মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিলের বিভিন্ন আমদানি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে ব্রাজিল। যার মধ্যে নতুন শুল্ক আরোপও থাকতে পারে। সরকারি সূত্র বৃহস্পতিবার এএফপিকে একথা জানিয়েছে-ব্রাসিলিয়া থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
সরকারি দুটি সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ট্রাম্পের মিত্র ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্র মামলার বিচারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত এই ‘শাস্তি’র জবাবে ব্রাজিল কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে তা পর্যালোচনার অনুমোদন দিয়েছেন। মার্কিন শুল্ক সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পারস্পরিকতা আইনের আওতায় পড়ে কি না তা নির্ধারণের জন্য বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় ৩০ দিন সময় পাবে।
একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তারা যদি তা করে, তাহলে বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করবে। যার মধ্যে পাল্টা শুল্ক অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ব্রাজিল সরকার গতকাল সম্ভাব্য প্রতিশোধ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করার কথা ছিল। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ‘কূটনৈতিক পরামর্শের জন্য জায়গা উন্মুক্ত রয়েছে। এপ্রিলে গৃহীত অর্থনৈতিক পারস্পারিকতা আইন, সরকারকে ব্রাজিলের প্রতিযোগিতামূলকতার ক্ষতি করার জন্য একতরফাভাবে কাজ করে এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ নেওয়ার অনুমতি দেয়। ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ছাড়, বিনিয়োগ বা মেধাস্বত্ব সম্পত্তি চুক্তি স্থগিত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্য দেশ বা বাণিজ্য ব্লকের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে শেষ অবলম্বন হিসাবে এগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে। ৬ আগস্ট ব্রাজিলিয়ান কফি এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ কার্যকর হওয়ার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিলের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। বৃহস্পতিবার লুলা অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন ব্রাজিলের আপত্তি একেবারেই শুনছে না। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কারও সঙ্গে কথা বলতে পারিনি।
যদিও ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যাপক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকা দেশগুলোকে টার্গেট করে, ব্রাজিলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উল্টো। রপ্তানির তুলনায় দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক বেশি পণ্য আমদানি করে। ২০২৪ সালে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির সঙ্গে পণ্য ও সেবায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ২৮.৬ বিলিয়ন ডলার। ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রচুর ইস্পাতভিত্তিক প্রস্তুত পণ্য আমদানি করে, যার মধ্যে রয়েছে শিল্প যন্ত্রপাতি, গাড়ির ইঞ্জিন এবং এরোস্পেস শিল্পের যন্ত্রাংশ। সাবেক দক্ষিণপন্থি প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের বিচারকে যুক্তরাষ্ট্র ‘উইচ হান্ট’ আখ্যা দিয়ে এই ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন ট্রাম্প।