শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ১৫:৪৬
প্রিন্ট করুন printer

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন

ভোট চলাকালীন ৫ জনের মৃত্যুকে ‘গণহত্যা’র সাথে তুলনা মমতার

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

ভোট চলাকালীন ৫ জনের মৃত্যুকে ‘গণহত্যা’র সাথে তুলনা মমতার
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে কোচবিহার জেলার শীতলকুচিতে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘গণহত্যা’র সাথে তুলনা করলেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

রবিবার শিলিগুড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলার সময় এই মন্তব্য করেন তৃণমূল নেত্রী।

মমতা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বুকে গুলি করেছে। তারা হাঁটুর নিচে গুলি করতে পারতো। একে গণহত্যা ছাড়া কি বলা যেতে পারে। ‘সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিআইএসএফ) জনতকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, ওরা শিল্প-কারখানাতে নিরাপত্তা দিতেই বেশি অভিজ্ঞ।’

মমতার অভিযোগ আইন লঙ্ঘন করে বহিরাগতরা গুলি চালালো। এদিন তিনি বলেন, ‘কোনো সহিংসতা হলে তার নিয়ন্ত্রণে কিছু নিয়ম আছে। প্রথমে লাঠি, তার পর কাঁদানে গ্যাস..জল কামান। আমি এটা নিয়ে কোনো রাজনীতি করতে চাই না। আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি। কেন্দ্রীয় বাহিনী মানুষকে ঘিরে ধরে আছে তাদের ভোট দিতে দিচ্ছে না। মানুষকে তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া উচিত, ভোটেই তার উপযুক্ত জবাব দেবে।’

শনিবার ১০ এপ্রিল চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে শীতলকুচি। ভোটচলাকালীন সকাল ১০টার দিকে শীতলকুচি বিধানসভার ১২৬ নম্বর বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর (সিআইএসএফ) গুলিতে চারজন নিহত হয়। জখম হয় আরও কয়েকজন। তারও আগে শীতলকুচিতেই আরও একটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

পাঠানটুলির ২৮৫ নম্বর বুথে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ১৮ বছর বয়সী আনন্দ বর্মন নামে নতুন এক ভোটারের। বিজেপির দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুর্বৃত্তরাই গুলি চালিয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষে ওই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এই ঘটনার পরই রবিবার ওই সহিংসতা কবলিত এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল মমতা ব্যানার্জির। সেই মতো মাথাভাঙা হাসপাতালের পাশে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হন মমতা।

শীতলকুচির ওই ঘটনায় শনিবার রাতেই দুইটি কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। সহিংসতা কবলিত কোচবিহারে আগামী তিন দিন কোনো রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী সেখানে যেতে পারবেন না। পাশাপাশি পঞ্চম দফার নির্বাচনী প্রচারণা ৪৮ ঘণ্টার বদলে ৭২ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ বুধবার সন্ধ্যায় ওই কেন্দ্রগুলো প্রচারণার কাজ শেষ করতে হবে।

এ নিয়ে এদিনের সংবাদ সম্মেলন থেকে মমতা বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের নির্দেশে সব নিয়মকানুন পরিবর্তন করে দেওয়া যায় না। প্রতিদিন যেরকম ঘটনা ঘটাচ্ছে তা এককথায় নজিরবিহীন। আমি ওই দুঃখী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে সেখানে যেতে দেওয়া হলো না।’

তিনি আরও বলেন ‘মডেল কোড অব কনডাক্ট’ (এমসিসি) টা এখন ‘বিজেপি কোড অব কনডাক্ট’ (বিসিসি) হয়ে গেছে। তারা যা বলছে তাই করছে।’ নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে তাকে রোখা যাবে না বলেও অভিমত মমতার।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রত্যেকে ১০০ রুপি করে দিয়ে একটা তহবিল তৈরি করা হবে। সেই তহবিল থেকে ওই পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা করা হবে।’

কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই রবিবার সকালে টুইটও করেন মমতা। তিনি লেখেন, ‘নির্বাচন কমিশনের উচিত ‘মডেল কোড অব কনডাক্ট’ এর নাম বদল করে ‘মোদি কোড অব কনডাক্ট’ রাখা। বিজেপি সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও আমার মানুষের পাশে থাকা ও তাদের বেদনা ভাগ করে নিতে চাওয়া আটকাতে পারবে না। ওরা হয়তো আগামী তিন দিন কোচবিহারের ভাই-বোনেদের কাছে আমার যাওয়া আটকাতে পারবে কিন্তু আমি চতুর্থ দিন সেখানে যাবো?’

পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনের জন্য আট দফায় ভোট নেওয়া হচ্ছে। পঞ্চম দফায় আগামী ১৭ এপ্রিল ৪৫টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। শেষ দফার ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ এপ্রিল। গণনা আগামী ২ মে। পশ্চিমবঙ্গের সাথেই অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পডুচেরিতেও বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হবে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই