শিরোনাম
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:৩১

জান্নাতে ঘর তৈরির আমল

মো. আবু তালহা তারীফ

জান্নাতে ঘর তৈরির আমল

প্রতীকী ছবি

দুনিয়ায় বিভিন্ন ডিজাইনের ঘর তৈরি খুবই আনন্দের ব্যাপার। এজন্য সবাই কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করেন এবং স্বপ্ন দেখেন একটি ভালো ঘর বা বাড়ি তৈরির। দুনিয়ায় ঘর নির্মাণ করলে সে ঘরে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করা যায় না। তবে পরকালে যদি জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হয় সে ঘরে চিরস্থায়ীভাবে থাকা যাবে আর সেটাই হবে মোমিনদের জন্য সবচেয়ে বেশি আনন্দের। জান্নাতে ঘর তৈরি করতে হলে প্রয়োজন দুনিয়ায় নেক আমল। আল্লাহ সে নেক আমলের বিনিময়ে বান্দার জন্য জান্নাতে ঘর তৈরি করে দেবেন।

এর একটি অন্যতম উপায় আল্লাহর এ জমিনে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর ঘর বা মসজিদ নির্মাণ। কিন্তু মসজিদ তৈরির সামর্থ্য অনেকেরই নেই। এর পরও যার যতটুকু সম্ভব মসজিদ নির্মাণ বা সংস্কারে সামর্থ্য অনুযায়ী টাকাপয়সা বা শ্রম দিতে হবে। আর সময় পেলেই মসজিদে গমন করে মুসল্লিদের কষ্ট হয় এমন কোনো বস্তু দেখামাত্রই মসজিদের খাদেমের অপেক্ষায় না থেকে তা দূর করে মসজিদকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে হবে।

হজরত সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদ থেকে ময়লা-আবর্জনা কিংবা কষ্ট হয় এমন বস্তু দূরীভূত করবে তার জন্য আল্লাহ জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করে দেবেন।’ ইবনে মাজাহ। জান্নাতে ঘর তৈরি করতে হলে ফরজের সঙ্গে সঙ্গে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নামাজের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নামাজ দৈনিক ১২ রাকাত আদায় করলে আল্লাহ জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করে দেবেন। হজরত উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফরজ নামাজগুলো ছাড়া দৈনিক ১২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নামাজ আদায় করল তার জন্য আল্লাহ জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করে দেবেন।’ ইবনে মাজাহ। তা ছাড়া জান্নাতে আল্লাহ যেন একটি ঘর তৈরি করে দেন এজন্য প্রয়োজন হয় শুধু একটি দোয়াও। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহইয়ু ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া ইউমিতু বিয়াদিহিল খাইরু কুল্লুহু ওয়া হুয়া আ‘লা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির’- এ দোয়টি পড়বে আল্লাহ তার আমলনামায় ১০ লাখ নেকি লিপিবদ্ধ করবেন আর তার ১০ লাখ পাপ মোচন করে দেবেন এবং ১০ লাখ মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করবেন।’ তিরমিজি। জান্নাতে ঘর তৈরি করতে হলে দুনিয়ার জমিনে কখনো মিথ্যা কথা বলা এবং ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া যাবে না। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকবে যদিও সে ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, আমি তার জন্য জান্নাতের নিম্নাংশে একটি ঘরের জামিন হলাম। যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকবে যদিও তা ঠাট্টার ছলে হোক আমি তার জন্য জান্নাতের মধ্যবর্তী স্থানে একটি ঘরের জামিন হলাম আর যে ব্যক্তির চরিত্র সুন্দর হবে তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে একটি ঘরের জামিন হলাম।’ আবু দাউদ।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

 

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর