১৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ২২:৫৯

ন্যাটোকে পূর্বইউরোপ ছাড়ার শর্ত দিল রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক

ন্যাটোকে পূর্বইউরোপ ছাড়ার শর্ত দিল রাশিয়া

গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনের লভিভ অঞ্চলের ইয়াভোরিভের কাছে ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা নিরাপত্তা কেন্দ্রে ‘র‌্যাপিড ট্রাইডেন্ট-২০২১’ সামরিক মহড়ায় সৈনিকরা অংশগ্রহণ করে। রয়টার্সের ফাইল ছবি

পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর কাছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশকিছু দাবিসহ তালিকা দিয়েছে রাশিয়া। এ নিয়ে সংলাপের আহ্বানও জানানো হয়েছে। তবে রাশিয়ার দাবি ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো মেনে নেবে, এমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

‘সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের' জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর কাছে একাধিক দাবির একটি তালিকা শুক্রবার প্রকাশ করেছে রাশিয়া।

ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের আশঙ্কা এবং বেলারুশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তে হাইব্রিড যুদ্ধের আশঙ্কায় পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এই তালিকা প্রকাশ করা হলো।

এই সপ্তাহের শুরুতেই দাবিগুলোর কথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের জানায় রাশিয়া। তবে আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই এমন তথ্য ও নথি প্রকাশ করাটাকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও একটি অস্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে।

রাশিয়া কী চায়?

- ইউক্রেন, ককেশাস এবং মধ্য এশিয়াসহ পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সামরিক কার্যকলাপের অবসান

- ন্যাটোর সদস্য সংখ্যা আর না বাড়ানো, বিশেষ করে ইউক্রেনের ক্ষেত্রে

- সীমান্তের অপর প্রান্তে (রাশিয়ার ভূখণ্ডে) আঘাত হানতে সক্ষম এমন কোনো মধ্য বা স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কাছাকাছি মোতায়েন না করা

- পরস্পরের নির্ধারিত সীমান্ত অঞ্চলে একাধিক সামরিক ব্রিগেডকে সম্পৃক্ত করে সামরিক মহড়া চলবে না

-  একে অপরকে প্রতিপক্ষ হিসাবে বিবেচনা করবে না এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধের সমাধান করবে, এমন একটি  চুক্তি

- রাশিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের জাতীয় সীমানার বাইরে পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপন করতে পারবে না

কী বলছে রাশিয়া?

উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ সাংবাদিকদের বলেছেন, রাশিয়া ও পশ্চিমাদের সম্পর্ক পুনর্গঠনে নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে পদ্ধতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আক্রমণাত্মক করে তুলেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক।''

তিনি বলেন, ‘‘ওয়াশিংটন এবং তার ন্যাটো মিত্রদের অবিলম্বে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে৷ অনির্ধারিত মহড়া, সামরিক জাহাজ ও বিমান চলাচল এবং ইউক্রেনের ভূখণ্ডে সামরিকায়ন বন্ধ করতে হবে৷''

রাশিয়া শনিবার থেকেই আলোচনা শুরু করতে ইচ্ছুক এবং আলোচনার স্থান হিসাবে জেনেভার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ন্যাটো সদস্যদের প্রতিক্রিয়া কী?

ন্যাটোর সদস্যপদ নিয়ে রাশিয়ার কোন বক্তব্য থাকতে পারে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপের সঙ্গে আগে আলোচনা না করে তারা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসবে না বলেও জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন ​​সাকি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের ইউরোপীয় মিত্র ও অংশীদারদের ছাড়া ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। যেসব মূল নীতিগুলির ওপর ভিত্তি করে ইউরোপের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, আমরা তার সঙ্গে আপস করব না৷ সব দেশের নিজস্ব ভবিষ্যত এবং বাইরের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে।''

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন ইভেন্টে বক্তৃতায়, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন, উপযুক্ত পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের জন্য প্রস্তুত।

রাশিয়ার দেয়া খসড়া নথি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ন্যাটো মহাসচিব ইয়েনস স্টলটেনবার্গ। তিনি বলেন, মস্কোর সঙ্গে যেকোনো সংলাপের জন্য ‘‘রাশিয়ার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ন্যাটোর উদ্বেগের সমাধান করতে হবে, মূল নীতি ও ইউরোপীয় নিরাপত্তার নথির ভিত্তিতে তা হবে এবং ইউক্রেনের মতো ন্যাটোর ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথেও এ বিষয়ে পরামর্শ করা হবে।''

তিনি বলেন, ৩০টি ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র ‘স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে রাশিয়া যদি উত্তেজনা কমাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়, আমরাও আস্থা তৈরিতে জোরালো ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।''

ন্যাটো কূটনীতিকরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, জোটের সম্প্রসারণে মস্কোর ভেটো থাকতে পারে না।

পোলিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লুকাজ জাসিনা বলেছেন, ‘‘রাশিয়া ন্যাটোর সদস্য নয় এবং ন্যাটো সম্পর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।''

ইউক্রেন সংকটে দেশটিকে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এক ফোন কলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কিকে, ‘আগ্রাসন' মোকাবিলায় সকল ‘কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি' ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ন্যাটো এসব দাবি মেনে নেবে, এমনটা সত্যিই রাশিয়া মনে করে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউক্রেনে রাশিয়া তার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাবে, এমনটা ভাবতেও সন্দিহান তারা।

সূত্র : ডয়চে ভেলে, এএফপি, এপি, রয়টার্স

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর