শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:১৭

ফিলিস্তিন ঐক্য প্রতিষ্ঠা

কায়রোতে ফাতাহ-হামাসের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি

কায়রোতে ফাতাহ-হামাসের মধ্যে

ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি

ফিলিস্তিনের বিবদমান গোষ্ঠী ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মিসরের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী কায়রোতে গতকাল এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে গোষ্ঠী দুটির মধ্যকার দীর্ঘ এক দশকের দ্বন্দ্বের ইতি ঘটল। ফিলিস্তিনের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় চুক্তিটিকে উভয়পক্ষই বড় সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হামাসপন্থি ফিলিস্তিনি ইনফরমেশন সেন্টার গতকাল এক ঘোষণায় এ সমঝোতা চুক্তির কথা জানিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস চুক্তিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।  গাজা উপত্যকা ও পশ্চিমতীর শাসনকে কেন্দ্র করে হামাস ও ফাতাহর মধ্যে দ্বন্দ্বের শুরু ২০০৭ সালে। রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাধ্যমে হামাস ফাতাহর কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। আর পশ্চিম তীরের শাসনভার যায় ফাতাহর দখলে। তখন থেকেই গোষ্ঠী দুটির মধ্যকার বিবাদ মিটিয়ে ঐক্য এবং জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা থেমে যায়। তবে গত মাসে হামাস রাজি হয় যে, তারা গাজা উপত্যকার শাসনভার ফাতাহ নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিন সরকারের হাতে ছেড়ে দেবেন। হামাসের তরফে এমন ইতিবাচক সাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসের শুরুতে এক ঐতিহাসিক সফরে গাজায় যান ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহ। এসব ঘটনাপ্রবাহ হামাস ও ফাতাহর মধ্যকার বিবাদ মিটিয়ে জাতীয় ঐক্যের মধ্যকার সরকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে বড় অগ্রগতি।  গতকাল দিনের শেষদিকে চুক্তিটির বিস্তারিত প্রকাশ করার কথা রয়েছে। তবে চুক্তিটির বিষয়ে মিসর সরকার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গাজা ও মিসরের মধ্যকার রাফা সীমান্ত পারাপারের নিয়ন্ত্রণভার জাতীয় ঐক্যের সরকারের হাতে হস্তান্তর করা হবে। গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক সব দায়দায়িত্ব আগামী ডিসেম্বর নাগাদ ফাতাহ নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিন সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে রাজি হয়েছে হামাস।  চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘কী কী বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছানো হয়েছে এ ব্যাপারে ফাহাত প্রতিনিধিদলের কাছ থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন পেয়েছি। বিভাজনের ইতি ঘটাতে একে আমি চূড়ান্ত চুক্তি বিবেচনা করছি।’ কয়েকদিনের মধ্যে তিনি গাজা উপত্যকা সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলেও স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। খবর সত্যি হলে গত এক দশকের মধ্যে এটা হবে সেখানে তার প্রথম সফর। হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বুধবারই জানিয়েছিলেন যে, সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে কায়রো আলোচনা বেশ ইতিবাচক, তাৎপর্যপূর্ণ ও গভীর হয়েছে। এদিকে, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হামাসের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করেছে ইসরায়েল। হামাস সদস্যসংবলিত ফিলিস্তিন সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি করা হবে না বলে দেশটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। বিবিসি।

 

 


আপনার মন্তব্য