শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ মার্চ, ২০২১ ২৩:২৬

সু চিকে দেখা গেল

সু চিকে দেখা গেল
আগের দিন জান্তা বাহিনীর গুলিতে মারা গেছেন ১৮ জন। তারপরেও গণতন্ত্রের দাবিতে রাজপথ ছাড়ছে না বার্মিজ নাগরিকরা। পুলিশের গুলি থেকে রক্ষা পেতে বাড়িতে তৈরি ঢাল নিয়ে রাস্তায় আন্দোলনকারীরা-এএফপি

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মিয়ানমারের বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চিকে গতকাল প্রথমবারের মতো ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আদালতে হাজির করা হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক জান্তা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে গদি দখল করে। জান্তা সরকার দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে। এর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে মিয়ানমারের জনতা। রবিবার সেখানে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল পরিস্থিতি। একদিনেই সেখানে সর্বোচ্চ ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় তাকে দেখে সুস্থ মনে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। এদিন বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশ ও সেনাবাহিনী সরাসরি গুলি চালায়। রক্তে স্নাত হয় মিয়ানমারের রাজপথ। এর নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসসহ বিশ্বের শীর্ষ নেতারা। এরপর সোমবার সু চিকে আদালতে হাজির দেখানো হয়।

দেশটির সেনাবাহিনী দেশটিতে নির্বাচনের পর থেকেই জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছে। আর ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম পার্লামেন্ট অধিবেশনের দিনই সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা অং সান সু চিসহ দলের নেতাদের গ্রেফতার করে। সেই নির্বাচনকে বানচাল করে দিয়ে এখন সেনারা নতুন নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে কবে, কীভাবে সেই নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে কোনোই সময়সীমা বা পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি। কিন্তু জনতার দাবি নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ীদেরই ক্ষমতায় আসতে দিতে হবে। এর মধ্যে সু চিকে কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়ে সামরিক জান্তা চুপ থাকলেও সোমবার রাজধানী ন্যাপিদোতে স্থাপিত একটি আদালতে তাকে দেখানো হয় ভিডিও লিংকের মাধ্যমে। তার বিরুদ্ধে মূলত দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল আরও অভিযোগ যুক্ত করে। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

রক্তক্ষয়ী দিনের পর আবারও বিক্ষোভ : রক্তক্ষয়ী দিন পার হতে না হতেই গতকাল আবারও মিয়ানমারে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এর আগে রবিবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু  হয়েছে। গতকাল ইয়াঙ্গুন শহরের বিভিন্ন বিক্ষোভকেন্দ্রে জলকামান নিয়ে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর যান চলাচল করতে দেখা গেছে। বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া নেতা এই থিনজার মাউং ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘সামরিক অভ্যুত্থানের এক মাস পার হয়ে গেছে। তারা আমাদের আটকে রাখতে চেয়েছে। কিন্তু আজ আমরা আবারও পথে নেমেছি।’


আপনার মন্তব্য