শিরোনাম
সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

বিরল অসুখে পাথরে পরিণত হচ্ছে এই শিশুকন্যা

বিরল অসুখে পাথরে পরিণত হচ্ছে এই শিশুকন্যা

মাত্র পাঁচ মাস বয়স তার। একরত্তি শিশুকন্যাকে দেখে বোঝার উপায় নেই কী ভয়ঙ্কর এক বিরল অসুখে  আক্রান্ত সে। এ এমন এক রোগ, যেখানে ধীরে ধীরে কার্যত পাথর হয়ে যায় শরীর! ব্রিটেনের লেক্সি রবিনস নামে এক শিশুর শরীরে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে সেই অসুখেরই চিহ্ন। এই অসুখের নাম ফাইব্রোডিসপেসিয়া অসিফিকানস। প্রতি ২০ লাখে একজনের এই রোগ হয়। এই অসুখে কঙ্কালের স্বাভাবিক কাঠামোর উপরও অতিরিক্ত হাড় গজায়। গত ৩১ জানুয়ারি জন্ম হয়েছিল লেক্সির। সব কিছু ঠিকঠাকই ছিল। তবে তার অভিভাবকরা লক্ষ্য করেছিলেন সে হাতের বুড়ো আঙুলগুলো নাড়াতে পারছে না। তাছাড়া তার পায়ের পাতাও আকারে অনেকটাই বড়। দেরি না করে মেয়েকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান তারা। ক্রমে সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। রক্তমাংসের শিশু হিসেবে মায়ের কোলে জন্ম নিলেও, যত দিন জীবিত থাকবে, পাথর হয়েই তাকে কাটাতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তারা। মহামারীর মধ্যেই এ বছর ৩১ জানুয়ারি ব্রিটেনে জন্ম লেক্সি রবিন সের। করোনায় যখন চারিদিকে মৃত্যুমিছিল, সেই সময় ফুটফুটে শিশুটিকে পেয়ে সংসার ভরে উঠেছিল অ্যালেক্স এবং ডেভ রবিন সের। এমনিতে সারা ক্ষণ হাসিখুশি লেক্সি। কোথাও কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি। কিন্তু ধন্দ কাটে কয়েক দিন যেতেই। গত এপ্রিলে করা এক্স-রে থেকে দেখা গিয়েছে শিশুটির পায়ের পাতার উপরেও আরও হাড় গজিয়েছে। সেই সঙ্গে বুড়ো আঙুলে দু’টি করে সন্ধিস্থল। সেই কারণেই ওই আঙুল নাড়াতে পারে না একরত্তি। আসলে এই অসুখে পেশি ও টেন্ডন কিংবা লিগামেন্টের মতো সংযোগকারী টিস্যুর পরিবর্তেও হাড় তৈরি হতে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে অসার হয়ে যায় শরীর। নড়াচড়া করা আর সম্ভব হয় না। এই অসুখে ২০ বছর বয়সের পর থেকে পুরোপুরি বিছানাতেই কাটে রোগীর জীবন। নড়াচড়ার ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভাবে লোপ পায়। আয়ুও ৪০ বছরের বেশি হয় না। লেক্সির মা অ্যালেক্স এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না তাদের মেয়ে এমন এক অসুখে আক্রান্ত হয়েছে। তার কথায়, ‘এক্স-রে হয়ে যাওয়ার পরে আমাদের বলা হয়েছিল, মেয়ের এমন কোনো অসুখ হয়েছিল যাতে সে হাঁটতে পারবে না। একথা শুনে আমরা অবাক হয়ে যাই। কেননা তার শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই যে নেই। দিব্যি পা ছুঁড়ে খেলা করছে। ও একেবারেই সুস্থ। রাতে ঘুমোয়। সারাক্ষণ হাসিমুখ। তবে কান্না কম। ও যেন এরকমই থাকে, সেটাই আমরা চাই।’ কিন্তু মায়ের মন যতই সন্তানের শারীরিক অবনতির বিরুদ্ধে প্রার্থনা করুক, ডাক্তাররা জানাচ্ছেন, লেক্সির যা অবস্থা তাতে সামান্য চোট পেলেই তা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাকে কোনো ইঞ্জেকশন, ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। দাঁতের পরিচর্যা করাও সম্ভব নয়।

 এমন কী, বড় হলে সে কোনো সন্তানকেও গর্ভে ধারণ করতে পারবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর