শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০৬

মিয়ানমারে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল

► নাগরিকদের বিতাড়িত না করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ► গুলিতে আরও চার বিক্ষোভকারী নিহত

মিয়ানমারে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল
মিয়ানমারে চলছে নির্বিচারে গুলি। স্বজনদের আহাজারি -আলজাজিরা

মিয়ানমারে থামছেই না রক্তপাত। দেশটিতে পুলিশের গুলিতে আরও ছয় বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতভর সেনাঅভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভের সময় ইয়াংগুনের থারকেতা জেলায় পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত হন। গতকাল আরও চার বিক্ষোভকারী পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। দুই প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহৎ নগরী মানডালায় বিক্ষোভকারীরা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়ে। এতে তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মধ্যাঞ্চলের শহর পিআইতে একজন নিহত হয়েছেন। পিআইতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৩ বছরের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘গুলি করার পর নিরাপত্তা বাহিনী শুরুতে ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স আসতে বাধা দেয়। পরে অবশ্য অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে মারাত্মক আহত একজন মারা যান।’ এদিকে, আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তির দাবিতে একদল বিক্ষোভকারী শুক্রবার রাতে ইয়াংগুনের থারকেতা জেলা পুলিশ স্টেশনের বাইরে জড়ো হলে পুলিশ তাদের দিকে সরাসরি গুলি চালায়। গুলিতে দুজন প্রাণ হারান। মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করা জান্তাবাহিনী একদিকে বিক্ষোভ দমাতে বলপ্রয়োগ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরাও যেন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে না ফেরার প্রতিজ্ঞা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীরা শনিবার আরও বড় বিক্ষোভ আয়োজনের ডাক দেন। ১৯৮৮ সালের এই দিনে মিয়ানমারে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন রেঙ্গুন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফোন মাও। পুলিশ ক্যাম্পাসের ভিতরেই তাকে গুলি করে হত্যা করে। মাও এবং কয়েক সপ্তাহ পর নিহত হওয়া আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর মিয়ানমার জুড়ে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। যেটা ৮-৮-৮৮ বিক্ষোভ নামে পরিচিত। ওই বিক্ষোভে প্রায় তিন হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়। ওই বিক্ষোভের সময়ই গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান অং সান সু চি। তারপর থেকে প্রায় দুই দশক তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ২০০৮ সালে তিনি গৃহবন্দী দশা থেকে মুক্তি পান।

এদিকে সেনা অভ্যুত্থানে মিয়ানমারে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে আপাতত দেশটির নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত না করার এবং তাদের কাজের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট থেকে শুক্রবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মিয়ানমারের প্রায় ১ হাজার ৬০০ নাগরিক, যার মধ্যে কূটনীতিকও আছেন তারা ১৮ মাসের জন্য টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) পাচ্ছেন।


আপনার মন্তব্য