, আর এই পুষ্টি উপাদান আমাদের রোগ প্রতিরোধে কীভাবে সাহায্য করছে। 

এবার জেনে নেই খাবারগুলো কেন খাব...

ডেঙ্গুর কারণে আমাদের শরীর থেকে প্লাজমা লিকেজ হয় এবং ডায়রিয়া হয়, যার কারণে প্রচুর পরিমাণে তরল যেমন কমলার রস, ডাবের পানি, আদা পানি এবং স্যালাইন পানি (ওআরএস) খেতে হবে। যেন শরীর হাইড্রেটেড থাকে। এছাড়াও আদা জল ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের এই রোগের প্রভাব দূর করতে প্রয়োজন। আদা জল বমি বমিভাবের প্রভাবগুলি হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে। ডেঙ্গুতে প্রায়শই ডিহাইড্রেশন হতে পারে এবং ডাবের পানি আপনার শরীরের তরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম সেরা উপায়। পানির প্রাকৃতিক উৎস, প্রয়োজনীয় খনিজ এবং ইলেক্ট্রোলাইট হওয়ায় নারিকেল পানি ডেঙ্গু রোগীর ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপূরক।

এই রোগের লক্ষণগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য স্যুপ একটি দুর্দান্ত উপায়। কারণ এটি কম মসলায় হজম এবং অন্ত্রের গতির জন্য ভালো। ডেঙ্গু রোগীদের বিশেষত তৈলাক্ত বা মসলাদার খাবার এড়ানো উচিত।

শাকসবজি এবং ফলের রস, গাজর ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে যা ডেঙ্গুর রোগীর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এটি কোলাজেন উৎপাদনকে ট্রিগার করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। কমলা, আনারস, স্ট্রবেরি, পেয়ারা এবং কিউই জাতীয় ফল লিম্ফোসাইটের উৎপাদন বাড়ায় যা ভাইরাল সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। আপনি যদি ডেঙ্গুতে ভুগছেন তবে ফলের রস অবশ্যই থাকা দরকার। এছাড়া পেঁপে ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে দ্রুত প্লাটিলেট উৎপাদন ট্রিগার করে। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো ডেঙ্গু ব্লুজকে পেটানোর জন্য কয়েক বার পেঁপে পাতা কুঁচি করে এবং এর রস প্রতিদিন দুইবার পান করা উচিত।

কী কী খাবার রোগীকে এড়িয়ে চলতে হবে:

তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। ডেঙ্গুর অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো পেটের সমস্যা। নিশ্চিত করুন যে আপনি তৈলাক্ত এবং মসলাদার খাবার খাওয়া চালিয়ে যাবেন না। কারণ এটি কেবল আপনার অবস্থার আরও খারাপ করবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তি স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত এবং বায়ুযুক্ত পানীয় এড়ানো উচিত, কাঁচা শাকসবজি একেবারেই খাবেন না।

পরামর্শ: ১. হালকা ডায়েটসহ প্রচুর পরিমাণে তরল খান। ২. পরামর্শ সম্পূর্ণ বিছানা বিশ্রাম।

৩. প্ল­াটিলেট গণনা এবং হেমাটোক্রিট নিরীক্ষণের জন্য বারবার রক্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ৪. প্লাজমা লিকেজ প্রতিরোধ করার জন্য সময়মতো ব্যবস্থা বা বিকল্প রাস্তা বের করে রাখুন। ৫. জ্বর বা ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন বা কোনো এনএসএআইডি দেবেন না। কারণ এস্পিরিন রক্ত পাতলা এবং এনএসএআইডি প্ল­াজমা লিকেজ বাড়িয়ে তোলে। তাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

কথায় আছে প্রতিকার নয় প্রতিরোধ উত্তম।

লেখক: সামিয়া তাসনিম, পুষ্টিবিদ, প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট, বনানী, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য