শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ জুলাই, ২০১৮ ২৩:২১

নির্ভয়া গণধর্ষণ

দোষীদের মৃত্যুদন্ডের নির্দেশই বহাল

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

দোষীদের মৃত্যুদন্ডের নির্দেশই বহাল

ভারতের দিল্লিতে চলন্ত বাসে প্যারামেডিকেল ছাত্রী নির্ভয়া গণধর্ষণে দোষীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা নেই। ওই ঘটনায় দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের (ফাঁসি) সাজা বহাল রেখেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এ ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুকেশ সিং (২৯), পবন গুপ্ত (২২), বিনয় শর্মা (২৩) ও অক্ষয় ঠাকুরের (২৯) মধ্যে প্রথম তিনজন তাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করতে পুনর্বিবেচনার (রিভিউ পিটিশন) আরজি জানান। কিন্তু সেই পুনর্বিবেচনার আরজি খারিজ করে দেয় দেশটির শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র এবং বিচারপতি আর ভানুমতী ও অশোক ভূষণের ডিভিশন বেঞ্চ। নির্ভয়া ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন মোট ছয়জন। এর মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত বাসচালক রাম সিং শুনানি চলাকালেই তিহার জেলে বন্দী অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। ষষ্ঠ অভিযুক্ত বিনয় কুমার দোষী সাব্যস্ত হলেও অপরাধের সময় নাবালক থাকায় তিন বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেয় নাবালক বিচার পর্ষদ। ২০১৫ সালের নভেম্বরে জেল থেকে মুক্তি পায় বিনয় কুমার। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লির চলন্ত বাসে ছয় দুর্বৃত্তের হাতে গণধর্ষিত ও পৈশাচিক অত্যাচারের শিকার হন ২৩ বছরের প্যারামেডিকেল ছাত্রী জ্যোতি সিং ।

(যদিও প্রাথমিক অবস্থায় তার নাম গোপন রেখে ‘নির্ভয়া’ নামই ব্যবহার করা হয় গণমাধ্যমগুলোয়)।

 দুর্বৃত্তরা তাকে ধর্ষণের পর বাস থেকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর তাকে উদ্ধার করে ভারত ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ দিনের লড়াইয়ের পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান নির্ভয়া। ওই ঘটনার পর ভারতসহ গোটা বিশ্বে শোরগোল পড়ে যায়। গণধর্ষণ মামলার রায় যাতে দ্রুত শেষ করা যায় সেজন্য দিল্লির সাকেত কোর্টে ‘ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট’ও গঠন করা হয়। এরপর ওই আদালত দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করে। পরে হাই কোর্টও মৃত্যুদণ্ডের সেই আদেশ বহাল রাখে। কিন্তু হাই কোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্তরা। গত বছর সুপ্রিম কোর্টও মৃতুদণ্ডের রায় বহাল রাখে। এর পরই সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির কাছে রিভিও পিটিশন দাখিল করেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুকেশ, পবন ও বিনয়। তাদের আরজি ছিল ফাঁসির বদলে যেন যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। কিন্তু সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এদিন ডিভিশন বেঞ্চ পরিষ্কার জানিয়ে দেয় রিভিউ জাজমেন্টের কোনো সুযোগ নেই, কারণ কোথাও ‘এরর অব জাজমেন্ট’ অর্থাৎ গত বছরের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল সেখানে কোনো ভুল ছিল না। শীর্ষ আদালতের তরফে এই গণধর্ষণের ঘটনাকে বিরলের মধ্যে বিরলতম বলে আখ্যায়িত করে বলা হয়, এ ঘটনা অত্যন্ত নৃশংস ও বর্বর। সে ক্ষেত্রে নিজেদের শাস্তি কমানোর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়া ছাড়া এই চার দোষীর আর কোনো পথই খোলা থাকল না। শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্ভয়ার বাবা ও মা। তারা জানিয়েছেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট ও ন্যায়বিচারের ওপর আমাদের ভরসা আছে।’


আপনার মন্তব্য