শিরোনাম
প্রকাশ : ৪ আগস্ট, ২০২০ ১৪:৪৫
আপডেট : ৪ আগস্ট, ২০২০ ১৫:৪৮

জুনে ডেডলাইন শেষ, সিএএ'র বিধি প্রণয়নে আরও সময় চাইলো ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

জুনে ডেডলাইন শেষ, সিএএ'র বিধি প্রণয়নে আরও সময় চাইলো ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিধি প্রণয়নের জন্য ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও অতিরিক্ত তিন মাসের সময় চেয়েছে। সংসদের অধীনস্ত আইন সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কাছে মন্ত্রণালয়ের তরফে এই অতিরিক্ত তিন মাস সময় চেয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ভারতের লোকসভায় পাশ হয় সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল। রাজ্যসভায় তা পাশ হয় ১১ ডিসেম্বর। ১২ ডিসেম্বর ওই বিলে স্বাক্ষর করেন দেশটির রাষ্ট্রপতি। এরপর তা আইনে পরিণত হয়।

নতুন ওই আইনে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে অত্যাচারিত হয়ে আসা অ-মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর ছয় মাস কেটে গেলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও অবধি বিধি প্রণয়ন করতে পারেনি।

সংসদীয় বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর ৬ মাসের মধ্যে বিধি প্রণয়ন করতে হয় সরকারকে। আইন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা ঠিক হয় বিধি প্রণয়নের মাধ্যমেই। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ৬ মাস সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিধি প্রণয়ন না করতে পারলে তারা সংসদের স্থায়ী কমিটির কাছে সর্বোচ্চ তিন মাস সময় বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ জানাতে পারে।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক মাসে মন্ত্রণালয় অন্য কাজকর্মে ব্যস্ত থাকার কারণে সিএএ নিয়ে বিধি প্রণয়ন করতে পারেনি।  খুব শিগগির এই ব্যাপারে বিধি প্রণয়ন করা হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, বিধি প্রণয়ন হয়ে গেলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা অ-মুসলিম নাগরিকদের নাগরিকত্বের আবেদন জানানোর সময় তাদের ধর্মের প্রমাণপত্রও দিতে হবে। হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন ও পার্সি-সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন।

গত ডিসেম্বরে ভারতের সংসদে এই আইন পাশের পরই এর বিরোধিতা করে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিআইএমসহ একাধিক অ-বিজেপি দলগুলি। তাদের অভিমত ধর্মের ভিত্তিতে এই আইন করা হয়েছে যা সংবিধান লঙ্ঘনের সামিল। তাদের আরও অভিযোগ ছিল, প্রধানত মুসলিম নাগরিকদের টার্গেট করতেই নতুই এই নাগরিকত্ব আইন আনা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান সিএএ’এর বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই প্রতিবাদ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তার আশ্বাস এই আইনের ফলে কোন ভারতীয়েরই নাগরিকত্ব যাবে না বরং এই আইন নাগরিকত্ব প্রদান করবে। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর