শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৪৭

প্রেসক্রিপশন

হৃদরোগের আস্তানা অলস শরীর

হৃদরোগের আস্তানা অলস শরীর

শরীরে চর্বি জাতীয় পদার্থ জমা হতে হতে শারীরিক ওজন বৃদ্ধি পেয়ে মানুষ মোটা হওয়াসহ মেদভূড়ি বৃদ্ধি পেতে থাকে। একবার মেদভুঁড়ি বৃদ্ধি পেয়ে মানুষ মোটা হয়ে গেলে তা পরিশ্রম করার ক্ষমতা আরও কমিয়ে দেয়। ফলে মানুষ আরও অলস আরও মোটা হতে থাকে এবং এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে। কায়িকশ্রমের অভাবে যেমন ডায়াবেটিস সৃষ্টি করে, তেমনি ডায়াবেটিস চিকিৎসা গ্রহণ করে রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে অলসতা বাধার সৃষ্টি করায় ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। কায়িকশ্রমের অভাবে রক্তে দুষ্ট কোলেস্টেরলের (টিসি, এলডিএল ও টিজি) মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং বন্ধু কোলেস্টেরলের (এইচডি এল) মাত্রা কমে যায়। ফলে আমাদের রক্তনালিতে স্তূপাকারে কোলেস্টেরল (চর্বি) জমা হতে হতে রক্তনালিতে ব্লকের সৃষ্টি করে। হৃৎপিন্ডের রক্তনালিতে ব্লকের ফলে মানুষ হার্ট অ্যাটাক ও ইসকেমিক হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে থাকে। কায়িকশ্রমের অভাবে সৃষ্ট রক্তনালিতে কোলেস্টেরল বা চর্বি জমা হওয়া,   রক্তের সুগার বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি কারণে বহুমুখী প্রভাবের ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ব্যক্তি হাইপ্রেসার বা উচ্চরক্তচাপ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। কায়িকশ্রমের অভাবে সৃষ্ট ডায়াবেটিস, রক্তে উচ্চমাত্রা কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন আধিক্য, মেদভুঁড়ি, রক্তনালিতে ব্লক বা রক্ত সরবরাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদির সমন্বয়ে হৃৎপিন্ডের ওপর অশুভ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং তার সঙ্গে হৃৎপিন্ডের রক্তনালিতে ব্লক হয়ে জটিল ধরনের হৃদরোগ সৃষ্টি করে। ফলে মানুষ অনেক অল্প বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে মৌলিক ধারণা থাকা স্বাস্থ্য সচেতনতার পূর্বশর্ত। প্রাথমিক অবস্থায় হৃদরোগের লক্ষণসমূ হ শুধু পরিশ্রমকালীন সময়েই পরিলক্ষিত হয় এবং পরিশ্রম বন্ধ করে দিলে বা বিশ্রাম গ্রহণ করলে অতিদ্রুত (কয়েক মিনিট) তা সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয়ে যায়। হৃদরোগের প্রাথমিক উপসর্গ হলো পরিশ্রমে যেমন- হাঁটাহাঁটি, সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাস-প্রশাস ঘন হয়ে আসা বুক ব্যথা ইত্যাদি।

ডা. এম শমশের আলী (কার্ডিওলজিস্ট) সিনিয়র কনসালটেন্ট (প্রা.), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


আপনার মন্তব্য