শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ মার্চ, ২০২১ ০১:১৯
প্রিন্ট করুন printer

তৃণমূলের প্রার্থী হয়েই রাজ মাঠে নেমে খেললেন ক্রিকেট, তুললেন সেলফি

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

তৃণমূলের প্রার্থী হয়েই রাজ মাঠে নেমে খেললেন ক্রিকেট, তুললেন সেলফি

এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। মাঠে নেমে ক্রিকেট খেললেন,  তুললেন সেলফি। রবিবার ছুটির দিনের বিকালটা এভাবে কাটল পরিচালক ‍ও অভিনেতা রাজ চক্রবর্তীর। তবে তিনি শুধু এখন অভিনেতা বা চিত্র পরিচালকই নন। তিনি এবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধানসভার প্রার্থী। 

আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছে রাজ চক্রবর্তীকে। 

শুক্রবার দিন রাজ্যের ২৯১টি আসনে দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু ব্যারাকপুরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে একজন রাজনীতিবিদকে না দিয়ে সিনেমা জগতের একজনকে প্রার্থী করায় কিছুটা ক্ষুব্ধ হন ব্যারাকপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও দাপুটে তৃণমূল নেতা উত্তম দাস। 

নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ চক্রবর্তীকে তিনি চেনেন না। জানেন না, কারণ তিনি সিনেমা দেখেন না।

উত্তম দাসের এই ক্ষোভের কথা কানে পৌঁছায় রাজ চক্রবর্তীর। আর এক মুহূর্ত দেরী না করে রবিবার দিন বিকালে ব্যারাকপুরে চলে আসেন তিনি। ব্যারাকপুর নোনা চন্দন পুকুর অ্যাথলেটিক ক্লাব'-এ উত্তম দাসসহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ চক্রবর্তী।

এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ অনেকেই। দলীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের সাথে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনার পর গণমাধ্যমের সামনে রাজ জানান, আমরা চাই মুখ্যমন্ত্রী তিন বারের জন্য ক্ষমতায় আসুক। এই ব্যারাকপুরের আসনটা তিন বারের জন্য জিতে আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার দিতে চাই। এর জন্য মানুষের দরজায় দরজায় যাব, ভোট প্রচার করব। গত ১০ বছরে মমতা ব্যানার্জি যেসব উন্নয়ন করেছে তা মানুষকে বোঝাবো।" 

পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর নাম ঘোষণার পরই তাকে নিয়ে ব্যারাকপুরের মানুষের যে ক্ষোভ আছে তা নিয়ে রাজ জানান, ক্ষোভ থাকাটাই স্বাভাবিক। বিগত দিনে যারা প্রার্থী হয়েছেন এবং জিতেছেন তারা দলের পিছনে ছুরি মেরে চলে গেছেন। কিন্তু আমি তা করবো না। আমি পল্টিবাজ নই। যদি আমাকে ব্যারাকপুরের মানুষ জেতায়, তবে ব্যারাকপুরের উন্নয়নের জন্য যা যা দরকার তাই তাই করবো।

মিঠুন চক্রবর্তীর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে রাজ বলেন, প্রত্যেকটা মানুষেরই ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার নিজের আছে। আমি দাদাকে ভালোবাসি। আমরা সবাই দাদার ফ্যান। আমার মনে হয় দাদা যেটা করেছে নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তে করেছেন।

আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই তিনি প্রচারে নামবেন বলেও জানান রাজ চক্রবর্তী। 

সংবাদ সম্মেলনের পর তিনি চলে যান ক্লাবের মাঠে ক্রিকেট খেলতে। সেখানে তাকে ঘিরে ধরে স্থানীয় মানুষ এবং ক্লাবের কচিকাঁচারা। রাজের সঙ্গে ছিলেন উত্তম দাস। রাজকে কাছে পেয়ে দেদার সেলফি তোলেন বড় থেকে ছোট সকলেই। এর পর ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ কিছুটা সময় ক্রিকেট খেলেন। বেশ কয়েকবার মাঠের বাইরে বল পাঠান তিনি। আর রাজকে এমন ভঙ্গিমায় পেয়ে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরাও "খেলা হবে" স্লোগান শুরু করে দেন। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর