শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ মার্চ, ২০২০ ২১:৫০

কাশছেন নারী যাত্রী, বাস নিয়ে সোজা হাসপাতালে চালক!

অনলাইন ডেস্ক

কাশছেন নারী যাত্রী, বাস নিয়ে সোজা হাসপাতালে চালক!

বাসের এক নারী যাত্রী কাশছিলেন। করোনাভাইরাসের আবহে বিষয়টি নিয়ে কোনো রকমের ঝুঁকি নেননি বাসচালক। তাই তিনি বাস নিয়ে সোজা চলে যান পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে তিনি বাস নিয়ে গেলেও, ওই যাত্রী হাসপাতালে যেতে রাজি হননি। 

প্রথমে তিনি বাস থেকে নামতেও চাননি। বসেছিলেন বাসের ভেতরে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই যাত্রীকে নিয়ে বেলেঘাটা আইডি চত্বরে হুলস্থুল পড়ে যায়। এরপর বেলেঘাটা থানার পুলিশ এসে তাকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ওই বাসচালক জানিয়েছেন, বুধবার তিনি একটি দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এসবিএসটিসি) বিশেষে বাসে করে অন্য একটি রাজ্যের কিছু শ্রমিক এবং আসানসোলের কয়েক জন বাসিন্দাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। বেলঘরিয়া ডিপোর দুটো বাস আসানসোলে ওই যাত্রীদের নামানোর পর এদিন সকালে কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। সেই মতো এ দিন সকাল ৮টা নাগাদ চালকেরা বাস নিয়ে রওনা হন আসানসোল থেকে। তার আগে বরাকর থানার পুলিশ এসে এক নারীকে একটি বাসে তুলে দেয়। ওই থানার পুলিশকর্মীরা বাসচালককে অনুরোধ করেন, ওই নারীর বাড়ি কলকাতার বেহালায়। তাকে যেন ধর্মতলায় তিনি নামিয়ে দেন। বাসচালক ওই যাত্রীকে তুলে নিয়ে বিষয়টি এসবিএসটিসি-র এক কর্তাকে জানিয়েও রাখেন।

কিন্তু এ দিন দুপুরে ধর্মতলায় ওই বাস পৌঁছানোর পর বিপত্তি বাধে। ওই নারী যাত্রী কিছুতেই নামতে চান না। বাসচালক জানিয়েছেন, আসানসোল থেকে ধর্মতলা আসার সময় ওই নারী যাত্রী গোটা পথটা কাশতে কাশতে এসেছেন। ধর্মতলায় নামতে না চাওয়ায় বাসচালক আবার সেই এসবিএসটিসি-র কর্তাকে জানান। খবর দেওয়া হয় ময়দান থানায়। নারী যাত্রী যে হেতু কাশছিলেন, তাই ময়দান থানা তাকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

এর পর বাসচালক বাস নিয়ে পৌঁছান বেলেঘাটায়। কিন্তু, সেখানে গিয়েও তাকে বাস থেকে নামানো যায়নি। বলে-কয়ে, বুঝিয়ে-সুঝিয়ে তাকে না নামাতে পেরে পরিবহন দফতরের তরফে এর পর খবর দেওয়া হয় বেলেঘাটা থানায়। বেলেঘাটা থানার পুলিশ কিছুক্ষণ পর এসে ওই নারীকে বাস থেকে নামিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সে করে ওই নারী যাত্রীকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে যাওয়া ওই বাসে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়। সূত্র: আনন্দবাজার।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর