শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:২৩

ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি নয়, হুমকি

ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি নয়, হুমকি

ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নববর্ষের আগে এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, “কোনোরকম প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ‘অনেক বড় মূল্য’ দিতে হবে। এটি কোনো সতর্কবার্তা নয়, হুমকি।” ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ওই ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেন। বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরান সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া নিহতের জেরে বিক্ষুব্ধরা মঙ্গলবার বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলা এবং ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনার পেছনে ইরান দায়ী বলে যে অভিযোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট করেছেন। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে এবং এমন অভিযোগ করার স্পর্ধা দেখানোর নিন্দা জানিয়েছে। গতকাল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও কাতাইব হিজবুল্লাহর ওপর মার্কিন হামলার নিন্দা জানান।

গত রবিবার ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহর (হিজবুল্লাহ ব্রিগেড) সদস্য। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৫৫ জন। কাতাইব হিজবুল্লাহ ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে ও সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত ইরান সমর্থিত বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কাতাইব হিজবুল্লাহ ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইরত ইরাকে অবস্থিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর ঘাঁটিতে বারবার হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন বিমান হামলায় ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনার সময় এসেছে। এরপর মঙ্গলবার রাজধানী বাগদানের অত্যন্ত সুরক্ষিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় দূতাবাসের বাইরে জড়ো হওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রবিবারের বিমান হামলার প্রতিবাদ জানায়। দূতাবাসের ফটকে পাথর ছোড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। ঠিল ছুড়ে নজরদারির ক্যামেরা নষ্ট করে ফেলে বিক্ষোভকারীরা। এ সময় নজরদারির একটি টাওয়ারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীরা বিমান হামলায় নিহত ব্যক্তিদের জানাজা শেষ করেই মার্কিন দূতাবাসের কাছে জড়ো হয়। বিক্ষোভে হাজার হাজার শোকাহত মানুষের সঙ্গে কাতাইব হিজবুল্লাহ মিলিশিয়ার নেতা আবু মাহদি আল-মুহানদিসসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতারাও যোগ দেন। দূতাবাসের বাইরের রাস্তায় তাদের সমবেত হতে দেয় ইরাকি বাহিনী।


আপনার মন্তব্য