শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৮

করোনার ব্রাজিলীয় ধরন ভয়ংকর

করোনার ব্রাজিলীয় ধরন ভয়ংকর
Google News

আবারও চরিত্র বদল করেছে করোনার ব্রাজিলীয় ধরন ‘পি১’। এটি এমনভাবে রূপান্তরিত হচ্ছে যে সেটি ভালোভাবেই মানবদেহের অ্যান্টিবডি এড়িয়ে সংক্রমিত হতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে করোনার সংক্রমণ বাড়ার পেছনে এই ধরনটিকে দায়ী করা হচ্ছে। ব্রাজিলের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ফিয়োক্রুজ দেশটিতে ছড়াতে থাকা এ ধরনটি নিয়ে গবেষণা করেছে। তাতে দেখা গেছে, ভাইরাসটির স্পর্শক অঞ্চলে রূপান্তরিত হচ্ছে। দেহকোষগুলোতে প্রবেশ ও সংক্রমিত করার জন্য এই স্পর্শকগুলোই ব্যবহার করে ভাইরাসটি। সম্প্রতি ভাইরাসের এ ধরনটি বিশ্বজুড়ে শঙ্কার কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। গবেষকদের দাবি, এই ভাইরাস নিজের চরিত্র এমন ভাবে বদল করেছে যে কোনো অ্যান্টিবডির প্রভাবই নাকি তার ওপর পড়ছে না। তারা বলছেন, মিউটেশনের মাধ্যমে যে পরিবর্তনগুলো হচ্ছে তা ভাইরাসটিকে আরও টিকা প্রতিরোধী করে তুলতে পারে।

 

 টিকা ভাইরাসের স্পর্শক প্রোটিনগুলো অকার্যকর করার কাজটিই করে।

ব্রাজিলের অ্যামাজন অঞ্চলের মানাউস শহরে কর্মকরত ফিওক্রুজের বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের অন্যতম গবেষক ফেলিপে নাভেকা বলেছেন, অ্যান্টিবডির প্রতিক্রিয়া এড়াতে ভাইরাসটি ফাঁকি দেওয়ার আরেকটি কৌশল তৈরি করছে বলে তারা মনে করছেন। নাভেকা জানান, ভাইরাসটির পরিবর্তনগুলো আরও আগ্রাসী দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনটির মিউটেশনে যেমনটি দেখা গিয়েছিল সেরকম হতে পারে বলে মনে হচ্ছে, যেটি টিকার কার্যকারিতা যথেষ্ট পরিমাণে হ্রাস করতে পারে। তিনি বলেন, এটি সত্যিই খুব উদ্বেগজনক কারণ ভাইরাসটি এর বিবর্তনের গতি বাড়িয়ে চলছে।

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ব্রাজিলে ইদানীংকালে করোনার সংক্রমণের হারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। দেখা গেছে যে পি১ ধরনটি ক্রমাগত পরিবর্তিত (মিউটেশন) হচ্ছে। এর ফলে ভাইরাসটি আরও ভয়ানক হওয়ার আশঙ্কা আছে। এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ভাইরাসের ‘পি১’ ধরনটি প্রকৃত ধরনটির তুলনায় আড়াই গুণ বেশি ছোঁয়াচে। অর্থাৎ ব্রাজিলে পাওয়া করোনার ধরনটি দ্রুত ছড়াতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে অ্যান্টিবডির বিরুদ্ধে এর সহনশীলতাও বেশি।

প্রসঙ্গত, ব্রাজিলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সবচেয়ে ভীতিকর দিক হচ্ছে, এখন অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। আবার এ বয়সীদের শারীরিক অবস্থা নাজুক হয়ে যাচ্ছে। গত মার্চ মাসের উপাত্ত বলছে, আইসিইউতে থাকা রোগীদের মধ্যে অর্ধেক ৪০ বা এর কম বয়সী।

সূত্র : রয়টার্স।