৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:৪৪

অবশেষে দেশে ফিরে যাচ্ছে সেই বাংলাদেশি দম্পতি

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

অবশেষে দেশে ফিরে যাচ্ছে সেই বাংলাদেশি দম্পতি

ভারতের মহারাষ্ট্রের ফরসখানা পুলিশ থানায় আদালতের নির্দেশে প্রায় আড়াই মাস অবস্থান করছিলেন এক বাংলাদেশি দম্পতি। সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় নথি তৈরি না হওয়ার কারণে দেশে ফিরতে পারছিলেন না তারা। অবশেষে গতকাল রবিবার সকালে পুণে থেকে তাদের দেশের উদ্দেশ্যে ফেরত পাঠানো হল। 

কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে আসে বাংলাদেশি দম্পতি ৩১ বছর বয়সী মহম্মদ জুনাব মন্ডল এবং তার স্ত্রী ২৮ বছর বয়সী মাজিদা মন্ডল।

ভারতের মুম্বাইতে ওই দম্পতি পা রাখার পরই মাজিদাকে পুণের বুধওয়ার পেথ নামক একটি নিষিদ্ধপল্লী এলাকায় একটি ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে এমনকি পতিতাবৃত্তি পেশায় যোগ দিতে চাপ দিতে থাকে তাদের ভারতে নিয়ে আসা দালাল। যদিও সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন ওই বাংলাদেশি নারী। আর সেই ক্ষোভ থেকেই ওই বাংলাদেশি দম্পতিকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিতে থাকে অভিযুক্ত দালাল। 

যদিও এরই মধ্যে পুণের ফরাসখানা থানার পুলিশ ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে ও পরে আটক করে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইন ও ১৪ ফরেনার্স আইনে মামলা হয়। এরপর আদালতের নির্দেশে প্রায় দুই বছর তিন মাস পুণের ইয়েরওয়াড়া জেলে (সংশোধনাগার) কাটাতে হয় ওই দম্পতিকে।

গত জুন মাসে কারাগারে সাজার মেয়াদ শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের পুণের ফরসখানা থানায় নিয়ে আসা হয় এবং তখন থেকেই প্রায় ৮০ দিন ধরে ওই থানাতেই অবস্থান করছিলেন ওই বাংলাদেশি দম্পতি। 

থানায় অবস্থানকালীন সময়ে তাদের প্রতিদিনের সমস্ত খরচ বহন করছিল থানা কর্তৃপক্ষ। এমনকি দেশে সন্তানদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলা, থানা চত্বরে নিয়মিত নামাজ আদায় এমনকি গত ঈদে ওই বাংলাদেশি দম্পতির নতুন পোশাক কিনে দেওয়া- যাবতীয় ব্যবস্থা করেছিল ফরসখানা থানা কর্তৃপক্ষ। যদিও এই সময়কালে ওই বাংলাদেশি দম্পতিকে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে যাবতীয় উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল ফরসখানা থানা কর্তৃপক্ষ। 

অবশেষে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের তরফে ওই দম্পতির নাগরিকত্ব পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদের ‘এমারজেন্সি ট্রাভেল সার্টিফিকেট’ (ইটিসি) দেওয়া হয়, এরপরই রবিবার পুণে থেকে কলকাতা হয়ে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। 

এ ব্যাপারে ফরাসখানা থানার ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র ল্যান্ডেজ জানান, 'খুলনার বাসিন্দা ওই বাংলাদেশি দম্পতির নাগরিকত্ব পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত শুক্রবার বাংলাদেশ হাইকমিশন তাদের ইটিসি অনুমোদন করে। এরপর রবিবার সকালের দিকে বাংলাদেশি দম্পতির প্রত্যাপর্ণের যাবতীয় নথিসহ তাদের মুম্বাই থেকে কলকাতা যাওয়ার ট্রেনে উঠিয়ে দেওয়া হয়। মুম্বাই থেকে কলকাতা হয়ে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত ওই বাংলাদেশি দম্পতির যাতে কোন জটিলতায় না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রেখে পুণে পুলিশের দুই সদস্যের একটি টিমও তাদের সাথে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্তে এসে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে ওই বাংলাদেশি দম্পতিকে হস্তান্তর করেই ফের পুণের পুলিশ কর্মকর্তারা ফের ফিরে যাবেন।' 


বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর